শেয়ার বাজার

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেন ইইউ প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেন ইইউ প্রেসিডেন্ট

ক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভন ডার লেইন বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির দিকে অগ্রগতিকে আমি স্বাগত জানাই। আমাদের এমন একটি চুক্তি প্রয়োজন, যা সত্যিকার অর্থে উত্তেজনা কমাবে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং টোলমুক্ত পূর্ণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।'

তিনি আরও বলেন, 'ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না।'

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২৩ মে) দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা চুক্তি 'প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে' পৌঁছেছে এবং শিগগিরই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

ট্রাম্প জানান, এই বিষয়ে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন, যা 'খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে'। তবে ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য এই চুক্তি তাদের জন্য 'বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়' হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে সম্মত হয়নি ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬

উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে সম্মত হয়নি ইরান

ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে হস্তান্তরে সম্মত হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। রোববার (২৪ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। 

ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক ইস্যু চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তাই এটি বর্তমান সমঝোতার অংশ নয়। এছাড়া ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশ থেকে বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি। 

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২৩ মে) দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা চুক্তি 'প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে' পৌঁছেছে এবং শিগগিরই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।  

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চালু রয়েছে, তবে মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত। 


টিকটক ভিডিও দেখে ১৯ বছর পর একে অপরকে খুঁজে পেলেন যমজ বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪

টিকটক ভিডিও দেখে ১৯ বছর পর একে অপরকে খুঁজে পেলেন যমজ বোন

দুজন দেখতে হুবহু একই রকম। চোখ, কান, নাক, মুখের আদলে দুজনের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করা দুষ্কর। কারণ সম্পর্কে তারা যমজ বোন। অথচ ১৯ বছর ধরে একই শহরে থাকা সত্ত্বেও তারা কেউ কাউকে চিনতেন-ই না! হঠাৎ ভাইরাল হওয়া এক টিকটক ভিডিওর সূত্র ধরে পরিচয় হয় তাদের। সেখান থেকেই বেরিয়ে এলো পুরো সিনেমার মতো কিন্তু বাস্তব গল্প।

গল্পটার শুরু ২০০২ সালে, পূর্ব এশিয়ার দেশ জর্জিয়ায়। সে বছরের ২০ জুন আজা শোনি নামের এক নারী জর্জিয়ার কিরতিশখি গ্রামে দুটি জমজ কন্যা শিশুর জন্ম দেন। জন্মদানের পর বেশকিছু জটিলতায় কোমায় চলে যান শোনি। আর পরিবারে আরও তিনটি সন্তান থাকায় বাবা গোচ গাখারিয় জমজ বাচ্চা দুটি আলাদা দুটি পরিবারে বিক্রি করে দেন।

পরে ওই দুই শিশু অ্যামি খাভিশা ও আনো সারতানিয়া নামে বেড়ে ওঠে। বয়স যখন ১২ বছর তখন অ্যামি তার প্রিয় টিভি শো ‘জর্জিয়াস গট ট্যালেন্ট’ দেখছিলেন। সেখানে তিনি একটি মেয়েকে দেখেতে পান, যার সঙ্গে তার চেহারার হুবহু মিল রয়েছে। কিন্তু তিনি তখনও জানতেন না যে, নাচতে থাকা মেয়েটিই তার বোন। শেষমেষ ২০২১ সালে একটি টিকটক ভিডিওর সূত্র ধরে একে অপরকে খুঁজে পান দুই বোন।

২০২১ সালে অ্যামি তার চুলের রং নীল করেন ও টিকটকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেই ভিডিও আবার এক বন্ধু অ্যানোকে পাঠান ও জানতে চান যে অ্যানো চুলে নতুন রঙ করেছেন কি না। ভিডিওটি দেখে অ্যানো তার বন্ধুকে জানা, ভিডিওর মেয়েটি তিনি নন।

পরে চেহারায় হুবহু মিল থাকা মেয়েটির পরিচয় জানার জন্য অ্যানো ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করেন। এরপর অ্যামি কৌতুহলী হয়ে অপর তরুণীর প্রোফাইলে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটির নাম আনো সারতানিয়া। তিনি থাকেন ৩২০ কিলোমিটার দূরের শহর তিবিলিসিতে।

কিন্তু কোনোভাবেই কিছুতেই আনোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না অ্যামি। পরে একটি বিশ্বিবদ্যালয়ের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ভিডিওটি পোস্ট করে অ্যামি জানতে চান যে এই মেয়েটিকে কেউ চেনেন কি না। সেখানে একজন সাড়া দেন।

পরে তার মাধ্যমে যোগাযোগ হয় আনোর সঙ্গে। এভাবেই যমজ বোন পরস্পরকে খুঁজে পান। অ্যামি বলেন, তিবিলিসির রুস্তাভেলি মেট্রো স্টেশনে যখন আমাদের দেখা হলো, তখন মনে হচ্ছিল আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। যেন নিজেকেই দেখছি। একই মুখ, একই চোখ, একই নাক। এমনকি, কণ্ঠস্বর পর্যন্ত এক। আমি জড়িয়ে ধরা পছন্দ করি না। কিন্তু সেই মুহূর্তে নিজেকে আর সামলাতে পারিনি। আনোকে জড়িয়ে ধরি।

অ্যামি–আনো জানান, পরবর্তী সময়ে তারা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে তারা সত্যিই যমজ বোন। তবে তারা তাদের বাবাকে আর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেননি। তাদের দাবি, যে বাবা তার সন্তানদের বিক্রি করে দিয়েছেন, সেই বাবার সঙ্গে দেখা করা উচিত না।

তবে তারা তাদের জন্মদাত্রী মা আজার সঙ্গে লাইপজিগের একটি হোটেলে দেখা করেন। তখন আজা তাদের বলেন, অ্যামি–আনোর জন্মের পর তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে সন্তানদের খুঁজলে হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছিলেন, তার সন্তানরা জন্মের পরপরই মারা গেছে।

অ্যামি-আনোর এই ঘটনায় জর্জিয়ার একটি কলঙ্কিত দিকও বের হয়ে এসেছে। বিবিসি জানিয়েছে, জর্জিয়ায় ১৯৫০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বহু শিশু চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার পেছনে হাসপাতাল কর্মীরা ব্যাপকমাত্রায় জড়িত ছিলেন। এসব ক্ষেত্রে হতভাগা মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বলা হতো, তাদের সন্তান জন্মের পরেই মারা গেছে।

অ্যামি ও আনোর পালক মায়েরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। দত্তক নেওয়া পরিবার দুটিও জানতো না যে, অ্যামি-অ্যানো জমজ বোন ছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি


ট্রাম্প হুমকি দিলেও ইরানে হামলা চালানো যে কারণে কঠিন

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

ট্রাম্প হুমকি দিলেও ইরানে হামলা চালানো যে কারণে কঠিন

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক সহিংসতার অভিযোগে ‘সামরিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মুখে হম্বিতম্বি করলেও বাস্তবে এমন কিছু করা তার জন্য বেশ কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন কোনো সহজ সামরিক কৌশল নেই, যা ইরানের চলমান বিক্ষোভকে কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারে।

প্রস্তুতির অভাব

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সামরিক প্রস্তুতি বা বাহিনী মোতায়েন এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। বরং গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো হয়েছে, যা হামলার আশঙ্কাকে আরও দুর্বল করে।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন নেই। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর টানা প্রায় দুই বছর অঞ্চলটিতে মার্কিন রণতরী মোতায়েন ছিল। কিন্তু এখন ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিবীয় অঞ্চলে এবং ইউএসএস নিমিৎজ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানে হামলা চালাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান কিংবা সৌদি আরবের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে হবে। তবে এমন কিছু করলে ঘাঁটিগুলোও ইরানের পাল্টা আঘাতের ঝুঁকিতে পড়বে।

বিমান হামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বিকল্প হতে পারে গত জুনে ফোরদোতে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো দূরপাল্লার বি-২ বোমারু বিমানের মতো অভিযান। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন হামলা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

যদিও গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের হাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তবুও তেহরানের কাছে এখনো প্রায় দুই হাজার ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। পাহাড়ের ভেতরে লুকানো উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলো পুনর্গঠনও করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হতে পারে।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র আসলে কোথায় আঘাত হানবে। বিক্ষোভ এবং সরকারের দমন-পীড়ন সারা দেশে ছড়িয়ে থাকায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ কঠিন। ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে এবং এতে বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন না-ও আসতে পারে।

জনসমর্থন সরকারের পক্ষে

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ইরানি সরকার জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দিতে এবং নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন জড়ো করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ১৯৫৩ সালে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানসহ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ইতিহাস এই প্রচারণাকে শক্তিশালী করবে। জুনে ইসরায়েলের বড় ধরনের আঘাত সত্ত্বেও ইরানি সরকার এখনো ভেঙে পড়েনি।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক রোক্সান ফারমানফারমায়ান বলেন, ইরানে এখনো একটি সুসংগঠিত সরকার, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামো বিদ্যমান, যা যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত।

খামেনিকে সরিয়ে দিলে কী হবে?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে সরাসরি হামলার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং তা সত্ত্বেও সরকার পরিবর্তনের নিশ্চয়তা নেই। এমনকি খামেনি মারা গেলে তার উত্তরসূরির তালিকাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল গত জুনে ইরানের অন্তত ৩০ জন শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যা করলেও সরকার অটুট ছিল। ফলে সীমিত মার্কিন হামলা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে ভাঙতে পারবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। উপরন্তু, ট্রাম্প নিজেই ‘মাঠে সেনা পাঠানো’ বা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা নাকচ করেছেন।

সাইবার হামলাই কি শেষ উপায়?

এই অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিকল্প হিসেবে সাইবার হামলার কথাও উঠেছে। তবে বিদ্যুৎ বা যোগাযোগব্যবস্থায় আঘাত বেসামরিক মানুষকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এমনকি ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের মতো উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা কঠিন।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘সহায়তা আসছে’ ধরনের বক্তব্যের বিপরীতে বাস্তবতা হলো—ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত এবং ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।