?> স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১ | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১

প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত ও ৭৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে কোরদোবা শহরের আদামুজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শেষ হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানায়, মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগামী ট্রেন আদামুজ এলাকার কাছে লাইনচ্যুত হয়ে পাশের আরেকটি ট্র্যাকে উঠে যায়। এরপর সেটি বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও জানিয়েছে, মালাগা থেকে যাত্রা করা যে ট্রেনটি প্রথমে লাইনচ্যুত হয়, তাতে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত অন্য ট্রেনটিতে প্রায় ১০০ যাত্রী ছিলেন।

রয়টার্সকে ইতালীয় রেল কোম্পানি ফেরোভিয়ে দেলো স্তাতোর এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনটি ছিল ফ্রেচ্চিয়া ১০০০ মডেলের, যা প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার (প্রায় ২৫০ মাইল) গতিতে চলতে পারে।

আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে মোট অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ট্রেনের প্যাঁচানো ধ্বংসাবশেষের কারণে জীবিত যাত্রী ও মৃতদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

করদোবার ফায়ার সার্ভিস প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে বলেন, কখনো কখনো কাউকে জীবিত অবস্থায় পৌঁছাতে আমাদের একজন মৃত ব্যক্তিকেও সরাতে হয়েছে। এটি খুবই কঠিন ও জটিল কাজ।

আদিফ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মালাগা ছাড়ার প্রায় ১০ মিনিট পরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ও আহতদের স্বজনদের জন্য মাদ্রিদের আতুচা, সেভিয়া, কর্দোবা, মালাগা ও হুয়েলভা স্টেশনে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ও সোমবারও তা বন্ধ থাকবে। প্রভাবিত যাত্রীদের জন্য রাতভর স্টেশনগুলো খোলা রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেন, ঘটনাটি ‘অত্যন্ত অদ্ভুত’, কারণ ট্রেনটি একটি সোজা রেলপথে লাইনচ্যুত হয়। ওই রেলপথটি গত বছরের মে মাসে সংস্কার করা হয়েছিল।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন ‘গভীর বেদনার একটি রাত’ পার করছে।

আদামুজের মেয়র রাফায়েল মোরেনো দুর্ঘটনাস্থলে প্রথম পৌঁছানো ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘দুঃস্বপ্নের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন।

স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া জানিয়েছেন, তারা ‘গভীর উদ্বেগের সঙ্গে’ দুর্ঘটনার খবর অনুসরণ করছেন। রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এক্সে জানানো হয়,আমরা নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

এদিকে, এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েনও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাক্রোঁ লেখেন, আমার চিন্তা নিহতদের, তাদের পরিবার ও পুরো স্পেনের মানুষের সঙ্গে। ফ্রান্স আপনাদের পাশে আছে।

২০১৩ সালে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের গ্যালিসিয়ায় হাইস্পিড ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছিলেন।

সৌদি বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহত ৩

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

সৌদি বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহত ৩

সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চালানো দুটি পৃথক হামলায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আভা এবং রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী না করলেও হুথি বিদ্রোহীরা আগেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। আভা বিমানবন্দর হামলায় একজন মরোক্কান ও একজন আলজেরিয়ান নাগরিক নিহত এবং ২৮ জন আহত হন, অন্যদিকে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় একজন সুদানি নাগরিক নিহত ও ৮ জন আহত হন।

গত সপ্তাহে রিয়াদকে লক্ষ্যবস্তু করার পর শহরের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেলের কোম্পানি সৌদি আরামকোর জ্বালানি ট্যাংকের সুরক্ষায় নতুন খাঁচা সদৃশ বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটিতে সাম্প্রতিক দিনে সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ বাড়ায় বিকল্প নৌ চলাচলের পথ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, রিয়াদের উত্তরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং হামলা চালাতে ব্যবহৃত সানার একটি প্ল্যাটফর্ম নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই তথ্যের সতত্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইয়েমেনের পশ্চিম লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব এল-মানদেব প্রণালীতে হুথিদের দখলে নেওয়া এলাকা পুনরুদ্ধারে সৌদি আরব ও তাদের মিত্র ইয়েমেনি বাহিনী বিমান ও স্থল অভিযান জোরদার করেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের ১২ শতাংশের যাতায়াত পথ ওই প্রণালীর আশেপাশের কিছু কৌশলগত এলাকা জোট বাহিনী পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: এপি


ইরানের প্রকাশিত সমঝোতার খসড়াকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ দাবি হোয়াইট হাউসের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

ইরানের প্রকাশিত সমঝোতার খসড়াকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ দাবি হোয়াইট হাউসের

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। খবর, সিএনএনের। 

বুধবার (২৭ মে) হোয়াইট হাউসের র‍্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট থেকে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ইরান নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদন সত্য নয় এবং তারা যে এমওইউ প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যা প্রচার করছে তা বিশ্বাস করা উচিত নয়। সত্য গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছিল, খসড়া সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশ থেকে সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের প্রচারিত নথির অনেক তথ্য বাস্তব আলোচনার সঙ্গে মেলে না। যদিও ওয়াশিংটন আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধুমাত্র এমন একটি চুক্তি করবেন যা আমেরিকান জনগণের জন্য ভালো হবে এবং যা নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

উল্লেখ্য, চলমান আলোচনা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।


নীরবে খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নীরবে খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, নেই কোনো ডামাডোল। এর মধ্যেই নীরবে খুলে গেল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপরিচিত সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটি-র চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। হাইকমিশন ও বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল-২০৬৮) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই সত্যায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম কার্যত আবার শুরু হলো। তবে বহুল প্রত্যাশিত বাজারটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই চালু হওয়ায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ করে মালয়েশিয়া সরকার।
এরপর দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পর ফের বাজার খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বন্ধ ও সংকুচিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর প্রথম বিদেশ সফরও ছিল মালয়েশিয়ায়। সফরকালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবার উন্মুক্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের কোনো পক্ষ থেকেই নতুন করে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
শ্রমবাজার খুললেও এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন স্বচ্ছ ও নিরাপদ ব্যবস্থায় বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন, নাকি তথ্যের ঘাটতি ও প্রক্রিয়ার জটিলতার সুযোগে আবারও সক্রিয় হবে দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী ও কথিত সিন্ডিকেট?
মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই তথ্য যথাযথভাবে প্রচার না হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন।
এই তথ্যঘাটতির সুযোগে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে।
ফলে সরকারি তথ্যের পরিবর্তে দালালচক্রের প্রচারই অনেকের কাছে নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা না দিতে, টাকা পরিশোধ না করতে এবং মেডিকেল পরীক্ষা না করাতে পরামর্শ দিয়েছে।
কিন্তু ২৮ কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো কর্মী পাঠানোর পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য ব্যয় এবং পরবর্তী ধাপ নিয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এদিকে অতীতের অভিজ্ঞতায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে কর্মীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবারও বাজারে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
শ্রমবাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সরকার নির্ধারিত ব্যয় এবং কর্মীদের প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
এরই মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটির বাস্তবায়ন দেখতে চান চাকরিপ্রত্যাশীরা।
তাদের বক্তব্য, সরকারি ব্যবস্থায় কম খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করা গেলে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছরে নানা অভিযোগে একাধিকবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। পরে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় আবার তা খুলেছে। এবারও বাজার খোলার পর পুরোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে ফের সংকট তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।


বাংলাদেশ সরকার স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় কর্মী নির্বাচন ও প্রেরণের জন্য ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইপি) চালু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় সরকারি ডাটাবেজ ব্যবহার করে কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনের ১৯ ধারার বিধান অনুযায়ী, প্রথমে বিএমইটির ডাটাবেজ থেকে উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন করার কথা। সেখানে উপযুক্ত কর্মী পাওয়া না গেলে সরকারের অনুমতি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কর্মী বাছাই করার বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতীতে এই বিধান পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি চাহিদাপত্র পাওয়ার আগেই কর্মী সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। ফলে নতুন করে শ্রমবাজার চালুর শুরুতেই আইনি কাঠামো ও সরকারি ডাটাবেজভিত্তিক কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এবারের শ্রমবাজার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ থাকে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।