?> পদার্থে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হেলজেন | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

পদার্থে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হেলজেন

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

পদার্থে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হেলজেন

চলতি বছর পদার্থে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন বেলজিয়ামের পদার্থ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হেলজেন । সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে নতুন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

আইসকিউব নিউট্রিনো পর্যবেক্ষনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো কণার সন্ধান পাওয়া সম্ভব—এই ধারণা প্রথম দিয়েছিলেন হেলজেন। তার এ ধারণাই ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ নির্মাণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এক ঘনক কিলোমিটার (কিউবিক কিলোমিটার) আয়তনের বরফের এই বিশাল গবেষণাগারটি আলোক সংবেদী সেন্সরে সজ্জিত। এই আইসকিউব ব্যবহার করেই গবেষকেরা মহাবিশ্বের দূরদূরান্তের অত্যন্ত শক্তিশালী ও নানামুখী প্রক্রিয়া থেকে ছুটে আসা নিউট্রিনো কণা শনাক্ত করছেন।

নিউট্রন সব জায়গায় বিরাজমান। কিন্তু তারা নিজেদের জানান দেয় না। নিউট্রন বিশ্বের সর্বত্র এবং আমাদের শরীরের মাঝে দিয়ে চলে। কিন্তু এটি কেউ টের পান না। খুবই বিরলভাবে একটি একক নিউট্রন একটি অ্যাটোমিক নিউট্রনের সঙ্গে মিলতে পারে। ওই সময় সঠিক যন্ত্র ব্যবহার করে কেউ এটি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

অন্য সব কণা যে পরিবেশে তৈরি হয়, অত্যন্ত শক্তিধর নিউট্রিনোগুলোও ঠিক একই পরিবেশ থেকে আসে। তবে অন্য কণাগুলোর মতো নিউট্রিনো পথ বদলায় না বা শক্তি হারায় না; সোজা আমাদের কাছে পৌঁছে যায়। এর মানে হলো, এমন কিছু গোপন তথ্য এটি আমাদের দিতে পারে, যা অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া একরকম অসম্ভব।

১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুতে নিউট্রন পাওয়ার ধারণাটি দেন হেলজেন। যখন একটি সাধারণ নিউট্রিনোর সঙ্গে অ্যাটোমিক নিউক্লিয়াসের সংঘর্ষ হয়, তখন এটি আলোর একটি ঝলকানি তৈরি করে। আর এই আলো হিমবাহের স্বচ্ছ বরফে সেন্সরের মাধ্যমে ট্র্যাক করা সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক দিক দিয়ে দক্ষিণ মেরুর বরফের অনেক সুবিধা রয়েছে। যেহেতু এগুলো বাইরের বিভিন্ন প্রভাব থেকে মুক্ত এবং ভৌগলিকভাবে স্থানটি স্থিতিশীল এবং সেখানে ভূমিকম্প সংঘটিত হয় না, তাই হেলজেনের এই ধারণাটি অন্যান্য গবেষকদের সমর্থন পায়। আর এর কিছুদিন পরই সেখানে সেন্সর দিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়।

মহাশূন্য থেকে আসা অতিরিক্ত শক্তির এই নিউট্রিনো কণাগুলো অত্যন্ত বিরল। তাই এগুলোর ধাক্কা বা সংঘর্ষ ঠিকঠাক দেখতে হলে বিশাল পরিমাণ বরফের প্রয়োজন হয়। এক ঘনক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই 'আইসকিউব' গবেষণাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১১ সালে।

বিজ্ঞানীরা খুব দ্রুতই প্রথম উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো কণাগুলোর সন্ধান পান। এর ঠিক কয়েক বছর পর তারা এমন সব নিউট্রিনো খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দেন, যা আমাদের সৌরজগতের অনেক দূরের কোনো স্থান থেকে এসেছে। এভাবেই মহাবিশ্বের নিউট্রিনো উৎসের সন্ধান করার আসল কাজ শুরু হয়ে যায়।

আইসকিউব মেশিনে সব সময় যে কণাগুলো ধরা পড়ছে, সেগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন জানতে পারছেন কীভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী নিউট্রিনোগুলো তৈরি হয়। আর এরমাধ্যমে মহাকাশের অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে।

এদিকে গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ ডেভোরেট এবং জন এম মার্টিনিস। বৈদ্যুতিক বর্তনীর মধ্যে‌ ‌‌‌স্থূল কোয়ান্টাম যান্ত্রিক টানেলিং এবং ‌শক্তির কোয়ান্টাইজেশন আবিষ্কারের জন্য এ পুরস্কার পেয়েছিলেন তারা।

১৯০১ সাল থেকে পদার্থে নোবেল দেওয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত ১১৯বার এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কারটি জিতেছিলেন লরেন্স ব্র্যাগ। অপরদিকে সবচেয়ে বেশি বয়স হিসেবে ৯৬ বছর বয়স্ক আর্থুর আসকিন জেতেন পদার্থের নোবেল। ২০১৮ সালে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পাকিস্তানে সেনাবাহী ট্রেনে ভয়াবহ হামলায় নিহত ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬

পাকিস্তানে সেনাবাহী ট্রেনে ভয়াবহ হামলায় নিহত ২৪

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় সামরিক সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রেনে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের এই রক্তক্ষয়ী হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত এবং আরও ৭০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।


বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ট্রেনটির কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিসহ পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোয়েটার চমন ফাটক এলাকার রেললাইনের পাশে এই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার দিকে ধাবমান ‘জাফর এক্সপ্রেস’ নামের ট্রেনটিতে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য ছিলেন।

বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে এক আত্মঘাতী হামলাকারী আচমকা সেনা বহনকারী ট্রেনের বগিতে জোরালো ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে কয়েক মাইল দূর থেকেও এর বিকট শব্দ শোনা গেছে এবং এর ধাক্কায় ট্রেনের একটি বগি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে কয়েকটি কামরায় আগুন ধরে যায়।

বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং আশপাশে ভারী গোলাগুলির শব্দও শোনা যেতে থাকে। এই হামলায় ট্রেনের সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া রেললাইনের আশপাশের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও যানবাহন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা কর্ডন করে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগিগুলোর ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না, তা কেটে দেখার কাজ চলছে। আহতদের উদ্ধার করে কোয়েটার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে রেড অ্যালার্ট বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন- বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) মজিদ ব্রিগেড স্থানীয় গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাসদস্যদের বহনকারী নির্দিষ্ট বগিগুলোকে লক্ষ্য করেই তাদের আত্মঘাতী স্কোয়াড এই হামলাটি চালিয়েছে। বেলুচিস্তান প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্র বিভাগের বিশেষ সহকারী বাবর ইউসুফজাই জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে এবং পুলিশ বিস্ফোরণের প্রকৃত ধরন ও নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

উল্লেখ্য, জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলুচিস্তানের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার পর্যন্ত চলাচল করে এবং গত দুই বছরে এই ট্রেনটি একাধিকবার বালোচ বিদ্রোহীদের হামলার শিকার হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে এই ট্রেনে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

এর আগে গত বছরের মার্চে বালোচ বিদ্রোহীরা জাফর এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জিম্মি করলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২৬ সেনাসদস্য ও ৩৩ বিদ্রোহী নিহত হন। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরেই স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে এমন বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় অস্থিতিশীল। বিশেষ করে অঞ্চলটি বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায় এখানে প্রায়শই পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে টার্গেট করে হামলা চালানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি-এনডিটিভি


‘প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার’ অভিজিৎ, মুক্তি পেলেন নেহা বোরা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

‘প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার’ অভিজিৎ, মুক্তি পেলেন নেহা বোরা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কনট প্লেসে অনলাইন আন্দোলন প্ল্যাটফরম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা উত্তোলন) কর্মসূচির দিন শুক্রবার আটক সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে কে ‘প্রতিরাধমূলক’ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

তবে একই দিন একই কর্মসূচিকে ঘিরে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) প্রেসিডেন্ট নেহা বোরাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার ভোরের দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি পুলিশসূত্রে জানা গেছে,শান্তিভঙ্গ হতে পারে—এই আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১২৬ ও ১৭০ ধারার অধীনে অভিজিৎ দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আজ দিনের পরবর্তী সময়ে তাঁকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে হাজির করা হবে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারার অধীনে আটক নেহা বোরাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সিজেপি’র আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং অভিযোগ করেছেন যে, অভিজিৎ দীপকে ‘অজানা’ জায়গায় রাখা হয়েছে  এবং আইনজীবীরা এখনও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় রত্না সিং লিখেছেন, “অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে এসইএম আদালতে হাজির করা হবে। তার অবস্থান এখনও অজানা, আইনজীবীরাও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।”

'ভয় ছড়াতে অবৈধভাবে আটক করা হচ্ছে'

আটক অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা অভিযোগ করেন, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই প্রতিবাদকারীদের আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেফাজতে রাখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেহা বলেন, “এই দেশে দীর্ঘকাল ধরেই মানুষ কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই আটক হয়ে আসছেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের হেফাজতে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমরা দেখছি, বিক্ষোভকারীদের আটক করা হচ্ছে, আবার পরদিন সকাল বা সন্ধ্যায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আজ আমি নিজে এমন একটি ঘটনার সাক্ষী হলাম, যা থেকে বোঝা যায় কেন এই ধরনের বেআইনি আটক করা হয়, এর উদ্দেশ্য কী এবং কীভাবে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সঞ্চারের জন্য এগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

বোরা অভিজিৎ ডিপকে এবং আটক অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান।

“অভিজিৎকে মুক্তি দেওয়া উচিত। সে যে আটক হয়েছে, তা আমি জানতামই না। বেআইনিভাবে আটক অন্য সকল বিক্ষোভকারীকেও অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। এরা সাধারণ নাগরিক, যারা কেবল জবাবদিহিতা এবং ভোটাধিকারের দাবি জানাচ্ছেন। এই ধরনের বেআইনি আটক বা কাউকে সারা রাত থানায় আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

শুক্রবার সিজেপি এবং আইসা তাদের নেতা অভিজিৎ ডিপকে ও নেহা বোরার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, জাতীয় রাজধানীতে বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করার পর আইনজীবী বা পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

'লেহরা দো তিরঙ্গা' বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়ার পথে তাদের আটক করা হয়।

সিজেপি দাবি করেছে যে, ডিপকেকে অজ্ঞাত কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, আইসার অভিযোগ, নেহা বোরাকে মঙ্গলপুরীর 'অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স'-এর কার্যালয়ে একা আটকে রাখা হয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি লিখেছে, “দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ ডিপকেকে অজ্ঞাত কোনো স্থানে নিয়ে গেছে। তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না।”

সূত্র : এনডিটিভি


মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার ভাবনা, শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩১০০

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার ভাবনা, শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩১০০

মালয়েশিয়ায় স্বল্প বেতনভোগী শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার আগে বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো এর চেয়ে আরও বেশি মজুরি দাবি করেছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। সরকার এটি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে নতুন হার কত হবে এবং কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী আকমান নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির বলেছেন, ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার সময় জানাবেন। তবে মজুরি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এমএসএমই খাতের টিকে থাকার মধ্যে ভারসাম্য রেখে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারার সাবেক শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো কোম্পানি বিলিয়ন বিলিয়ন রিঙ্গিত মুনাফা করবে, অথচ শ্রমিকরা ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বেতন পাবেন—এটি টেকসই নয়।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা ও কোম্পানির আয় বাড়লে শ্রমিকদেরও উচ্চ মজুরির মাধ্যমে তার সুফল পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাজেটে কিছু উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

২০১৩ সালে ৯০০, এখন ১ হাজার ৭০০

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা চালু হয় ২০১৩ সালে। তখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ছিল ৯০০ রিঙ্গিত। এরপর ২০১৬ সালে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত করা হয়।

অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বেড়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের হার ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। পরে ১ আগস্ট থেকে কর্মীর সংখ্যা নির্বিশেষে দেশজুড়ে তা কার্যকর করা হয়। তবে গৃহকর্মীরা এর আওতাভুক্ত নন।

বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকরাও পাবেন সুবিধা

মালয়েশিয়ার ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশের যোগ্য বিদেশি শ্রমিকরাও স্থানীয় আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মৌলিক মজুরি পাওয়ার অধিকারী।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকরাও অন্তত ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত ন্যূনতম বেসিক বেতন পাওয়ার অধিকার রাখেন। নতুন হার ২ হাজার রিঙ্গিত হলে যোগ্য বিদেশি শ্রমিকদের বেসিক বেতনও সেই হারে বাড়বে।

মালয়েশিয়ায় প্রায় ৪ লাখ নেপালি শ্রমিক কাজ করেন। ন্যূনতম মজুরি বাড়লে তারাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি ও নেপালের কয়েকজন শ্রমিক জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবারের দাম বাড়ায় খরচ মেটানোর পর যে অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তা দেশে পাঠাতে হয়। ওভারটাইম না থাকলে সঞ্চয় করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলেও জানান তারা।

শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিত

ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার আলোচনা চললেও মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিত করার দাবি জানিয়েছে। বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের তুলনায় এই দাবি ৮২ শতাংশেরও বেশি।

ইতোমধ্যে কিছু সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ও সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মাসে ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে ‘লিভিং ওয়েজ’ বা জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে। তবে এটিকে এখনো নতুন আইনগত ন্যূনতম মজুরি হিসেবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেনি।

১ হাজার ৭০০ থেকে সরাসরি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতে মজুরি বাড়ালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে সীমিত মুনাফায় পরিচালিত ছোট ব্যবসাগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে বলে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ রয়েছে। এর প্রভাব পণ্যের দাম ও নতুন নিয়োগের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আকমান নাসির বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মজুরি বৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তার মতে, মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদনশীলতারও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

দুই বছর পরপর পর্যালোচনা

মালয়েশিয়ার আইনে অন্তত দুই বছর পরপর ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। এ সময় জাতীয় মজুরি পরামর্শ কাউন্সিলকে ন্যূনতম মজুরির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করতে হয়।

২০২৭ সালের বাজেটের প্রাক-বাজেট বিবৃতিতেও সরকারের ‘ডিসেন্ট ওয়েজ এজেন্ডা’ বা মর্যাদাপূর্ণ মজুরি কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। একই সঙ্গে সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগ কোম্পানি ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে।

মালয়েশিয়ার ১৩তম পরিকল্পনাতেও ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে উচ্চ আয় ও উচ্চ উৎপাদনশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে বিদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বেতনের ওপর মালয়েশিয়ার কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল (ইপিএফ)-এ নিয়োগকর্তা ও বিদেশি শ্রমিক উভয়কেই ২ শতাংশ করে অবদান রাখতে হচ্ছে।