শেয়ার বাজার

পশ্চিমবঙ্গে
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলো না কোনো মুসলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলো না কোনো মুসলিম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম কোনো মুসলিম প্রতিনিধি ছাড়া সরকার গঠিত হয়েছে। সোমবার (২ জুন) ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনে একজন মুসলিম প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি। দলের কিছু শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, সংখ্যালঘু ভোট তাদের প্রয়োজন নেই। যদিও সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিধায়ক না হয়েও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, যদি তিনি ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত হন।

সোমবারের এ ঘটনায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে সংখ্যালঘুবিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রীও হবেন একজন অ-সংখ্যালঘু। কারণ, ৪১ জন মন্ত্রীর সবাই হিন্দু। মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন বুধবার হওয়ার কথা। সোমবার ১৩ জন মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ২২ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এদের মধ্যে তিনজন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। তাঁরা ৯ মে শপথ নেওয়া শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও পাঁচজন মন্ত্রিসভার সদস্যের সঙ্গে যুক্ত হলেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম। তাই রাজ্যের সরকারে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব প্রায় সব সময়ই ছিল। ব্যতিক্রম ছিল হাতে গোনা কয়েকটি সময়ের একটি, স্বাধীনতার পর গঠিত প্রথম সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ‘প্রিমিয়ার’ প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ।

এরপর, ১৯৭২ সালে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের কংগ্রেস সরকার থেকে শুরু করে গত ৫৪ বছরের প্রতিটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারেই মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম মুখ ছিল।

কলকাতাভিত্তিক এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, ‘স্বাধীনতা ও দেশভাগের অব্যবহিত পরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং তীব্র সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কারণে ১৯৫২ সালের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ থেকে এসএম ফজলুর রহমান জয়ী হওয়ার আগে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনো মুসলিম সদস্য ছিল না। বিধানচন্দ্র রায় ও প্রফুল্লচন্দ্র সেনের মন্ত্রিসভায় তিনি প্রাণিসম্পদ, মৎস্য এবং স্থানীয় স্বশাসন বিভাগের মতো দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এরপর ১৯৬০-এর দশকের অস্থির রাজনৈতিক সময়ে স্বল্পস্থায়ী সরকারগুলোর এক-দুটি ছোটখাটো ব্যতিক্রম ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সব পূর্ণাঙ্গ সরকারেই মুসলিম প্রতিনিধিত্ব ছিল। অন্তত ১৯৭২ সাল থেকে আর কোনো ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।’

ওই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ১৯৫২-৬৭ সালের কংগ্রেস সরকারে সৈয়দ কাজিম আলি মির্জা ও মোহাম্মদ রফিক, ১৯৬৭-৭১ সালের জোট আমলে মোহাম্মদ আমিন এবং ১৯৭২-৭৭ সালের সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় সরকারের এবিএ গনি খান চৌধুরী, জয়নাল আবেদিন ও আবদুস সাত্তারের উদাহরণ দেন।

বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনামলে আবদুর রাজ্জাক মোল্লা, মোহাম্মদ আমিন, আনিসুর রহমান ও মোস্তফা বিন কাসেমের মতো মুসলিম মন্ত্রী ছিলেন। একইভাবে বিধানসভার দুই স্পিকার সৈয়দ আবদুল মনসুর হাবিবুল্লাহ ও হাশিম আবদুল হালিমও ছিলেন মুসলিম।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনামলে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ আহমেদ খান, মো. গোলাম রব্বানি ও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীসহ আরও অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব এখনো সীমিত। ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় মাত্র ৭ জন নারী রয়েছেন, যা মোট সদস্যের প্রায় ১৭ শতাংশ। অগ্নিমিত্রা পল একমাত্র নারী মন্ত্রিসভার সদস্য। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন কলিতা মাজি, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, মালতী রাভা রায়, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, সুমনা সরকার এবং গার্গী ঘোষ দাস।

মন্ত্রীদের তালিকায় স্থান না পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকাও কম বিস্ময়কর নয়। বিশিষ্ট অভিনেতা-রাজনীতিক রূপা গাঙ্গুলি ও রুদ্রনীল ঘোষকে স্পষ্টভাবেই উপেক্ষা করা হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার চিকিৎসকের মায়েরও মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি, যদিও তিনি পানিহাটির বিধায়ক।

তাঁর নির্বাচনী জয়কে অনেকেই ওই হাসপাতালের ঘটনাকে ঘিরে জনরোষের প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দিল্লির দলীয় নেতৃত্ব আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে অভিজ্ঞ দলীয় নেতাদেরই অগ্রাধিকার দিয়েছে।

বিজেপি কেন কোনো মুসলিম প্রার্থী দেয়নি, সে প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী শুভময় মৈত্র বলেন, ‘মন্ত্রিসভা গঠন বিজেপির নির্বাচনী অবস্থানেরই প্রতিফলন। ভবিষ্যতে যে কোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরে চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসতে পারে। বিজেপির মধ্যেও উদারপন্থী শক্তি রয়েছে। তাই আগামী দিনে এই পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।’

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা

দক্ষিণ লেবাননে বুধবার সকালে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ওই চুক্তির ঘোষণার পরপরই বুধবার সকালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার এবং নাবাতিয়েহ এলাকায় হামলা চালানো হয়।

যুদ্ধবিরতির চুক্তি ইরানসমর্থিত লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলা সংঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

এ বিষয়ে লেবানন সরকার এবং হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, চুক্তির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হিজবুল্লাহ যে কোনো চুক্তির মধ্যে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

অন্যদিকে ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করতে চায়। এরই মধ্যে ইসরায়েলি সৈন্যরা লেবাননে ঢুকেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির কিছু অংশ ইসরায়েলের দখলে চলে যেতে পারে।


গাজায় ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৪

গাজায় ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ১৩ হাজার শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া যেসব শিশুরা বেঁচে আছে তারা গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে, এমনকি এসব শিশুর কান্না করার মতো শক্তিটুকুও অবশিষ্ট নেই। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল রোববার সিবিএস নিউজ নেটওয়ার্ককে বলেন, আরও কয়েক হাজার শিশু আহত হয়েছে অথবা তারা কোথায় আছে সেটাও আমরা নির্ধারণ করতে পারছি না। অনেক শিশু এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারে... আমরা বিশ্বের অন্য কোনো সংঘাতে এত শিশুর মৃত্যু দেখিনি।

তিনি বলেন, আমি এমন শিশুদের ওয়ার্ডে গিয়েছি যারা মারাত্মক রক্তশূন্যতা ও অপুষ্টিতে ভুগছে। পুরো ওয়ার্ড একেবারেই নিস্তব্ধ। কারণ সেখানকার বাচ্চারা এতটাই দুর্বল যে, তাদের কান্না করার শক্তিটুকুও আর অবশিষ্ট নেই।

আরও পড়ুন: অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে

ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ইসরায়েলের ‘গণহত্যা’ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি দুর্ভিক্ষে পতিত হয়েছে। ফলে সেখানে মানবিক সহায়তাবাহী ট্রাকগুলোকে নিয়ে যাওয়াটা ছিল খুব বড় একটি আমলাতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ।

ফিলিস্তিন শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজায় দুই বছরের কম বয়সী প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে একজন এখন তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনে সেখানকার মানুষ দুর্ভিক্ষে পতিত হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনে বিপুল পরিমাণ হতাহত, গাজায় খাদ্য সংকট এবং এই উপত্যকায় ত্রাণ বিতরণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের বদলে রোববার মিশরের সীমান্তবর্তী শহর রাফায় স্থল অভিযানের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ওই শহরে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে।


হিজবুল্লাহ
ইসরায়েলে হামলা বন্ধের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, সিদ্ধান্ত জানালো হিজবুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

ইসরায়েলে হামলা বন্ধের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, সিদ্ধান্ত জানালো হিজবুল্লাহ

হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে বলে লেবানন সরকার জানিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ করবে এবং ইসরায়েলও লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালাবে না। যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের দূতাবাস বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই সমঝোতার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের শহর ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানো বন্ধ না করে, তাহলে বৈরুতে আবারও হামলা হতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহু ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষ গুলি ও হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে।

সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে লেবাননের দূতাবাস জানায়, এই প্রস্তাব অনুযায়ী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলা বন্ধ হবে। এর বিনিময়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে না। এ ছাড়া, যুদ্ধবিরতির এই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে পুরো লেবাননজুড়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষ যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে জানানোর পরও কিছু এলাকায় সংঘর্ষ চলতে থাকে।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের দুটি গ্রামের কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি ট্যাংক ও সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন এবং কামানের গোলা ব্যবহার করে তিনটি হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। ডেববিন শহরে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলার নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।

এ ঘটনার পর ইরানের কর্মকর্তারা একের পর এক সতর্কবার্তা দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কোনো একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে তা সব ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শামিল হবে।

এদিকে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করতে পারে। সংস্থাটি আরো বলেছে, ইরান ও তার মিত্ররা প্রয়োজনে নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় করতে পারে, যার মধ্যে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বাব আল-মান্দাব প্রণালিও রয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। তিনি আরো জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর ফলে বৈরুতে আর কোনো ইসরায়েলি সেনা পাঠানো হবে না এবং যেসব সেনা সেখানে যাওয়ার পথে ছিল, তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো দাবি করেন, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও তার ভালো আলোচনা হয়েছে। হিজবুল্লাহ নাকি সব ধরনের গুলি ও হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। একইভাবে ইসরায়েলও তাদের ওপর হামলা চালাবে না।

রবিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননে উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমানোর একটি প্রস্তাব ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কাছে তুলে ধরেছেন।

গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী দুইবার বৈরুতে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি হয় বৃহস্পতিবার। তবে আগের তুলনায় হামলার সংখ্যা কমেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউস ইসরায়েলের ওপর বৈরুতে সামরিক অভিযান সীমিত রাখার চাপ দিচ্ছে। এদিকে, ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি।