সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও দুজন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। সবশেষ মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে দুজনের বয়স ১ বছরের কম ও আরেকজনের বয়স ১ বছর ২ মাস।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ২৭০ জন রোগী। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮৩ জন ও এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জন রোগী ল্যাব টেস্টে শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি একই সময়ে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব পরীক্ষায় ১৬৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছরে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে চারজনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি শিশুরা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তাদের অধিকাংশই হৃদরোগ, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জন্ডিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিল। যার কারণ হিসেবে শিশুদের পুষ্টিহীনতার অভাবকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ওসমানী মেডিকেলে ২০টি এবং শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ১৪টি আইসিইউ বেড স্থাপন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী বেড সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৭ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ২, ময়মনসিংহে ২ এবং রাজশাহী বিভাগে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, নতুন করে ঢাকা বিভাগে ৫৬৩, রাজশাহীতে ৫১, সিলেটে ৩০, বরিশালে ১৩৭, চট্টগ্রামে ১৭৫, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ৭৮ এবং রংপুর বিভাগে ২১ জন রোগী হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার (২৭ মে) পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৫৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ২ সিলগালা করা হবে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) ডা, জাহিদ রায়হান এ তথ্য জানান।
তার মতে, পোস্ট অপারেটিভ থেকে এনআইসিইউতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকতে পারে। আর হাসপাতাল কতৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না বিস্তারিত জেনে জানাবেন বললেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালটির নবজাতক ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। আজ বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালে গুরুতর আহত আরও নবজাতক থাকার কথা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার কারণ ও অব্যবস্থাপনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর ।
খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় কয়েকজন রোগী র্যাবিস ভ্যাকসিন পেতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। কেউ কেউ ২৫০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে বলেও মন্ত্রীকে জানান। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গাজী রফিকুল ইসলামের কাছে এ পরিস্থিতির কারণ জানতে চান।
জবাবে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, আগে ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থল থেকেই ঢাকায় যোগাযোগ করে মন্ত্রী জানতে পারেন, ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোনো চাহিদাপত্র পাঠানো হয়নি। এ সময় তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
পরে হাসপাতালের রান্নাঘর পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কুমড়ার তরকারি মুখে দিয়ে তিনি তা ফেলে দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন?’
এ সময় হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে রোগীদের জন্য ভালো মানের খাবার সরবরাহের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শৌচাগারও ঘুরে দেখেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনার সিভিল সার্জন মোছা. মাহফুজা খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে এত রোগী যে কিছু অনিয়ম থাকবে। তবে কিছু অনিয়ম মানার মতো নয়, কিছু অনিয়ম হয়তো ক্ষমাযোগ্য। জনগণের স্বার্থে যতটুকু অ্যাকশন নেওয়া যায়, ততটুকু অ্যাকশনে যাব। এখানে অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিনের কথা আপনারা শুনেছেন, এ রকম হওয়ার কথা ছিল না। এটা আরেকটু খতিয়ে দেখব। তবে ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় রোগীরা কিন্তু সেবা ভালো পান বলেছেন।’
