?> আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ? | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

আল-আকসা মসজিদ
আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ১১ অক্টোবর ২০২৩

আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মক্কা ও মদিনার পর জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদকে ইসলামের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর ফিলিস্তিন এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মুসলিম আসেন এই মসজিদ প্রাঙ্গণে। মসজিদটি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।

গত কয়েক বছর ধরে আল আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।কিন্তু এই এলাকাটি এত স্পর্শকাতর কেন? এর জন্য ফিরে তাকাতে হবে এর ইতিহাসের দিকে।

আল আকসা চত্বরে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্থাপনা। যার কোনটি মুসলমানের জন্য, কোনটি ইহুদিদের জন্য আবার কোনটি খ্রিস্টানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর সবগুলো্ স্থাপনার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তিনটি ধর্মের ইতিহাস।

আল আকসা কোথায় অবস্থিত?

১৪ হেক্টর এলাকাজুড়ে অবস্থিত আল -আকসা প্রাঙ্গণে রয়েছে আল-আকসা মসজিদ, যা কিবলি মসজিদ নামেও পরিচিত। এছাড়াও আছে সোনালী গম্বুজবিশিষ্ট ‘ডোম অফ দ্য রক’, যা জেরুসালেমের সবচেয়ে স্বীকৃত একটি ল্যান্ডমার্ক এবং এই দুটিই পবিত্র হিসেবে বিবেচিত।

পূর্ব জেরুসালেমের পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত আল-আকসা মুসলিমদের কাছে ‘হারাম আল-শরীফ’ নামে পরিচিত এবং ইহুদিদের কাছে পরিচিত ‘টেম্পল মাউন্ট’ হিসেবে। এখানে ১৫টি গেট ছিল, যেদিক দিয়ে ময়দানে প্রবেশ করতো জেরুজালেমের ওল্ড সিটি থেকে আসা ধর্মানুরাগীরা ।

যদিও এই গেটের মাত্র ১০টি এখন ব্যবহৃত হয় এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ইসরায়েলি সেনা ও পুলিশ।

আল-আকসায় প্রথম ছোট একটি মসজিদ নির্মাণ করেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর, পরে ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে এখানে প্রথম বড় আকারে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। দু'দফা ভুমিকম্পে দুবার ধ্বংস হয়ে গেলে তা পরে পুন:নির্মাণ করা হয়। কয়েকবার সংস্কার কাজও করা হয়। জেরুসালেমের ওল্ড সিটির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত আল-আকসার ‘ডোম অফ দ্য রক’ শহর জুড়ে দৃশ্যমান। বাইরের দেয়ালসহ এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার বর্গমিটারের এই সীমানায় রয়েছে মসজিদ, নামাজের ঘর, উঠান ও ধর্মীয় বিভিন্ন স্থাপনা।

আল আকসা অর্থ কী?

আরবি ভাষায়, আল-আকসার দুটি অর্থ রয়েছে: ‘সবচেয়ে দূর’, যা মক্কা থেকে এর দূরত্বকে বোঝায়। ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কুরআনে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ‘সর্বোচ্চ’ হিসেবেও মুসলিমদের কাছে এর মর্যাদা ও গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আল আকসা মসজিদটি 'মসজিদুল আকসা' বা 'বাইতুল মুকাদ্দাস' নামে পরিচিত মুসলিমদের কাছে।

মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, নবী মুহাম্মদ মিরাজের রাতে কাবা শরিফ থেকে প্রথমে আল আকসায় এসেছিলেন এবং মিরাজে গমনের আগে এখানে সব নবীদের সঙ্গে নামাজের সময় ইমাম হিসেবে নামাজ আদায় করেন।

আল আকসা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই প্রাঙ্গণের যেমন ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের সংস্কৃতি ও জাতীয়তার প্রতীকও এটি। সোনালী গম্বুজের ‘ডোম অফ দ্য রক’ সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে স্বীকৃত এবং এই স্থানে প্রার্থনা করতে আসতে পারা একটি বড় সুযোগ বলে মনে করেন মুসলিমরা।

বর্তমান সীমানাগুলো তৈরি হবার আগের বছরগুলোতে, সেই পুরনো আমলে মুসল্লিরা পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেও সেই সফরে জেরুসালেমকেও অন্তর্ভুক্ত করতেন ।

আল-আকসার বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণ এখনও হাজার হাজার ধর্মানুরাগীকে আকৃষ্ট করে, যারা প্রতি শুক্রবার জামাতে নামাজের জন্য জড়ো হন।

আল-আকসা প্রাচীনতম মসজিদগুলোর একটি। মিরাজের রাতে এই মসজিদেই নামাজ আদায় করেছিলেন নবী মুহাম্মদ (সা:)। মক্কায় হজ ও ওমরা পালনের আগে আল আকসা ছিল মুসলিমদের কাছে প্রধান ধর্মীয় স্থান।

ইহুদিরা বিশ্বাস করে, ‘টেম্পল মাউন্টেই’ তাদের পয়গম্বর আব্রাহাম তার পুত্র ইসমাইলকে উৎসর্গ করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। এখানে উল্লেখ্য ইহুদিদের পয়গম্বর আব্রাহাম ইসলাম ধর্মে নবী ইব্রাহিম হিসেবে পরিচিত।

ইহুদিরা বিশ্বাস করে, এখানেই ছিল ইহুদিদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র উপাসনালয়। তারা মনে করে, তিন হাজার বছর আগে রাজা সোলেমান এখানে প্রথম উপাসনালয় নির্মাণ করেছিল। যেটি ধ্বংস করেছিল ব্যাবিলনীয়রা।

আর দ্বিতীয় উপাসনালয়টি ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমান বাহিনী ধ্বংস করে দেয়। এখানে একটি খ্রিস্টান ব্যাসিলিকাও ছিল যা একই সাথে ধ্বংস হয়। সেই উপাসনালয়ের শুধুমাত্র পশ্চিম দিকের দেয়ালটিই এখনো টিকে আছে এবং এটিই ইহুদিদের প্রার্থনার স্থান।

ইহুদিদের মতে, আল আকসায় ‘ফাউন্ডেশন স্টোন’ বা বিশ্বের ‘ভিত্তি পাথর’ এর অবস্থান। যেখান থেকে বিশ্বের সৃষ্টি শুরু হয়েছিল বলে তারা বিশ্বাস করে।

অন্যদিকে খ্রিস্টানরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে এটাই সেই জায়গা যেখানে যীশু খ্রিস্ট ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন আর এখানকার গুহাতেই তার দেহ রাখা হয়েছিল।

ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম ও পশ্চিমতীর দখল করে নেবার আগে এটি নিয়ন্ত্রণ করতো জর্ডান। এখন পূর্ব জেরুজালেম ইসরায়েল অধিকৃত হলেও আল-আকসা বা টেম্পল মাউন্ট এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করে জর্ডান-ফিলিস্তিনের একটি ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান।

‘ডোম অফ দ্য রক’

জেরুজালেমের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ল্যান্ডমার্ক রয়েছে আল আকসায় এবং ইসলামিক যুগের প্রারম্ভিক পর্যায়ের ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে এই প্রাঙ্গণে।

ধর্মীয় ভবন, বিভিন্ন ধরনের গম্বুজ, মিনার, স্তম্ভের ঐতিহাসিক কাঠামো ছাড়াও রয়েছে ৩০টি পানির উৎস, যার মধ্যে অজু করার জন্য ব্যবহৃত কূপও রয়েছে।

ইসলামি স্থাপত্যের প্রাচীন নমুনার দেখা মেলে আল আকসায়। আল আকসার দেয়ালের অভ্যন্তরে রয়েছে মিম্বার। এবং মামলুক ও আইয়ুবী যুগের ঐতিহাসিক বিদ্যালয়ের নিদর্শনও আছে এখানে।

আরবি ভাষায়, ‘ডোম অফ দ্য রক’কে ‘কুব্বাত আল-সাখরা’ বলা হয় যেটি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

মক্কার আগে মুসলিমরা এই স্থানকে কিবলা হিসেবে ব্যবহার করতেন অর্থাৎ এর দিকে ফিরেই নামাজ পড়তেন তারা।

উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নির্দেশে ৬৯২ খ্রিস্টাব্দে তৈরি হয় অষ্টকোণ বিশিষ্ট এই স্থাপনা ‘ডোম অফ দ্য রক’।

'হারাম আল শরীফ' বা 'টেম্পল মাউন্টের' উপর অবস্থিত সোনালী গম্বুজটি ইসলামী স্থাপত্যের অন্যতম একটি নিদর্শন।

এর মধ্যখানে রয়েছে একটি পাথর, যাকে কেন্দ্র করেই এই স্থাপনা নির্মিত। এজন্যই একে বলে 'কুব্বাত আল-সাখরা’ বা ডোম অফ দ্য রক (পাথরের গম্বুজ)।

ইহুদিদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই পাথর হলো ফাউন্ডেশন স্টোন যা মহাবিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু। আর ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী ‘ডোম অফ দ্য রকের’ ভেতরে রয়েছে সেই পাথর- যেখান থেকে ইসলামের নবী মুহাম্মদ মিরাজে গিয়েছিলেন (ঊর্ধ্বাকাশে গিয়েছিলেন) বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন।

ওয়েস্টার্ন ওয়াল

আল-আকসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন ওয়াল, যা আল-বুরাক প্রাচীর নামেও পরিচিত।

মরোক্কোন গেট ও প্রফেট গেট বা বাব আল নাবি গেটের মাঝখানে রয়েছে প্রাচীরটি এবং এই এলাকায় একটি ছোট মসজিদও রয়েছে যা বুরাক মসজিদ নামে পরিচিত, যেটা ১৩০৭ থেকে ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল।

প্রায় ২০ মিটার লম্বা ও ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের প্রাচীরটি নিয়ে মুসলিমদের বিশ্বাস হলো -নবী মুহাম্মদ মিরাজে যাবার আগে আল-বুরাক নামে পরিচিত একটি ডানাওয়ালা ঘোড়ার মতো প্রাণীকে বেঁধে রেখেছিলেন এখানে।

অন্যদিকে টেম্পল মাউন্টকে ঘিরে থাকা ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ ইহুদিদের কাছে ‘পৃথিবীর ভিত্তিপ্রস্তর’ হিসেবে স্বীকৃত ও পবিত্র স্থান। চুনাপাথর দিয়ে বানানো প্রাচীন এই দেয়ালটি 'প্লেস অফ উইপিং' বা 'কান্নার জায়গা' নামেও পরিচিত।

ইহুদিরা বিশ্বাস করে যে এটি হেরোডিয়ান উপাসনালয়ের শেষ অবশিষ্ট কাঠামো, যা রাজা হেরোড দ্য গ্রেটের সময় ২০৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্প্রসারিত হয়। রোমানরা ৭০ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস করেছিল এটা।

প্রতি বছর, কয়েক হাজার ইহুদি ওয়েস্টার্ন ওয়ালে জড়ো হন এবং এই দেয়ালটি ধরে প্রার্থনা করেন ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা। দেয়ালের ফাঁক ফোকরে দেখা যাবে অসংখ্য টুকরো টুকরো কাগজ গুঁজে রাখা। সেগুলোর মধ্যে লেখা থাকে এখানে আসা মানুষজনের প্রার্থনা। তারা বিশ্বাস করে এই প্রাচীর হলো সেই জায়গা যেখানে ঈশ্বর সবসময় উপস্থিত থাকেন।

আল কিবলি মসজিদ

আল আকসা মসজিদ কোনও একক মসজিদ নয়। আল আকসা মসজিদ মানে- কিবলি মসজিদ, মারওয়ানি মসজিদ (কুব্বাত-আল-সাখরা) ও বুরাক মসজিদের সমন্বয়।

রূপালি-গম্বুজ বিশিষ্ট আল কিবলি মসজিদটি আল-আকসার দক্ষিণ প্রাচীরের দিকে রয়েছে এবং এটি এই প্রাঙ্গণে মুসলমানদের নির্মিত প্রথম ভবন। এটা এখানকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি এবং এখানে মুসল্লিরা নামাজ পড়েন একজন ইমামের নেতৃত্বে।

মুসলমানরা ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে যখন জেরুজালেমে প্রবেশ করে, তখন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর বিন আল-খাত্তাব এবং তার সঙ্গীরা মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন। তখন কিন্তু এলাকাটি অবহেলিত ছিল।

এটা প্রথমে একটা সাধারণ ভবন ছিল, কাঠের গুঁড়ির ওপর ভিত্তি করে যেটার কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মসজিটির যে কাঠামো দেখা যায় তা প্রথম নির্মিত হয়েছিল উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ানের আমলে অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে।

বেশ কয়েকবার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মসজিদটি, যা পরে পুনঃনির্মাণ করা হয়। কয়েকবার সংস্কার কাজও করা হয়। এর শেষ সংস্কার কাজটি হয়েছিল অটোমান আমলে, সে সময়ে সুলতান সুলেমান মসজিদ প্রাঙ্গণের বেশ কয়েকটি সাইট পুনরুদ্ধার করেছিলেন এবং সেখানে কার্পেট ও নানা ধরনের লণ্ঠন স্থাপন করেছিলেন।

বর্তমানে আল-কিবলি মসজিদের নয়টি প্রবেশপথ রয়েছে। পাথর ও মার্বেলযুক্ত স্তম্ভের কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি। পাথরের স্তম্ভগুলো প্রাচীন, বিশ শতকের গোড়ার দিকে যে সংস্কার কাজ হয়েছিল তখন মার্বেলগুলো যুক্ত করা হয়।

আশি মিটার দৈর্ঘ্য ও ৫৫ মিটার প্রস্থের এই মসজিদটিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

ফিলিস্তিনিদের কাছে গুরুত্ব

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের চেয়েও আল আকসাকে সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র মনে করেন ফিলিস্তিনিরা। যেখানে তারা জমায়েত হয়ে আনন্দ উদযাপন করতে পারেন বা শোক করতে পারেন।

অনেক ফিলিস্তিনি ছোটবেলা থেকে মসজিদে নিয়মিত আসেন এবং তাদের কাছে আল আকসা দেশের সবচেয়ে স্বীকৃত প্রতীক।

রমজান মাসে অনেকেই মসজিদে আসেন রোজা ভাঙার জন্য এবং শুক্রবার এখানে নামাজ আদায় করেন। যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর বিধিনিষেধের ওপর নির্ভর করে ফিলিস্তিনিদের আসা যাওয়া।

মসজিদটির প্রতি ফিলিস্তিনিদের যে ভক্তি ও আনুগত্য সেটাকে হুমকি হিসেবে মনে করে ইহুদি কট্টরপন্থীরা যারা এই জায়গায় থার্ড টেম্পল বা ইহুদিদের তৃতীয় উপাসনালয় তৈরি করতে চায়।

ফিলিস্তিনিদের প্রথম জাদুঘর, ‘ইসলামিক মিউজিয়াম’ এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৩ সালে, যেখানে বিরল প্রত্নতাত্ত্বিক ও শৈল্পিক নিদর্শন রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে কুরআনের পাণ্ডুলিপিও।

সহিংসতার কেন্দ্র আল আকসা কেন?

আল আকসা প্রাঙ্গণটি মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান- তিন ধর্মের মানুষের কাছেই পবিত্র স্থান। যুগ যুগ ধরে এই এলাকা ঘিরেই চলছে বিবাদ। বলা যায় ঐতিহাসিকভাবে এটি বিবাদের ইস্যু।

ইসরায়েলি সরকারের সাথে সমঝোতা অনুযায়ী নানা বিধিনিষেধ ও শর্তপূরণের মাধ্যমে - শুধুমাত্র মুসলিমরাই আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে প্রার্থনা করতে পারেন।

অন্যদিকে খ্রিস্টান ও ইহুদিরা আল আকসায় শুধু পর্যটক হিসেবে প্রবেশ করতে পারবেন। সপ্তাহে পাঁচ দিন তাদের জন্য আল আকসা খোলা এবং দিনে চার ঘণ্টা সময় পাবেন ওই এলাকা ঘুরে দেখার জন্য।

জেরুসালেমে ধর্ম ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে আল আকসা প্রাঙ্গণ সংঘর্ষ- সহিংসতার একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ইহুদি দর্শনার্থীরা নিয়ম অমান্য করে আল আকসায় প্রার্থনা করেছে, কেউ প্রকাশ্যে কেউবা মুসলিমের বেশে। নানান সময়ে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় বিক্ষোভ সংঘর্ষ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

আল-আকসায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারনের এক বিতর্কিত সফরকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় 'ইন্তিফাদা' বা গণঅভ্যুত্থান - যাতে ৪ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

সম্প্রতি আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি পুলিশের সাথে ফিলিস্তিনিদের আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। ফিলিস্তিনে সর্বশেষ এই সহিংসতার ঘটনা এমন সময়ে ঘটে যখন মুসলিমরা রমজান মাস এবং ইহুদিরা পাসওভার হলিডে পালন করছিল।

ইহুদি চরমপন্থীরা তাদের পাসওভার দিবস উপলক্ষে সেখানে একটি ছাগল জবাই করতে পারে - এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়লে মুসল্লিরা রমজানের নামাজের পর সেখানে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে।

খ্রিস্ট ধর্মের শুরুর দিকে এবং রোমানরা ওই স্থানে ইহুদিদের টেম্পল ধ্বংস করে দেওয়ার আগে ইহুদিরা সেখানে ছাগল জবাই করতো।

দুই হাজার বাইশ সালের এপ্রিল মাসেও আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ইসরায়েলি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ইসরায়েলি পুলিশ তখন জানিয়েছিল শুক্রবার নামাজের পর মসজিদ চত্বর থেকে ফিলিস্তিনিরা ইহুদিদের প্রার্থনার স্থান ওয়েস্টার্ন ওয়ালের দিকে পটকা ও পাথর ছুঁড়ে মারার পর পুলিশ আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এমন সময়ে ওই সংঘাতের ঘটনা ঘটে যখন মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাস, ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ‘পাসওভার ডে’ ও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার একই সাথে পালিত হচ্ছিল।

নয়দিনব্যাপী চলা 'পাসওভার' উৎসবের সময় আল আকসায় ইহুদিদের প্রবেশ অনেক বেড়ে যায়।

এই সময় এমনিতেই আল আকসা প্রাঙ্গণে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করে।

এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে সহিংসতার পর হামাস জেরুজালেমকে লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ে এবং তার জের ধরে ইসরায়েলের সাথে সংঘাত শুরু হয় যা ১১ দিন ধরে অব্যাহত থাকে।

এই জায়গাটি এতই স্পর্শকাতর যে এখানে কোনও সহিংস ঘটনা শেষ পর্যন্ত আরো একটি ইন্তিফাদা ডেকে আনবে কিনা - এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেন না।

আবারও ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

আবারও ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের হামলা

বার্তাবেলা ডেস্ক: ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। পেন্টাগন বলছে, সোমবার আটটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ভূগর্ভস্থ একটি গুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নজরদারির স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট দিয়ে যাতায়াতকারী ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য বলছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ প্রবাহ রক্ষা করার চেষ্টা করছে তারা। পেন্টাগনের জারি করা একটি যৌথ বিবৃতিতে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের লক্ষ্য লোহিত সাগরে উত্তেজনা হ্রাস করা এবং স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা। ওই অঞ্চলে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ রক্ষা করার বিষয়ে আমরা দ্বিধা করব না।

গত ১১ জানুয়ারি হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো যৌথ অভিযানে অংশ নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

দুদেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডসের সমর্থনে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইউএসএস আইজেনহাওয়ারের মার্কিন যুদ্ধবিমান সোমবারের হামলায় অংশ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) জানিয়েছে, তাদের জোড়া ভয়েজার ট্যাঙ্কারের সহায়তায় চারটি আরএএফ টাইফুন মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে হামলায় অংশ নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্র্যান্ট শ্যাপস হুথিদের অসহনীয় আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা হিসাবে এই হামলাকে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং এর কাছাকাছি অবস্থিত আল দাইলামি বিমান ঘাঁটি, তাইজ এবং বায়দা প্রদেশে হামলা চালানো হয়েছে।


পশ্চিমবঙ্গে
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলো না কোনো মুসলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলো না কোনো মুসলিম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম কোনো মুসলিম প্রতিনিধি ছাড়া সরকার গঠিত হয়েছে। সোমবার (২ জুন) ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনে একজন মুসলিম প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি। দলের কিছু শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, সংখ্যালঘু ভোট তাদের প্রয়োজন নেই। যদিও সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিধায়ক না হয়েও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, যদি তিনি ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত হন।

সোমবারের এ ঘটনায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে সংখ্যালঘুবিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রীও হবেন একজন অ-সংখ্যালঘু। কারণ, ৪১ জন মন্ত্রীর সবাই হিন্দু। মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন বুধবার হওয়ার কথা। সোমবার ১৩ জন মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ২২ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এদের মধ্যে তিনজন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। তাঁরা ৯ মে শপথ নেওয়া শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও পাঁচজন মন্ত্রিসভার সদস্যের সঙ্গে যুক্ত হলেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম। তাই রাজ্যের সরকারে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব প্রায় সব সময়ই ছিল। ব্যতিক্রম ছিল হাতে গোনা কয়েকটি সময়ের একটি, স্বাধীনতার পর গঠিত প্রথম সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ‘প্রিমিয়ার’ প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ।

এরপর, ১৯৭২ সালে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের কংগ্রেস সরকার থেকে শুরু করে গত ৫৪ বছরের প্রতিটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারেই মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম মুখ ছিল।

কলকাতাভিত্তিক এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, ‘স্বাধীনতা ও দেশভাগের অব্যবহিত পরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং তীব্র সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কারণে ১৯৫২ সালের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ থেকে এসএম ফজলুর রহমান জয়ী হওয়ার আগে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনো মুসলিম সদস্য ছিল না। বিধানচন্দ্র রায় ও প্রফুল্লচন্দ্র সেনের মন্ত্রিসভায় তিনি প্রাণিসম্পদ, মৎস্য এবং স্থানীয় স্বশাসন বিভাগের মতো দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এরপর ১৯৬০-এর দশকের অস্থির রাজনৈতিক সময়ে স্বল্পস্থায়ী সরকারগুলোর এক-দুটি ছোটখাটো ব্যতিক্রম ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সব পূর্ণাঙ্গ সরকারেই মুসলিম প্রতিনিধিত্ব ছিল। অন্তত ১৯৭২ সাল থেকে আর কোনো ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।’

ওই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ১৯৫২-৬৭ সালের কংগ্রেস সরকারে সৈয়দ কাজিম আলি মির্জা ও মোহাম্মদ রফিক, ১৯৬৭-৭১ সালের জোট আমলে মোহাম্মদ আমিন এবং ১৯৭২-৭৭ সালের সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় সরকারের এবিএ গনি খান চৌধুরী, জয়নাল আবেদিন ও আবদুস সাত্তারের উদাহরণ দেন।

বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনামলে আবদুর রাজ্জাক মোল্লা, মোহাম্মদ আমিন, আনিসুর রহমান ও মোস্তফা বিন কাসেমের মতো মুসলিম মন্ত্রী ছিলেন। একইভাবে বিধানসভার দুই স্পিকার সৈয়দ আবদুল মনসুর হাবিবুল্লাহ ও হাশিম আবদুল হালিমও ছিলেন মুসলিম।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনামলে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ আহমেদ খান, মো. গোলাম রব্বানি ও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীসহ আরও অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব এখনো সীমিত। ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় মাত্র ৭ জন নারী রয়েছেন, যা মোট সদস্যের প্রায় ১৭ শতাংশ। অগ্নিমিত্রা পল একমাত্র নারী মন্ত্রিসভার সদস্য। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন কলিতা মাজি, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, মালতী রাভা রায়, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, সুমনা সরকার এবং গার্গী ঘোষ দাস।

মন্ত্রীদের তালিকায় স্থান না পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকাও কম বিস্ময়কর নয়। বিশিষ্ট অভিনেতা-রাজনীতিক রূপা গাঙ্গুলি ও রুদ্রনীল ঘোষকে স্পষ্টভাবেই উপেক্ষা করা হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার চিকিৎসকের মায়েরও মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি, যদিও তিনি পানিহাটির বিধায়ক।

তাঁর নির্বাচনী জয়কে অনেকেই ওই হাসপাতালের ঘটনাকে ঘিরে জনরোষের প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দিল্লির দলীয় নেতৃত্ব আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে অভিজ্ঞ দলীয় নেতাদেরই অগ্রাধিকার দিয়েছে।

বিজেপি কেন কোনো মুসলিম প্রার্থী দেয়নি, সে প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী শুভময় মৈত্র বলেন, ‘মন্ত্রিসভা গঠন বিজেপির নির্বাচনী অবস্থানেরই প্রতিফলন। ভবিষ্যতে যে কোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরে চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসতে পারে। বিজেপির মধ্যেও উদারপন্থী শক্তি রয়েছে। তাই আগামী দিনে এই পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।’


মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে। মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে জড়িত হওয়ার অপরাধে তাদের এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।  

আজেল নিউজ নামে একটি সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে এসব জানানো হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।  

বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কার পবিত্র একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আব্দুল বাসির এবং সিথি আকতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করে এবং তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরবর্তীতে বিচারিক আদালত অপরাধের তীব্রতা এবং স্থান ও পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই রায় বহাল রাখেন এবং রাজকীয় ফরমান জারির মাধ্যমে দণ্ড কার্যকর করা হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সরকার নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মসজিদের পবিত্রতা নষ্টকারী ও অনৈতিক কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইসলামী আইন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।