শেয়ার বাজার

হিজবুল্লাহ
ইসরায়েলে হামলা বন্ধের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, সিদ্ধান্ত জানালো হিজবুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ইসরায়েলে হামলা বন্ধের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, সিদ্ধান্ত জানালো হিজবুল্লাহ

হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে বলে লেবানন সরকার জানিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ করবে এবং ইসরায়েলও লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালাবে না। যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের দূতাবাস বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই সমঝোতার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের শহর ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানো বন্ধ না করে, তাহলে বৈরুতে আবারও হামলা হতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহু ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষ গুলি ও হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে।

সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে লেবাননের দূতাবাস জানায়, এই প্রস্তাব অনুযায়ী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলা বন্ধ হবে। এর বিনিময়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে না। এ ছাড়া, যুদ্ধবিরতির এই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে পুরো লেবাননজুড়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষ যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে জানানোর পরও কিছু এলাকায় সংঘর্ষ চলতে থাকে।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের দুটি গ্রামের কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি ট্যাংক ও সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন এবং কামানের গোলা ব্যবহার করে তিনটি হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। ডেববিন শহরে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলার নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।

এ ঘটনার পর ইরানের কর্মকর্তারা একের পর এক সতর্কবার্তা দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কোনো একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে তা সব ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শামিল হবে।

এদিকে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করতে পারে। সংস্থাটি আরো বলেছে, ইরান ও তার মিত্ররা প্রয়োজনে নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় করতে পারে, যার মধ্যে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বাব আল-মান্দাব প্রণালিও রয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। তিনি আরো জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর ফলে বৈরুতে আর কোনো ইসরায়েলি সেনা পাঠানো হবে না এবং যেসব সেনা সেখানে যাওয়ার পথে ছিল, তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো দাবি করেন, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও তার ভালো আলোচনা হয়েছে। হিজবুল্লাহ নাকি সব ধরনের গুলি ও হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। একইভাবে ইসরায়েলও তাদের ওপর হামলা চালাবে না।

রবিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননে উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমানোর একটি প্রস্তাব ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কাছে তুলে ধরেছেন।

গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী দুইবার বৈরুতে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি হয় বৃহস্পতিবার। তবে আগের তুলনায় হামলার সংখ্যা কমেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউস ইসরায়েলের ওপর বৈরুতে সামরিক অভিযান সীমিত রাখার চাপ দিচ্ছে। এদিকে, ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি।

ইতালিতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

ইতালিতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাস সে দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যা সোমবার (১ জুন) ভিসা প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল নিশ্চিত করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে প্রাথমিক নিবন্ধন (প্রি-এনরোলমেন্ট) শেষ করেছেন, তাদের সাথে ভিএফএস গ্লোবাল সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারের তারিখ জানিয়ে দেবে। ফলে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে না। নিবন্ধনে ব্যবহৃত ই-মেইলটিই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে।

আর্থিক সহায়তার (স্পন্সর) ক্ষেত্রে এবার বড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাবা-মায়ের পাশাপাশি দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা-ফুপু, মামা-খালা, তাদের সন্তান এবং ইতালিতে অবস্থানরত আত্মীয়স্বজনও এখন থেকে আর্থিক গ্যারান্টর হতে পারবেন।

ভাষা দক্ষতার সনদের ক্ষেত্রে শর্ত হলো, এটি অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত হতে হবে, যেখানে শোনা, বলা, পড়া ও লেখার পৃথক মূল্যায়ন থাকতে হবে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যতা যাচাইয়ে সিআইএমইএ সনদ অথবা ‘ডিক্লারেশন অব ভ্যালু’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রি-এনরোলমেন্ট ভিত্তিক শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের এই নির্দেশনাগুলো গুরুত্বের সাথে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ ঘাঁটিতে হামলার ঘোষণা ইরানের

প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ ঘাঁটিতে হামলার ঘোষণা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ ঘাঁটিতে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর বরাতে রাষ্টীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা এ অঞ্চলে ষষ্ঠ ধাপের হামলা চালাচ্ছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ‘বৃহৎ পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ চালিয়েছে । যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটি, ইসরায়েলের তেল নফ এয়ারবেস, তেল আবিবের হাকিরিয়া শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একই শহরের একটি বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

তারা আরও জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী ‘ধাপে ধাপে কড়া প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যা দুঃখজনক হলেও জোরালো হবে।’


১০০ জাহাজ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬

১০০ জাহাজ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা নিয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঠেকাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের তৎপরতা আরও জোরদার করেছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তারা অন্তত ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে এবং ৪টি জাহাজ অচল করে দিয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) সেন্টকমের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে গত ছয় সপ্তাহে ১৫ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য অংশ নিয়েছেন। তবে অবরোধের মধ্যেও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২৬টি সহায়তা সামগ্রীবাহী জাহাজকে নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই অভিযানের ভয়াবহতা ও বিস্তৃতি তুলে ধরে জানান, ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাকে লক্ষ্য করে এই অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এই অভিযানে ২০০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের মতো পরাক্রমশালী রণতরীগুলো।

মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন ইরানি বন্দরে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করার চেষ্টা করছে, তখন পাল্টা প্রতিরোধ ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইরানও। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট দাবি করেছে, মার্কিন কড়াকড়ির মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের কঠোর তত্ত্বাবধান ও সুরক্ষায় ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরানও এই এলাকায় তাদের নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে অনড় রয়েছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং কড়াকড়ি আরোপ করায় ওই অঞ্চলে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট। সারা বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে। ফলে এই অঞ্চলের যেকোনো সংঘাত বা দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।