?> ইমরান খানের ঘাঁটিতে জরুরি অবস্থা: পাকিস্তানের পদক্ষেপে উল্টো বিপদের ঝুঁকি | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

ইমরান খানের ঘাঁটিতে জরুরি অবস্থা: পাকিস্তানের পদক্ষেপে উল্টো বিপদের ঝুঁকি

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইমরান খানের ঘাঁটিতে জরুরি অবস্থা: পাকিস্তানের পদক্ষেপে উল্টো বিপদের ঝুঁকি

সড়কে কনটেইনারের ব্যারিকেড, শহরজুড়ে সেনাটহল আর বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এর মাধ্যমে স্থগিত করা হয়েছে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সরকারও।

বিবিসি লিখেছে, রোববার জরুরি অবস্থা জারির পর শুরুতে স্কুল বন্ধ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করা হলেও দুদিনের মাথায় তা সচল হয়। তবে পিটিআই নেতাদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

মঙ্গলবারও খাইবার জেলায় দলটির কর্মীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। আটক হয়েছেন বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।

পিটিআইয়ের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তবে সরকারের দাবি, তিনি ‘নিরাপত্তা হেফাজতে’ আছেন।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ‘সন্ত্রাসবাদের মারাত্মক হুমকি থেকে’ জনগণকে রক্ষা করতেই সাংবিধানিক এইপদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আতা তারার অভিযোগ করেন, পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সরকার ‘জঙ্গিদের সঙ্গে যোগসাজশে’ লিপ্ত ছিল। তবে এর কোনো প্রমাণ তিনি দেখাননি।

তিনি দাবি করেন, জরুরি অবস্থা জারির পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই এবং সরকার আগেই পিটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছিল।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক তীব্র চাপ ও বিক্ষোভ।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ইমরান খানের সঙ্গে গত এক বছরে পরিবার বা আইনজীবীদের কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট উদ্বেগ জানানোর পর গত অগাস্টে এক বোন কারাগারে ও অন্য বোন হাসপাতালে চেকআপের সময় দেখা করতে পেরেছিলেন। এর বাইরে আর কাউকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এর মধ্যে কর্মীদের সংগঠিত করার অভিযোগে সেপ্টেম্বরে ইমরানের তিন বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তারা এখনো বন্দি।

সরকারের অভিযোগ, সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে ইমরান রাজনীতির আলোচনা করে জেল কোড ভাঙছিলেন।

নেতার মুক্তি ও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থেকে গত এক সপ্তাহ ধরে খাইবার পাখতুনখোয়াজুড়ে হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে বড় আকারে ‘লং মার্চ’ শুরু করেছিল পিটিআই।

আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, তৃণমূলের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের মুখে সরকারের ওপর চাপ তৈরির পথ বন্ধ করতেই জরুরি অবস্থার মত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জাহিদ হুসেন বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য এখন পুরোপুরি সেনাবাহিনীর দিকে হেলে পড়েছে।

চ্যাথাম হাউজের ফারজানা শেখের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় ভূমিকা রেখে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বাড়ায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা বৈশ্বিক চাপ অনায়াসেই সামাল দিতে পারবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সরকারের ওই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হতে পারে। ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স’-এ সন্ত্রাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান।

এর মধ্যে জঙ্গি আস্তানা থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে দফায় দফায় বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ, যদিও কাবুল ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সীমান্তে বৈরিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে হুতিদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় সৌদি আরবকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তান আগেই বহুমুখী আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে।

এমন নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে নতুন সংকট তৈরি করাকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে দেখছেন কুগেলম্যান।

তিনি বলছেন, প্রাদেশিক সরকার না থাকায় স্থানীয়দের সব ক্ষোভের তীর এখন সরাসরি কেন্দ্রের দিকে যাবে।

এছাড়া নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে সেনাদের বড় প্রাণহানি খোদ সামরিক বাহিনীর ভেতরেও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।

বিশ্লেষক আরিফা নূরের ভাষায়, জেনে-বুঝেই এক আত্মঘাতী রাজনৈতিক সংকটের গহ্বরে পা বাড়াচ্ছে উভয় পক্ষ।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা

দক্ষিণ লেবাননে বুধবার সকালে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ওই চুক্তির ঘোষণার পরপরই বুধবার সকালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার এবং নাবাতিয়েহ এলাকায় হামলা চালানো হয়।

যুদ্ধবিরতির চুক্তি ইরানসমর্থিত লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলা সংঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

এ বিষয়ে লেবানন সরকার এবং হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, চুক্তির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হিজবুল্লাহ যে কোনো চুক্তির মধ্যে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

অন্যদিকে ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করতে চায়। এরই মধ্যে ইসরায়েলি সৈন্যরা লেবাননে ঢুকেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির কিছু অংশ ইসরায়েলের দখলে চলে যেতে পারে।


স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত ও ৭৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে কোরদোবা শহরের আদামুজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শেষ হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানায়, মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগামী ট্রেন আদামুজ এলাকার কাছে লাইনচ্যুত হয়ে পাশের আরেকটি ট্র্যাকে উঠে যায়। এরপর সেটি বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও জানিয়েছে, মালাগা থেকে যাত্রা করা যে ট্রেনটি প্রথমে লাইনচ্যুত হয়, তাতে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত অন্য ট্রেনটিতে প্রায় ১০০ যাত্রী ছিলেন।

রয়টার্সকে ইতালীয় রেল কোম্পানি ফেরোভিয়ে দেলো স্তাতোর এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনটি ছিল ফ্রেচ্চিয়া ১০০০ মডেলের, যা প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার (প্রায় ২৫০ মাইল) গতিতে চলতে পারে।

আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে মোট অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ট্রেনের প্যাঁচানো ধ্বংসাবশেষের কারণে জীবিত যাত্রী ও মৃতদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

করদোবার ফায়ার সার্ভিস প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে বলেন, কখনো কখনো কাউকে জীবিত অবস্থায় পৌঁছাতে আমাদের একজন মৃত ব্যক্তিকেও সরাতে হয়েছে। এটি খুবই কঠিন ও জটিল কাজ।

আদিফ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মালাগা ছাড়ার প্রায় ১০ মিনিট পরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ও আহতদের স্বজনদের জন্য মাদ্রিদের আতুচা, সেভিয়া, কর্দোবা, মালাগা ও হুয়েলভা স্টেশনে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ও সোমবারও তা বন্ধ থাকবে। প্রভাবিত যাত্রীদের জন্য রাতভর স্টেশনগুলো খোলা রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেন, ঘটনাটি ‘অত্যন্ত অদ্ভুত’, কারণ ট্রেনটি একটি সোজা রেলপথে লাইনচ্যুত হয়। ওই রেলপথটি গত বছরের মে মাসে সংস্কার করা হয়েছিল।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন ‘গভীর বেদনার একটি রাত’ পার করছে।

আদামুজের মেয়র রাফায়েল মোরেনো দুর্ঘটনাস্থলে প্রথম পৌঁছানো ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘দুঃস্বপ্নের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন।

স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া জানিয়েছেন, তারা ‘গভীর উদ্বেগের সঙ্গে’ দুর্ঘটনার খবর অনুসরণ করছেন। রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এক্সে জানানো হয়,আমরা নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

এদিকে, এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েনও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাক্রোঁ লেখেন, আমার চিন্তা নিহতদের, তাদের পরিবার ও পুরো স্পেনের মানুষের সঙ্গে। ফ্রান্স আপনাদের পাশে আছে।

২০১৩ সালে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের গ্যালিসিয়ায় হাইস্পিড ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছিলেন।


জীবনসঙ্গীকে বিদায় জানিয়ে অশ্রুসিক্ত মাহাথির: সত্তর বছরের পথচলার আবেগঘন সমাপ্তি

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জীবনসঙ্গীকে বিদায় জানিয়ে অশ্রুসিক্ত মাহাথির: সত্তর বছরের পথচলার আবেগঘন সমাপ্তি

দীর্ঘ ৭০ বছরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী, জীবনের প্রতিটি সংকটে পাশে থাকা প্রিয়তম স্ত্রীকে অশ্রুসিক্ত চোখে চিরবিদায় জানালেন মালয়েশিয়ার আধুনিক রূপকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ। সোমবার পুত্রজায়ায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে তাঁর জীবনসঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলির। ১০১ বছর বয়সী প্রবীণ এই নেতা আজ হুইলচেয়ারে বসে এবং অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থায় স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। এ সময় জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বনকে হারানোর বেদনায় তাঁকে বারবার চোখ মুছতে দেখা যায়।শোকের ছায়া ও শেষ বিদায়। সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) শতবর্ষী সিতি হাসমাহ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবরে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনসহ পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নির্দেশে মরহুম সিতি হাসমাহকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। সেলাঙ্গরের সেরি কেমবাংগানের মসজিদ আস-শরিফে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর পুত্রজায়ার প্রিসিন্ট ২০-এর 'পুসারা নেগারা' (জাতীয় সমাধিস্থল)-এ তাঁকে দাফন করা হয়। সেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক, কূটনৈতিক এবং হাজারো সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।একটি ঐতিহাসিক ও আদর্শ জুটিমাহাথির ও সিতি হাসমাহর প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সালে, সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিনে পড়ার সময়। দীর্ঘ ৯ বছর চেনা-জানার পর ১৯৫৬ সালের আগস্টে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই এই দম্পতি তাঁদের বিয়ের ৭০ বছর (প্লাটিনাম জুবিলি) উদযাপন করেছিলেন। এশিয়া রেকর্ডস অনুযায়ী, তাঁরাই বিশ্বের প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান ও জীবনসঙ্গী জুটি, যাঁরা দুজনেই সফলভাবে শতবর্ষ পার করেছেন।নিজের আলোয় উজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্বড. সিতি হাসমাহ কেবল মাহাথিরের স্ত্রী হিসেবেই নন, নিজের কাজের মাধ্যমেও মালয়েশিয়ার ইতিহাসে এক অনন্য স্থান করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন মালয়ের প্রথম সারির কয়েকজন মালয় নারী চিকিৎসকের একজন। প্রধানমন্ত্রী পত্নী হিসেবে তিনি মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং মাদকাসক্তি প্রতিরোধের মতো সামাজিক বিষয়ে আজীবন জোরালো ভূমিকা পালন করে গেছেন। মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘ ও ঝোড়ো রাজনৈতিক জীবনে সিতি হাসমাহ ছিলেন এক শান্ত ও অবিচল শক্তির উৎস। সেই শক্তির চিরবিদায়ের দিনে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনকের অশ্রুসিক্ত মুখটি উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।