?> যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিনি নিহত | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

তীব্র বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিনি নিহত

প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিনি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় শহরজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সশস্ত্র ফেডারেল বাহিনী দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নেতারা।

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তিনি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। নিহত ব্যক্তির বাবা-মা তাকে অ্যালেক্স প্রেট্টি হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তিনি একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টসহ (আইসিই) বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এসব অভিযানের মধ্যেই এই গুলির ঘটনা ঘটে।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুড নামে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই শহরটিতে প্রতিদিন বিক্ষোভ চলছিল। গত সপ্তাহে আলাদা আরেক ঘটনায় মিনিয়াপোলিসে এক ভেনেজুয়েলান নাগরিকও ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আহত হন।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ সেন্ট পল শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিষয়টি বহু আগেই কেবল অভিবাসন প্রয়োগের সীমা ছাড়িয়েছে। তার কথায়, এটি এখন অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে সংগঠিত নিষ্ঠুরতার এক অভিযান। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত মিনেসোটা কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, একজন ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট একজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেন। ওই ব্যক্তি একটি হ্যান্ডগান বহন করছিলেন এবং অস্ত্র নামাতে বাধা দিচ্ছিলেন। বিভাগের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সহিংসভাবে প্রতিরোধ করায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেকে আক্রমণ করে বলেন, তারা উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক বক্তব্য দিয়ে বিদ্রোহে প্ররোচনা দিচ্ছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, আইসিই কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে স্থানীয় পুলিশকে কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নের জবাব দেওয়া দরকার।

আসলে কী ঘটেছিল?

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যালেক্স প্রেট্টি রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের মোবাইল ফোনে ফেডারেল এজেন্টদের ছবি তুলছিলেন। একপর্যায়ে এক এজেন্ট পিপার স্প্রে ব্যবহার করলে প্রেট্টি তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করেন। এরপর একাধিক এজেন্ট তাকে মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে আঘাত করতে থাকে। মাটিতে ধরে রাখার সময় এক এজেন্ট অস্ত্র বের করেন এবং একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে প্রেট্টির নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তদন্তকারী সংস্থা বেলিংক্যাট জানায়, ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রথম গুলির আগে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের দাবি, অন্তত দুইজন এজেন্ট গুলি চালান এবং মোট ১০টির বেশি গুলির শব্দ শোনা যায়। বেশিরভাগ গুলিই প্রেট্টি মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকার সময় ছোড়া হয়।

পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেন, নিহত ব্যক্তি বৈধভাবে অস্ত্র বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিনেসোটায় অনুমতি থাকলে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা আইনসম্মত।

তীব্র হয়েছে বিক্ষোভে

ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসের ওই এলাকায় কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল এজেন্টদের লক্ষ্য করে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এজেন্টরা কাঁদানে গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করেন।

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, ছয়জনের বেশি মুখোশধারী এজেন্ট একজন বাসিন্দাকে মারধর করে গুলি করে হত্যা করেছেন—এমন ভিডিও তিনি নিজেই দেখেছেন। তার প্রশ্ন, আর কতজন মার্কিন নাগরিকের প্রাণ গেলে এই অভিযান বন্ধ হবে?

ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে এখনই মিনেসোটা থেকে আইসিই প্রত্যাহার করতে হবে। কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর এই হত্যাকাণ্ডকে ‘একটি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড’ বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, ট্রাম্প মিনিয়াপোলিসকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছেন।

ঘটনার পর গভর্নর টিম ওয়ালজ জানান, তিনি হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। মিনিয়াপোলিস সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে চান জেলেনস্কি, দাবি ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে চান জেলেনস্কি, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে তার দেশের যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী। সম্প্রতি প্যারিসে ট্রাম্প এবং জেলেনস্কির মধ্যে সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানেই জেলেনস্কি ট্রাম্পকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। খবর এএফপির।

এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শনিবার এলিসি প্রাসাদে জেলেনস্কি এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ত্রিমুখী আলোচনার আয়োজন করেছিলেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার প্রায় তিন বছর চলছে। অপরদিকে আগামী জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ট্রাম্প।

নিজের ট্রুথ সোস্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, এই পাগলামি বন্ধ করতে জেলেনস্কি এবং ইউক্রেন একটি চুক্তি করতে চায়।

ট্রাম্প বলেন, এখানে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত এবং আলোচনা শুরু করা উচিত। অকারণে অনেক জীবন নষ্ট হচ্ছে, অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যদি এটা চলতে থাকে তবে এটা আরও বড় এবং আরও খারাপ কিছুতে পরিণত হতে পারে।

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তাছাড়া শীতের শুরুতে হামলা জোরালো করেছে মস্কো।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় শহর ক্রিভি রিহতেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। স্থানীয় গর্ভনর জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।

সেখানের জরুরি সার্ভিস জানিয়েছে, ১৬ জন আহতের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। তাছাড়া নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলেও জানানো হয়েছে।


নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেন ট্রাম্প

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেন ট্রাম্প

ইসরায়েলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থি লিকুদ পার্টি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক হামলায় অংশ নেওয়ার জন্যও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কৃতিত্ব দেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সপ্তম মাসে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিও চাপে পড়েছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেন, ইসরায়েলের ভেতর থেকেও বিরোধিতার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। এত বাধা সত্ত্বেও তিনি শক্তিশালী, সাহসী ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। কঠিন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেও নেতানিয়াহু আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েলের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু যাতে আবারও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, সে জন্য তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই সমর্থন নেতানিয়াহু বা তার দলের নির্বাচনী অবস্থান কতটা শক্তিশালী করবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। ইসরায়েলে সরাসরি জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন না। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই হবে ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই হামলার পর ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে। পরে লেবানন ও ইরানকে ঘিরেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলে।

এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করতে পারে, ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটময় সময় পার করে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় টিকে থাকবেন, নাকি মধ্যপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে পরাজিত হবেন। বিরোধী নেতারা ক্ষমতায় এলে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরুর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের সমর্থনের জন্য নেতানিয়াহুও দ্রুত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘প্রিয় বন্ধু ডোনাল্ড’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে লেখেন, ‘একসঙ্গে আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করব।

সূত্র: রয়টার্স


বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, পরপর আটক বিরোধী সাংসদরা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, পরপর আটক বিরোধী সাংসদরা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের সাংসদরা। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ‘নির্বাচন সদন’-এর দিকে মিছিল বের করেন তারা।

মিছিলে বিরোধী সাংসদদের হাতে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানোর দাবিও জানান বিরোধীরা।

নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পথে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। পরে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তার সঙ্গে অবস্থানে যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক সাংসদ।

বিক্ষোভে অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচি আগেই নির্ধারণ করেছিল ইন্ডিয়া ব্লক। গত সপ্তাহে জোটের বৈঠকের পর থেকেই এ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল।

বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে এনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো।

এদিকে মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া ব্লকের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি (এএপি) অংশ নেয়নি বলে জানা গেছে।

বিরোধীদের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। ব্যারিকেড দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখে নিরাপত্তা বাহিনী।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে রাহুল গান্ধীকে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। কয়েকজন সাংসদও ব্যারিকেডের ওপর উঠে স্লোগান দেন। সমাজবাদী পার্টির কয়েকজন সাংসদ ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় একের পর এক বিরোধী সাংসদকে আটক করে পুলিশ। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কেসি বেনুগোপালকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ।

সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাজীব রাই অভিযোগ করেন, ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা প্রায় ১৫ হাজার ভোটারের তথ্য তিনি জমা দিয়েছেন।