?> উত্তপ্ত ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প ‘তুমি উন্মাদ, এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে' | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প ‘তুমি উন্মাদ'
উত্তপ্ত ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প ‘তুমি উন্মাদ, এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

উত্তপ্ত ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প ‘তুমি উন্মাদ, এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে'

লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি নিয়ে এক উত্তপ্ত ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর রেগে গিয়েছিলেন বলে খবর হয়েছে।

লেবাননের ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ওই অভিযান পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল বলে সোমবার জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন।

মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ওই ফোনালাপের এক পর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘বদ্ধ পাগল’ বলে গালি দেন ও ‘অকৃতজ্ঞতার’ জন্য অভিযুক্ত করেন।

ওই ফোনালাপের বিষয়ে অবহিত এক সূত্র ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বৈরুতে আঘাত হানার ইসরায়েলি পরিকল্পনাতেও বাধা দিয়েছেন। লেবাননের রাজধানীতে বোমাবর্ষণ করার ইসরায়েলি হুমকি বিশ্বে ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে তুলবে বলেও নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেন তিনি।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে কারাগারে যাওয়া থেকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগে ইসরায়েলি নেতার বিচার চলাকালে ট্রাম্প তার প্রতি যে সমর্থন জানিয়েছিলেন এটি তার উল্লেখ।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন, “তুমি বদ্ধ উন্মাদ। আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে। আমি তোমাকে বাঁচিয়েছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এই কারণে সবাই ইসরায়েলকে ঘৃণা করে।”

সূত্র জানিয়েছেন, এক পর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর রেগে গিয়ে বলেন, “তুই কী করতাছোস?”

ফোনালাপের আগেই থেকেই ট্রাম্প জানতেন, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে আর তেল আবিবের নিজেকে রক্ষা করা দরকার। কিন্তু সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি ট্রাম্প অনুভব করছিলেন নেতানিয়াহু সামঞ্জস্যহীনভাবে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন।

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান

বৈরুতে হামলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের স্থল অভিযানেরও বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। খবরে প্রকাশ, লেবাননে সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, এমনটি জানার পর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন।

মার্কিন সূত্রগুলো অ্যাক্সিওসকে জানায়, ইসরায়েলি হামলায় বহু লেবাননি বেসামরিক নিহত হওয়া নিয়ে ট্রাম্প উদ্বিগ্ন হয়ে ছিলেন। আর হিজবুল্লাহর একজন নেতাকে হত্যার জন্য একটি পুরো ভবন উড়িয়ে দেওয়ার ইসরায়েলি পরিকল্পনায়ও আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি।

এই ফোনালাপের পর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যস্থলগুলোতে আর হামলার পরিকল্পনা করছে না ইসরায়েল।

সূর্যগ্রহণের সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যেতে পারে হাজারো মানুষ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৪

সূর্যগ্রহণের সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যেতে পারে হাজারো মানুষ!

প্রায় ৫৪ বছর পর আগামী ৮ এপ্রিল বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। সূর্যগ্রহণটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে, নাসার বিজ্ঞানীরা এই সূর্যগ্রহণকে ‘বিশেষ’ বা বিরল ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন। এর আগে ১৯৭০ সালে এমন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, আবার হতে পারে ২০৭৮ সালে। এইদিন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে দিনের বেলাতেও অন্ধকারে ঢেকে থাকবে। ফলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, এইদিন শতাধিক গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং এইসব দুর্ঘটনায় মারা যেতে পারেন সহস্রাধিক মানুষ। 

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন জানিয়েছে, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টের একদল গবেষক ২০১৭ সালের সূর্যগ্রহণের সময়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলেছেন, সূর্যগ্রহণের তিন দিন আগে এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজারেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

 গবেষকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখন প্রতিদিন গাড়ি দুর্ঘটনায় ১১৪টি মৃত্যু ঘটে। এখন থেকে সাত বছর আগে (২০১৭) সূর্যগ্রহণের সময় দৈনিক ১৮৯টি মৃত্যু ঘটেছিল। যা স্বভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত ৩১ শতাংশ বেশি।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন মতে, সূর্যগ্রহণের সময় যুক্তরাষ্ট্রে এবার প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য রাস্তায় নামবে। তারা যেসব এলাকা থেকে ভালভাবে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে সেসব এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করে।  ওই সময় চারদিকে অন্ধকার থাকায় গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 জানা গেছে, বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের কারণে ৮ এপ্রিল মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে চাঁদ। ফলে দিন হবে রাতের মতো অন্ধকার। সুর্যগ্রহণের কারণে এই রাজ্যগুলোর অনেক স্কুল ইতিমধ্যেই বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

 মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বলছে, আগামী ৮ এপ্রিল স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৭ মিনিটে মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে প্রথম সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। 


মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার ভাবনা, শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩১০০

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার ভাবনা, শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩১০০

মালয়েশিয়ায় স্বল্প বেতনভোগী শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার আগে বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো এর চেয়ে আরও বেশি মজুরি দাবি করেছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। সরকার এটি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে নতুন হার কত হবে এবং কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী আকমান নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির বলেছেন, ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার সময় জানাবেন। তবে মজুরি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এমএসএমই খাতের টিকে থাকার মধ্যে ভারসাম্য রেখে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারার সাবেক শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো কোম্পানি বিলিয়ন বিলিয়ন রিঙ্গিত মুনাফা করবে, অথচ শ্রমিকরা ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বেতন পাবেন—এটি টেকসই নয়।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা ও কোম্পানির আয় বাড়লে শ্রমিকদেরও উচ্চ মজুরির মাধ্যমে তার সুফল পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাজেটে কিছু উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

২০১৩ সালে ৯০০, এখন ১ হাজার ৭০০

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা চালু হয় ২০১৩ সালে। তখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ছিল ৯০০ রিঙ্গিত। এরপর ২০১৬ সালে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত করা হয়।

অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বেড়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের হার ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। পরে ১ আগস্ট থেকে কর্মীর সংখ্যা নির্বিশেষে দেশজুড়ে তা কার্যকর করা হয়। তবে গৃহকর্মীরা এর আওতাভুক্ত নন।

বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকরাও পাবেন সুবিধা

মালয়েশিয়ার ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশের যোগ্য বিদেশি শ্রমিকরাও স্থানীয় আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মৌলিক মজুরি পাওয়ার অধিকারী।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকরাও অন্তত ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত ন্যূনতম বেসিক বেতন পাওয়ার অধিকার রাখেন। নতুন হার ২ হাজার রিঙ্গিত হলে যোগ্য বিদেশি শ্রমিকদের বেসিক বেতনও সেই হারে বাড়বে।

মালয়েশিয়ায় প্রায় ৪ লাখ নেপালি শ্রমিক কাজ করেন। ন্যূনতম মজুরি বাড়লে তারাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি ও নেপালের কয়েকজন শ্রমিক জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবারের দাম বাড়ায় খরচ মেটানোর পর যে অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তা দেশে পাঠাতে হয়। ওভারটাইম না থাকলে সঞ্চয় করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলেও জানান তারা।

শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিত

ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার আলোচনা চললেও মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিত করার দাবি জানিয়েছে। বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের তুলনায় এই দাবি ৮২ শতাংশেরও বেশি।

ইতোমধ্যে কিছু সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ও সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মাসে ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে ‘লিভিং ওয়েজ’ বা জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে। তবে এটিকে এখনো নতুন আইনগত ন্যূনতম মজুরি হিসেবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেনি।

১ হাজার ৭০০ থেকে সরাসরি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতে মজুরি বাড়ালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে সীমিত মুনাফায় পরিচালিত ছোট ব্যবসাগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে বলে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ রয়েছে। এর প্রভাব পণ্যের দাম ও নতুন নিয়োগের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আকমান নাসির বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মজুরি বৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তার মতে, মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদনশীলতারও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

দুই বছর পরপর পর্যালোচনা

মালয়েশিয়ার আইনে অন্তত দুই বছর পরপর ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। এ সময় জাতীয় মজুরি পরামর্শ কাউন্সিলকে ন্যূনতম মজুরির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করতে হয়।

২০২৭ সালের বাজেটের প্রাক-বাজেট বিবৃতিতেও সরকারের ‘ডিসেন্ট ওয়েজ এজেন্ডা’ বা মর্যাদাপূর্ণ মজুরি কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। একই সঙ্গে সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগ কোম্পানি ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে।

মালয়েশিয়ার ১৩তম পরিকল্পনাতেও ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে উচ্চ আয় ও উচ্চ উৎপাদনশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে বিদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বেতনের ওপর মালয়েশিয়ার কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল (ইপিএফ)-এ নিয়োগকর্তা ও বিদেশি শ্রমিক উভয়কেই ২ শতাংশ করে অবদান রাখতে হচ্ছে।


বিক্ষোভে এখনও উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে রেকর্ড ১ হাজার ২৬০ জন গ্রেপ্তার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

বিক্ষোভে এখনও উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে রেকর্ড ১ হাজার ২৬০ জন গ্রেপ্তার

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে এক মাস আগে ফ্রান্সে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা এখনও অব্যাহত আছে। আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক মাসে রাজধানী প্যারিস থেকে রেকর্ড ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এই গ্রেপ্তারদের ৮৬ শতাংশই নাবালক। ফ্রান্সে এর আগে কোনো আন্দোলনে এত সংখ্যক গ্রেপ্তারের নজির নেই। এদিকে শনিবার আন্দোলনকারীরা দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফরাসি সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, সারা দেশে প্রায় ২০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, এই বিক্ষোভ এখন আর কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ‘শহুরে সহিংসতার আন্দোলনে’ রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ বেশ কিছু এলাকায় ‘সহিংসতার উসকানি দেওয়ার মতো অত্যন্ত জঘন্য আহ্বান’-এর তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন।

লেকর্নু জানান, স্কুল ভবন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনাগুলোরও সমালোচনা করেন।

শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে জানান, সরকার ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’এর মাধ্যমে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করছে এবং অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

গত কাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গ্রাদিগনান বিভাগের একটি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, তবে আপাতত আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।”

জেফ্রে আরও জানান, সরকার যে ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষক (সাবস্টিটিউট টিচার) নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, গ্রাদিকনানে যেসব উচ্চ বিদ্যালয় বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন বলে চিহ্নিত ছিল, তাদের সংখ্যা গত বৃহস্পতিবারের ১১৪টি থেকে কমে আজ ৪৭টিতে নেমে এসেছে।

“আশা করি, শরতের ছুটির পর যখন ফের স্কুলগুলোতে ক্লাস শুরু হবে, তখন কোনো হাই স্কুল আর ‘রেড জোন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকবে না”, গ্রাদিগনানে বলেছেন জেফ্রে।

এর আগে ৮ অক্টোবরের এক বৈঠকে ‘লে লিসিয়েনস!’ এবং ‘ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসিয়েন’-এর মতো শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

প্যারিসের পশ্চিমে জুই-এন-জোসা এলাকায় অবস্থিত ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইচইসি প্যারিসেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে—আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম সেখানে এমন ঘটনা ঘটল।

লিওঁ শহরের প্রশাসন বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত একটি ছাত্র বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে, আগের বিক্ষোভগুলোতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সহিংসতার ঝুঁকি ছিল।

প্যারিস, মার্সেই এবং লিওঁ শহরের বেশ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ কর্মসূচি এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্যারিস মহানগর এলাকায় ১,২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের ৮৬ শতাংশই নাবালক।

পরিস্থিতি বিষয়ক এক ​​হালনাগাদ তথ্য দিয়ে প্যারিস পুরিশ আরও জানিয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে মোট ২৮৬ জন পুলিশ ও জেন্ডার্ম (আধাসামরিক পুলিশ সদস্য) এবং শিক্ষা বিভাগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, “সহিংসতা বারবার ঘটছে এবং এর তীব্রতা বাড়ছে। গত ১৩ অক্টোবর বিক্ষোভের সময় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭১ জন সদস্য আহত হয়েছেন।”

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি হাই স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা অপর্যাপ্ত শিক্ষক, স্কুলের দীর্ঘ সময়সীমা ও ক্লাসে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্যারিসের শহরতলী এলাকার একটি হাই স্কুলে ১৭ সেপ্টেম্বর এই অস্থিরতা শুরু হয়। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অপর্যাপ্ত শিক্ষক এবং স্কুলের দীর্ঘ সময়সীমার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা ‘ক্লাস সাইজ’ নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল।