?> বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ

রাশিয়া ইউক্রেন সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে যুদ্ধ বিস্তার করতে পারে—এমন চরম আশঙ্কার মধ্যে সমগ্র ইউরোপজুড়ে বড় ধরনের সামরিক ও বেসামরিক যুদ্ধপ্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।।

সুওয়ালকি করিডোরের কাছে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র বেলারুশের সাম্প্রতিক বড় আকারের সামরিক মহড়া ন্যাটোর সার্বভৌমত্বের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করেছে। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী সংবেদনশীল এই সীমান্ত অঞ্চলটি বাল্টিক দেশগুলোকে ন্যাটোর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার একমাত্র স্থলপথ হওয়ায় এখানে যেকোনো আক্রমণের তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ক্যানজাত খাদ্য ও পানীয় জল মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দেশটির সেনাপ্রধান একে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় বলে সতর্ক করেছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ মহাদেশটির স্বাধীনতা ও শান্তি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে হাসপাতালগুলোকে যেকোনো হামলার পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হাইব্রিড হামলা থেকে জাতীয় অবকাঠামো রক্ষায় নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্ক রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছেন। এমনকি দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ দেশ সুইজারল্যান্ডও সশস্ত্র আক্রমণ মোকাবেলায় একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল অনুমোদন করেছে।

ন্যাটোর সিদ্ধান্তহীনতা পরীক্ষা করতে রাশিয়া সাইবার হামলা, অগ্নিকাণ্ড, নাশকতা এবং ড্রোন অনুপ্রবেশের মতো অস্পষ্ট ‘গ্রে জোন’ কৌশল ব্যবহার করছে। সম্প্রতি মার্কিন কৌঁসুলিরা সিআইএ ও ইউরোপীয় অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে রুশ গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর যুক্তরাষ্ট্রও এই হুমকির বাস্তবতা দেখতে পায়।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সম্ভাব্য আক্রমণের ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুরো ইউরোপে এখন বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুরক্ষা জোরদার করা হচ্ছে, যাতে আক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

সূত্র: সিএনএন

সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে আনোয়ার ইব্রাহিমের শোক

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে আনোয়ার ইব্রাহিমের শোক

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী আর নেই। সোমবার সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০০ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি ড. সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, তার প্রয়াণ সমাজ ও দেশের জন্য বড় ক্ষতি।

কুয়ালালামপুরে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার (আইআইইউএম) আন্তর্জাতিক ইসলামিক চিন্তা ও সভ্যতা ইনস্টিটিউট (আইএসটিএসি) ক্যাম্পাসে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিউচার কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার আগে আনোয়ার এ কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের ড. সিতি হাসমাহর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সুরা ফাতিহা পাঠের আহ্বান জানান।

ড. সিতি হাসমাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির। বারনামাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দীর্ঘ জীবনে চিকিৎসা, জনসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন ড. সিতি হাসমাহ। বিশেষ করে মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মালয়েশিয়ার জনপরিসরে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন।
তার মৃত্যুতে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


যে কোনো হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

যে কোনো হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান

যে কোনো ধরনের হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী বহর ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আমরা আশা করি এটি কোনো বাস্তব সংঘাতের উদ্দেশ্যে নয়—তবে আমাদের সেনাবাহিনী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। এ কারণেই ইরানে সবকিছু এখন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার যে কোনো হামলা—সীমিত হোক বা অসীম, সার্জিক্যাল হোক বা কাইনেটিক, তারা যাই বলুক না কেন—আমরা সেটিকে আমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবো এবং তার জবাব দেব সবচেয়ে কঠোর উপায়ে দেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘নৌবহর’ ইরানের দিকে এগোচ্ছে, তবে তিনি আশা করেন সেটি ব্যবহার করতে হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার বিষয়ে নতুন করে সতর্ক করেন।

ইরানি কর্মকর্তা বলেন, আমেরিকানরা যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা জবাব দেবো। তবে তিনি সেই জবাব কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে রাজি হননি।

তিনি আরও বলেন, যে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সামরিক হুমকির মুখে রয়েছে, তাদের আর কোনো বিকল্প নেই।

এর আগে বিভিন্ন সময় উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে, যা সাধারণত প্রতিরক্ষামূলক ছিল। তবে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ করেছিল।


পাকিস্তানে সেনাবাহী ট্রেনে ভয়াবহ হামলায় নিহত ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬

পাকিস্তানে সেনাবাহী ট্রেনে ভয়াবহ হামলায় নিহত ২৪

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় সামরিক সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রেনে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের এই রক্তক্ষয়ী হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত এবং আরও ৭০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।


বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ট্রেনটির কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিসহ পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোয়েটার চমন ফাটক এলাকার রেললাইনের পাশে এই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার দিকে ধাবমান ‘জাফর এক্সপ্রেস’ নামের ট্রেনটিতে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য ছিলেন।

বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে এক আত্মঘাতী হামলাকারী আচমকা সেনা বহনকারী ট্রেনের বগিতে জোরালো ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে কয়েক মাইল দূর থেকেও এর বিকট শব্দ শোনা গেছে এবং এর ধাক্কায় ট্রেনের একটি বগি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে কয়েকটি কামরায় আগুন ধরে যায়।

বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং আশপাশে ভারী গোলাগুলির শব্দও শোনা যেতে থাকে। এই হামলায় ট্রেনের সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া রেললাইনের আশপাশের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও যানবাহন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা কর্ডন করে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগিগুলোর ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না, তা কেটে দেখার কাজ চলছে। আহতদের উদ্ধার করে কোয়েটার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে রেড অ্যালার্ট বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন- বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) মজিদ ব্রিগেড স্থানীয় গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাসদস্যদের বহনকারী নির্দিষ্ট বগিগুলোকে লক্ষ্য করেই তাদের আত্মঘাতী স্কোয়াড এই হামলাটি চালিয়েছে। বেলুচিস্তান প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্র বিভাগের বিশেষ সহকারী বাবর ইউসুফজাই জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে এবং পুলিশ বিস্ফোরণের প্রকৃত ধরন ও নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

উল্লেখ্য, জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলুচিস্তানের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার পর্যন্ত চলাচল করে এবং গত দুই বছরে এই ট্রেনটি একাধিকবার বালোচ বিদ্রোহীদের হামলার শিকার হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে এই ট্রেনে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

এর আগে গত বছরের মার্চে বালোচ বিদ্রোহীরা জাফর এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জিম্মি করলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২৬ সেনাসদস্য ও ৩৩ বিদ্রোহী নিহত হন। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরেই স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে এমন বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় অস্থিতিশীল। বিশেষ করে অঞ্চলটি বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায় এখানে প্রায়শই পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে টার্গেট করে হামলা চালানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি-এনডিটিভি