ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৭ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এ কথা লেখেন। খবর বিবিসির।
যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ট্রাম্প বলেন, ঘড়ির কাটা টিক-টিক করছে; সময় ফুরিয়ে আসছে। ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এছাড়া সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত শুক্রবার (১৫ মে) ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরান যদি ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখে, তাহলে তিনি তা মেনে নিতে পারেন।
এর আগে গত এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চুক্তি না হলে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। চলতি সপ্তাহেও তিনি বলেন, তেহরানের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করার পর যুদ্ধবিরতি এখন ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সবশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুস্পষ্ট ছাড় দেয়নি।
ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থান আলোচনা প্রক্রিয়াকে অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আলোচনা এগিয়ে নিতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেনে চলা হলেও মাঝেমধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এদিকে, ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, তেহরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জারি রেখেছে। এ সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে।








