?> শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে সাধারণ পরিষদে শেষবারের মতো ভাষণ দিতে গিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে যুদ্ধ বন্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি মোকাবিলা, জলবায়ু সংকট এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন অ্যান্তনিও গুতেরেস। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিদায়ী ভাষণ দেন পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশকের জাতিসংঘ নেতৃত্বেরও অবসান ঘটতে যাচ্ছে তার।

বিদায়ী ভাষণে এআইয়ের বিকাশ ও ব্যবহার নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন গুতেরেস। তার বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ এআই খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

গুতেরেস বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর উচিত নিরাপত্তা ঝুঁকি-সংক্রান্ত তথ্য নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা। এআইয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি অভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা জোরদারে বিশ্বনেতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তদারকির আওতায় বহুপাক্ষিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন গুতেরেস। ২০২৩ সালে তার উদ্যোগে ৩৯ সদস্যের একটি এআইবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদ যুক্ত ছিলেন। একই বছর নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করে। সে সময় চীন প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিকশিত হতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে দমন করার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছিল।

বিদায়ী ভাষণে যুদ্ধ ও সংঘাতের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন গুতেরেস। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুতিদের অগ্রগতির কারণে নৌপথ হুমকির মুখে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, সে জন্য উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের এক দশকের মেয়াদে যেসব বিষয়ে জোর দিয়ে এসেছেন, বিদায়ী ভাষণেও সেগুলোর ওপর গুরুত্ব দেন গুতেরেস। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান, জলবায়ু সংকটে দূষণকারীদের দায় ও ক্ষতিপূরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।

এ সময় জাতিসংঘের ভেতরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংকটের কথাও উল্লেখ করেন গুতেরেস। তার ভাষ্য, সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অতীতের ক্ষমতার কাঠামো ও স্বার্থের বাস্তবতাকে ধারণ করে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকলেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেননি।

গুতেরেসের প্রায় এক দশকের নেতৃত্বে জাতিসংঘকে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এআইয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই সময়ে বিভিন্ন পরাশক্তির জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে চলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত তহবিল কমানোর মতো চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে সংস্থাটিকে।

এর মধ্যে রোববার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চলতি সপ্তাহের বৈঠকে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন নতুন এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। দুই দেশের কৌশলগত আলোচনার অংশ হিসেবে তৈরি ওই প্রস্তাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এআই-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদায়ী ভাষণের শেষ পর্যায়ে গত ১০ বছর পাশে থাকা বিশ্বনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান গুতেরেস। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে মহাসচিবের দায়িত্বে না থাকলেও শান্তি সম্ভব—এই বিশ্বাসের পক্ষে তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদের মূল মূল্যবোধের পক্ষে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছাড়বেন না।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেন ইইউ প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেন ইইউ প্রেসিডেন্ট

ক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভন ডার লেইন বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির দিকে অগ্রগতিকে আমি স্বাগত জানাই। আমাদের এমন একটি চুক্তি প্রয়োজন, যা সত্যিকার অর্থে উত্তেজনা কমাবে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং টোলমুক্ত পূর্ণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।'

তিনি আরও বলেন, 'ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না।'

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২৩ মে) দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা চুক্তি 'প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে' পৌঁছেছে এবং শিগগিরই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

ট্রাম্প জানান, এই বিষয়ে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন, যা 'খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে'। তবে ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য এই চুক্তি তাদের জন্য 'বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়' হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিক্ষোভে এখনও উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে রেকর্ড ১ হাজার ২৬০ জন গ্রেপ্তার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

বিক্ষোভে এখনও উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে রেকর্ড ১ হাজার ২৬০ জন গ্রেপ্তার

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে এক মাস আগে ফ্রান্সে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা এখনও অব্যাহত আছে। আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক মাসে রাজধানী প্যারিস থেকে রেকর্ড ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এই গ্রেপ্তারদের ৮৬ শতাংশই নাবালক। ফ্রান্সে এর আগে কোনো আন্দোলনে এত সংখ্যক গ্রেপ্তারের নজির নেই। এদিকে শনিবার আন্দোলনকারীরা দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফরাসি সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, সারা দেশে প্রায় ২০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, এই বিক্ষোভ এখন আর কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ‘শহুরে সহিংসতার আন্দোলনে’ রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ বেশ কিছু এলাকায় ‘সহিংসতার উসকানি দেওয়ার মতো অত্যন্ত জঘন্য আহ্বান’-এর তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন।

লেকর্নু জানান, স্কুল ভবন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনাগুলোরও সমালোচনা করেন।

শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে জানান, সরকার ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’এর মাধ্যমে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করছে এবং অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

গত কাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গ্রাদিগনান বিভাগের একটি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, তবে আপাতত আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।”

জেফ্রে আরও জানান, সরকার যে ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষক (সাবস্টিটিউট টিচার) নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, গ্রাদিকনানে যেসব উচ্চ বিদ্যালয় বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন বলে চিহ্নিত ছিল, তাদের সংখ্যা গত বৃহস্পতিবারের ১১৪টি থেকে কমে আজ ৪৭টিতে নেমে এসেছে।

“আশা করি, শরতের ছুটির পর যখন ফের স্কুলগুলোতে ক্লাস শুরু হবে, তখন কোনো হাই স্কুল আর ‘রেড জোন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকবে না”, গ্রাদিগনানে বলেছেন জেফ্রে।

এর আগে ৮ অক্টোবরের এক বৈঠকে ‘লে লিসিয়েনস!’ এবং ‘ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসিয়েন’-এর মতো শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

প্যারিসের পশ্চিমে জুই-এন-জোসা এলাকায় অবস্থিত ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইচইসি প্যারিসেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে—আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম সেখানে এমন ঘটনা ঘটল।

লিওঁ শহরের প্রশাসন বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত একটি ছাত্র বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে, আগের বিক্ষোভগুলোতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সহিংসতার ঝুঁকি ছিল।

প্যারিস, মার্সেই এবং লিওঁ শহরের বেশ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ কর্মসূচি এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্যারিস মহানগর এলাকায় ১,২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের ৮৬ শতাংশই নাবালক।

পরিস্থিতি বিষয়ক এক ​​হালনাগাদ তথ্য দিয়ে প্যারিস পুরিশ আরও জানিয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে মোট ২৮৬ জন পুলিশ ও জেন্ডার্ম (আধাসামরিক পুলিশ সদস্য) এবং শিক্ষা বিভাগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, “সহিংসতা বারবার ঘটছে এবং এর তীব্রতা বাড়ছে। গত ১৩ অক্টোবর বিক্ষোভের সময় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭১ জন সদস্য আহত হয়েছেন।”

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি হাই স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা অপর্যাপ্ত শিক্ষক, স্কুলের দীর্ঘ সময়সীমা ও ক্লাসে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্যারিসের শহরতলী এলাকার একটি হাই স্কুলে ১৭ সেপ্টেম্বর এই অস্থিরতা শুরু হয়। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অপর্যাপ্ত শিক্ষক এবং স্কুলের দীর্ঘ সময়সীমার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা ‘ক্লাস সাইজ’ নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল।


হরমুজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: তেহরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

হরমুজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: তেহরান

কাতারে আলোচনার শুরুর প্রাক্কালে ইরানের হরমুজ প্রণালির কাছে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা আত্মরক্ষামূলক এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি বাহিনীর হুমকি রুখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। 

তবে, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। মঙ্গলবার (২৬ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ ও অন্যায্য’ হামলা চালিয়েছে।

ইরানের দাবি, গত ২৮ ঘণ্টায় দেশটির হরমোজগান অঞ্চলে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

হরমোজগান প্রদেশের দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ঘিরেই সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা অবস্থায় এবং দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলার মধ্যেই এসব হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে সিএনএন।

সেন্টকমের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স সিএনএনকে বলেন, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় দক্ষিণ ইরানে এ হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় এ ধরনের হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার’ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তেহরান।

বিবৃতির শেষাংশে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেয়া হবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।