?> ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলা, নিহত ৬ | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলা, নিহত ৬

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলা, নিহত ৬

লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনি বন্দরশহর মোখায় অভিযান পরিচালনা করেছে সৌদি আরবের বিমান বাহিনী। এতে ৬ জন নিহত এবং আরও ৮ জন আহত হয়েছেন।

ইয়েমেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাবা নিউজ এজেন্সি আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “সোমবার রাতে মোখায় বোমা বর্ষণ করেছে সৌদি বিমান বাহিনী। এতে ৬ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। নিহত এবং আহতরা সবাই বেসামরিক। আহতদের মধ্যে ২ জন শিশু এবং একজন নারী আছেন।”

গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরব। ইরানের মদতপুষ্ট এই ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা এবং গোষ্ঠীটির বিভিন্ন সামরিক ও লজিস্টিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বিমান অভিযান অতিমাত্রায় বাড়িয়েছে সৌদি বিমান বাহিনী। হুথি হাইকমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর— ৭ দিনে প্রায় ৩০০টি অভিযান সৌদি বিমান বাহিনী পরিচালনা করেছে বলেও উল্লেখ করেছেন হুথি নেতারা।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধাবর সৌদি আরবের বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে হুথি বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধ্বস্ত বিমানটির ভিডিও পোস্ট করেছে গোষ্ঠীটি। এছাড়া সৌদির জ্বালানি খাতের বিভিন্ন স্থাপনাতেও সম্প্রতি বেশ কয়েক দফা হামলা করেছে হুথি বাহিনী। এতে রিয়াদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবের। ইতোমধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করেছে হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদির জন্য বড় দুঃসংবাদ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে এত দিন নিজেদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।

সূত্র : এএফপি

‘প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার’ অভিজিৎ, মুক্তি পেলেন নেহা বোরা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

‘প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার’ অভিজিৎ, মুক্তি পেলেন নেহা বোরা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কনট প্লেসে অনলাইন আন্দোলন প্ল্যাটফরম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা উত্তোলন) কর্মসূচির দিন শুক্রবার আটক সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে কে ‘প্রতিরাধমূলক’ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

তবে একই দিন একই কর্মসূচিকে ঘিরে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) প্রেসিডেন্ট নেহা বোরাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার ভোরের দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি পুলিশসূত্রে জানা গেছে,শান্তিভঙ্গ হতে পারে—এই আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১২৬ ও ১৭০ ধারার অধীনে অভিজিৎ দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আজ দিনের পরবর্তী সময়ে তাঁকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে হাজির করা হবে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারার অধীনে আটক নেহা বোরাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সিজেপি’র আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং অভিযোগ করেছেন যে, অভিজিৎ দীপকে ‘অজানা’ জায়গায় রাখা হয়েছে  এবং আইনজীবীরা এখনও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় রত্না সিং লিখেছেন, “অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে এসইএম আদালতে হাজির করা হবে। তার অবস্থান এখনও অজানা, আইনজীবীরাও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।”

'ভয় ছড়াতে অবৈধভাবে আটক করা হচ্ছে'

আটক অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা অভিযোগ করেন, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই প্রতিবাদকারীদের আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেফাজতে রাখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেহা বলেন, “এই দেশে দীর্ঘকাল ধরেই মানুষ কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই আটক হয়ে আসছেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের হেফাজতে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমরা দেখছি, বিক্ষোভকারীদের আটক করা হচ্ছে, আবার পরদিন সকাল বা সন্ধ্যায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আজ আমি নিজে এমন একটি ঘটনার সাক্ষী হলাম, যা থেকে বোঝা যায় কেন এই ধরনের বেআইনি আটক করা হয়, এর উদ্দেশ্য কী এবং কীভাবে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সঞ্চারের জন্য এগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

বোরা অভিজিৎ ডিপকে এবং আটক অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান।

“অভিজিৎকে মুক্তি দেওয়া উচিত। সে যে আটক হয়েছে, তা আমি জানতামই না। বেআইনিভাবে আটক অন্য সকল বিক্ষোভকারীকেও অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। এরা সাধারণ নাগরিক, যারা কেবল জবাবদিহিতা এবং ভোটাধিকারের দাবি জানাচ্ছেন। এই ধরনের বেআইনি আটক বা কাউকে সারা রাত থানায় আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

শুক্রবার সিজেপি এবং আইসা তাদের নেতা অভিজিৎ ডিপকে ও নেহা বোরার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, জাতীয় রাজধানীতে বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করার পর আইনজীবী বা পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

'লেহরা দো তিরঙ্গা' বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়ার পথে তাদের আটক করা হয়।

সিজেপি দাবি করেছে যে, ডিপকেকে অজ্ঞাত কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, আইসার অভিযোগ, নেহা বোরাকে মঙ্গলপুরীর 'অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স'-এর কার্যালয়ে একা আটকে রাখা হয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি লিখেছে, “দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ ডিপকেকে অজ্ঞাত কোনো স্থানে নিয়ে গেছে। তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না।”

সূত্র : এনডিটিভি


শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে সাধারণ পরিষদে শেষবারের মতো ভাষণ দিতে গিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে যুদ্ধ বন্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি মোকাবিলা, জলবায়ু সংকট এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন অ্যান্তনিও গুতেরেস। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিদায়ী ভাষণ দেন পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশকের জাতিসংঘ নেতৃত্বেরও অবসান ঘটতে যাচ্ছে তার।

বিদায়ী ভাষণে এআইয়ের বিকাশ ও ব্যবহার নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন গুতেরেস। তার বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ এআই খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

গুতেরেস বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর উচিত নিরাপত্তা ঝুঁকি-সংক্রান্ত তথ্য নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা। এআইয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি অভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা জোরদারে বিশ্বনেতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তদারকির আওতায় বহুপাক্ষিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন গুতেরেস। ২০২৩ সালে তার উদ্যোগে ৩৯ সদস্যের একটি এআইবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদ যুক্ত ছিলেন। একই বছর নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করে। সে সময় চীন প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিকশিত হতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে দমন করার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছিল।

বিদায়ী ভাষণে যুদ্ধ ও সংঘাতের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন গুতেরেস। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুতিদের অগ্রগতির কারণে নৌপথ হুমকির মুখে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, সে জন্য উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের এক দশকের মেয়াদে যেসব বিষয়ে জোর দিয়ে এসেছেন, বিদায়ী ভাষণেও সেগুলোর ওপর গুরুত্ব দেন গুতেরেস। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান, জলবায়ু সংকটে দূষণকারীদের দায় ও ক্ষতিপূরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।

এ সময় জাতিসংঘের ভেতরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংকটের কথাও উল্লেখ করেন গুতেরেস। তার ভাষ্য, সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অতীতের ক্ষমতার কাঠামো ও স্বার্থের বাস্তবতাকে ধারণ করে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকলেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেননি।

গুতেরেসের প্রায় এক দশকের নেতৃত্বে জাতিসংঘকে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এআইয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই সময়ে বিভিন্ন পরাশক্তির জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে চলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত তহবিল কমানোর মতো চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে সংস্থাটিকে।

এর মধ্যে রোববার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চলতি সপ্তাহের বৈঠকে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন নতুন এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। দুই দেশের কৌশলগত আলোচনার অংশ হিসেবে তৈরি ওই প্রস্তাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এআই-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদায়ী ভাষণের শেষ পর্যায়ে গত ১০ বছর পাশে থাকা বিশ্বনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান গুতেরেস। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে মহাসচিবের দায়িত্বে না থাকলেও শান্তি সম্ভব—এই বিশ্বাসের পক্ষে তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদের মূল মূল্যবোধের পক্ষে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছাড়বেন না।


ফের উত্তাল ভারত, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের ওপর উঠে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফের উত্তাল ভারত, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের ওপর উঠে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ভারতের পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে তীব্র বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রদর্শিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৩ যুদ্ধবিমানের ওপর উঠে এবং আরও কয়েকজন একটি সামরিক ট্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, ভোররাত প্রায় একটার দিকে ছাত্রী হোস্টেলের কাছে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর হোস্টেলে থাকা এক ছাত্রীকে এক বহিরাগত ব্যক্তি ধর্ষণ করেছেন। ওই ব্যক্তি প্লাম্বার বা নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি হোস্টেল ওয়ার্ডেনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

তবে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

বিক্ষোভের সময় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক জমায়েত ও স্লোগানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জানালার কাচ ও ফুলের টব ভাঙচুর, একটি ভবনের অংশে আগুন এবং কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের দৃশ্যও দেখা যায়। পরে শিক্ষার্থীরা জলন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ বিকল্প সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে।

কাপুরথালা জেলার পুলিশ সুপার গৌরব তুরা জানান, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসংক্রান্ত নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। পুলিশ তাদের অভিযোগ শুনেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।

জলন্ধর রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক নবীন সিংলা বলেন, ওই ছাত্রীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তের পরিচয় এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি জানান, তদন্তে ফরেনসিক পরীক্ষা, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। শিক্ষার্থী নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে। এ জন্য ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার মেজর সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের আরও কিছু দাবি রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী হোস্টেলগুলোর পুরো কর্মী কাঠামো নারী সদস্যদের দিয়ে পরিচালনার দাবিও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে এলপিইউর রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব গুজবের কোনো সত্যতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে এসব তথ্য বিশ্বাস বা ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুসরণ করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি