?> গাজায় ইসরায়েলি কমান্ডারসহ তিন সেনা নিহত | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

গাজায় ইসরায়েলি কমান্ডারসহ তিন সেনা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

গাজায় ইসরায়েলি কমান্ডারসহ তিন সেনা নিহত

বার্তাবেলা ডেস্ক: গাজায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে কমান্ডারসহ আরও ৩ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এতে স্থল অভিযানে মোট ২৩২ ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারালো। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চার মাসের বেশি সময় ধরে গাজায় হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছে মিশর সীমান্তবর্তী রাফা শহরে। কিন্তু সেখানেও এখন হামলা পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এতে ব্যাপক শঙ্কায় দিন কাটছে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের। কারণ তাদের কাছে আর কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, খান ইউনিসের পূর্বে অবস্থিত একটি ভবনে বিস্ফোরণে ওই তিন সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের সিনাই সীমান্তে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৪০টি ট্যাঙ্ক পাঠিয়েছে মিশর। সীমান্তে নিজেদের নিরপত্তা জোরদার করতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। কারণ ওই এলাকায় গাজার সঙ্গে মিশরের সীমান্ত রয়েছে।

গাজায় যে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল তা এবার রাফা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। এই রাফাতেই আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। মিশরের আশঙ্কা ইসরায়েল যদি রাফায় হামলা শুরু করে তাহলে ফিলিস্তিনিরা সীমান্ত অতিক্রম করে মিশরে চলে যেতে পারে।

এরই মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাফায় বেসমরিক ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়া ও হামলার নির্দেশনা দিয়েছেন।


শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে সাধারণ পরিষদে শেষবারের মতো ভাষণ দিতে গিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে যুদ্ধ বন্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি মোকাবিলা, জলবায়ু সংকট এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন অ্যান্তনিও গুতেরেস। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিদায়ী ভাষণ দেন পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশকের জাতিসংঘ নেতৃত্বেরও অবসান ঘটতে যাচ্ছে তার।

বিদায়ী ভাষণে এআইয়ের বিকাশ ও ব্যবহার নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন গুতেরেস। তার বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ এআই খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

গুতেরেস বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর উচিত নিরাপত্তা ঝুঁকি-সংক্রান্ত তথ্য নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা। এআইয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি অভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা জোরদারে বিশ্বনেতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তদারকির আওতায় বহুপাক্ষিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন গুতেরেস। ২০২৩ সালে তার উদ্যোগে ৩৯ সদস্যের একটি এআইবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদ যুক্ত ছিলেন। একই বছর নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করে। সে সময় চীন প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিকশিত হতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে দমন করার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছিল।

বিদায়ী ভাষণে যুদ্ধ ও সংঘাতের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন গুতেরেস। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুতিদের অগ্রগতির কারণে নৌপথ হুমকির মুখে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, সে জন্য উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের এক দশকের মেয়াদে যেসব বিষয়ে জোর দিয়ে এসেছেন, বিদায়ী ভাষণেও সেগুলোর ওপর গুরুত্ব দেন গুতেরেস। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান, জলবায়ু সংকটে দূষণকারীদের দায় ও ক্ষতিপূরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।

এ সময় জাতিসংঘের ভেতরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংকটের কথাও উল্লেখ করেন গুতেরেস। তার ভাষ্য, সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অতীতের ক্ষমতার কাঠামো ও স্বার্থের বাস্তবতাকে ধারণ করে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকলেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেননি।

গুতেরেসের প্রায় এক দশকের নেতৃত্বে জাতিসংঘকে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এআইয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই সময়ে বিভিন্ন পরাশক্তির জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে চলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত তহবিল কমানোর মতো চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে সংস্থাটিকে।

এর মধ্যে রোববার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চলতি সপ্তাহের বৈঠকে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন নতুন এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। দুই দেশের কৌশলগত আলোচনার অংশ হিসেবে তৈরি ওই প্রস্তাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এআই-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদায়ী ভাষণের শেষ পর্যায়ে গত ১০ বছর পাশে থাকা বিশ্বনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান গুতেরেস। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে মহাসচিবের দায়িত্বে না থাকলেও শান্তি সম্ভব—এই বিশ্বাসের পক্ষে তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদের মূল মূল্যবোধের পক্ষে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছাড়বেন না।


চকলেটের প্যাকেটে আইফোন ১৮ উপহার দিয়ে কর্মীদের চমকে দিলেন ব্যবসায়ী!

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চকলেটের প্যাকেটে আইফোন ১৮ উপহার দিয়ে কর্মীদের চমকে দিলেন ব্যবসায়ী!

কর্মীদের হাতে চকলেট তুলে দিয়ে একটি ছোট্ট প্র্যাঙ্ক করতে চেয়েছিলে দুবাইয়ের এক নারী ব্যবসায়ী। কিন্তু প্যাকেট খুলতেই কারও হাতে মিলল একেবারে নতুন আইফোন ১৮, আর কারও হাতে বড় চকলেট বার। পরবর্তীতে চকলেট পাওয়া কর্মীদেরও নতুন আইফোন উপহার দিয়ে চমকে দেওয়া হয়। সেরা কর্মীদের ধরে রাখতে নেওয়া এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী হাসিনা নিশাদের কিছু কর্মীকে নতুন আইফোন ১৮ উপহার দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, কর্মীদের খুশি রাখা এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মূলনীতি।

খালিজ টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়ার্ল্ড স্টার হোল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিনা নিশাদ বলেন, ‘কর্মীরাই আমাদের শক্তি। তাদের ছাড়া আমাদের কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। তাই প্রথম দিন থেকেই কর্মীদের পেছনে ব্যয় করাকে আমার স্বামী ও আমি অগ্রাধিকার দিয়ে আসছি।’

স্বামী নিশাদ হুসাইনের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হাসিনা। জনবল সরবরাহ সেবা নিয়ে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিশাদ হুসাইন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিশাদকে কয়েকজন কর্মীর মধ্যে প্যাকেট বিতরণ করতে দেখা যায়, যার অর্ধেকের মধ্যে ছিল নতুন আইফোন ১৮ এবং বাকিগুলোতে ছিল চকলেট বার। সবাই প্যাকেট খোলার পর হাসিনা সেখানে উপস্থিত হন এবং চকলেট পাওয়া কর্মীদের প্রত্যেককে নতুন ফোন উপহার দেন।

হাসিনা জানান, তাদের সেরা পারফর্ম করা ১২ জন কর্মীর জন্যই এই উপহার ছিল। চকলেটগুলো একটি ছোট্ট প্র্যাঙ্ক হলেও, যারা চকলেট পেয়েছিলেন তারা কেউ হতাশ হননি বরং খুশি মনে তা গ্রহণ করেছিলেন। পরে ফোন পাওয়ার পর তাদের মুখের আনন্দই তাদের জন্য বড় উপহার ছিল বলে জানান তিনি।

কর্মীদের খুশি রাখতে হাসিনা ও নিশাদের এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত বছর সেরা পারফর্ম করা কর্মীদের আইফোন উপহার দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ১৬ কর্মীর জন্য পাঁচ তারকা হোটেলে থাকা, চালকসহ বিলাসবহুল গাড়িতে ভ্রমণ এবং ইয়টে পার্টির আয়োজন করা হয়। ২০২৩ সালে কর্মীদের জন্য বিশেষ সিনেমা প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

হাসিনার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘমেয়াদে সেরা কর্মীদের ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা খুব কমই চাকরি ছাড়েন এবং অনেকেই পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। সেরা কর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মাত্র স্বামী-স্ত্রী মিলে এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন হাসিনা ও নিশাদ। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে কর্মীরাই রয়েছেন এবং কর্মীদের যথাযথ যত্ন নিলে প্রতিষ্ঠান নিজে থেকেই এগিয়ে যাবে বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।


বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক আরোপ করলো ভারত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক আরোপ করলো ভারত

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন ও বস্তাসহ বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং বা বাজার সুরক্ষামূলক শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটিতে বাংলাদেশি পাটপণ্য রপ্তানির পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই শুল্ক বৃদ্ধি কার্যকর করেছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে- বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করায় ভারতের স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত ৩৬টি পাট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা টনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৯ ডলার থেকে শুরু হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা টুইন আমদানি করলে ভারতীয় আমদানিকারকদের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানির ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক ধরা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সবচেয়ে কম, অর্থাৎ টনপ্রতি ৫৯ ডলার শুল্কের সুবিধা পেয়েছে।

নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এ ছাড়া নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস কেবল পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা উপভোগ করবে।

ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের জুনে এই পর্যালোচনা শুরু করে ভারতের ডিজিটিআর। বাংলাদেশ ও নেপালের পাটকলগুলোর ওপর চালানো এই তদন্তে বাংলাদেশের ৫৪টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে ৩৮টি মিল তাতে সাড়া দেয়। ডিজিটিআরের দাবি, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। অথচ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে এসেছে।

ভারতের এই সিদ্ধান্তকে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ভারত সরকার যে ভর্তুকির হার বিবেচনা করেছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার পাটের সুতা বা টুইন ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক কম।’

ভারতের বাজারে রপ্তানি সাময়িক কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক আঁশভিত্তিক পণ্যের চাহিদা থাকায় সামগ্রিক রপ্তানি কমার আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে পাটের সুতা, টুইন, হেসিয়ান কাপড় ও বস্তা আমদানিতে প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত, যা পরবর্তীতে পাটের বস্তার কাপড়ের ওপরও সম্প্রসারিত হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে ১১৬ কোটি ডলার আয় করেছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আবার ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। নতুন এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পাটপণ্যের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।