?> এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দামেও স্থিতিশীলতা নেই। বর্তমানে জ্বালানি আমদানির উৎস হিসেবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, অন্য উৎসগুলোও ঠিক নেই। এ অবস্থায় ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানির দাম সহনীয় রাখতে সরকার কাজ করছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘটের চেষ্টা করলে ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগ করা হবে। কথায় কথায় ধর্মঘট ডেকে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। জনগণ আস্থা রেখে সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাই জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। ধর্মঘটের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে চলতি মাসেই আবারও বৈঠক হবে।

পাকিস্তান থেকে জাহাজে এবার যা যা এসেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪

পাকিস্তান থেকে জাহাজে এবার যা যা এসেছে

দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’। এবার জাহাজটিতে চিনি, আখের গুড়, ডলোমাইট, সোডা অ্যাশ, থ্রি-পিস, খেজুর ছাড়াও নানান ধরনের পণ্য এসেছে।

এসব পণ্যের ৮৬ শতাংশই পাকিস্তান থেকে এসেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত চিনি ও খনিজ পদার্থ ডলোমাইট।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কনটেইনারবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। গত ১১ ডিসেম্বর পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে ৮১১ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার নিয়ে জাহাজটি রওনা দেয়।

এই জাহাজটিই সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে প্রথমে পাকিস্তান এবং পরে ৩৭০টিইইউস কনটেইনার নিয়ে গত ১১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। সেসময় জাহাজটির বিভিন্ন কনটেইনারে সোডা অ্যাশ, ডলোমাইট চুনাপাথর, ম্যাগনেশিয়াম ভাঙা কাচ, কাঁচামাল কাপড়, রং, গাড়ির যন্ত্রাংশ, পেঁয়াজ, আলু, খেজুর, জিপসাম, পুরোনো লোহার টুকরা, মার্বেল ব্লক, কপার ওয়্যার, রেজিন এবং মাদক হুইস্কি, ভদকা ও ওয়াইন ছিল। ১২ নভেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে। ওইসময় তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। ফের সেই একই জাহাজ করাচি থেকে চট্টগ্রামে এসেছে দ্বিগুণেরও বেশি পণ্য নিয়ে। যদিও এর আগে পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে পণ্য আনা-নেওয়া হতো তৃতীয় কোনো বন্দরের মাধ্যমে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহাজটি কনটেইনার খালাস ও খালি কনটেইনার লোড করার জন্য বন্দরের এনসিটি জেটিতে দুদিন অবস্থান করবে। কাজ শেষে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার বন্দরের জন্য ৪০০ টিইইউ’স (২০ ফুট দীর্ঘ হিসাবে) এবং মালয়েশিয়ার বন্দরের জন্য ৬০০ টিইইউ’স খালি কনটেইনার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাহাজটিতে এবার আরব আমিরাত ও পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে ৮১১ একক কনটেইনার পণ্য। যা জাহাজটির প্রথম ট্রিপের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে ৬৭৮ একক কনটেইনার পণ্যই এসেছে পাকিস্তান থেকে। দেশটি থেকে এবার সবচেয়ে বেশি এসেছে পরিশোধিত চিনি ও খনিজ পদার্থ ডলোমাইট।

পাকিস্তান থেকে এবার ২৮৫ কনটেইনারে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০০ ব্যাগ চিনি আনা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন।

কাঁচশিল্পে ব্যবহারের জন্য চিনির পর পাকিস্তান থেকে সবচেয়ে বেশি আনা হয়েছে ডলোমাইট। এবার ১৭১ কনটেইনারে ডলোমাইট আমদানি হয়েছে। এই কাঁচামাল এনেছে নাসির ফ্লোট গ্লাস ও আকিজ গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ। পাকিস্তান থেকে আমদানি হওয়া আরেকটি পণ্য হলো সোডা অ্যাশ। এই পণ্য আমদানি হয়েছে ১৩৮ কনটেইনারে। শিল্পে ব্যবহারের এই কাঁচামাল এনেছে নাসির ফ্লোট গ্লাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো এনেছে কাপড়ের রোল। মোট ৪৬টি কনটেইনারে রয়েছে কাপড়ের রোল। আলু আমদানি হয়েছে ১৮ একক কনটেইনারে। এছাড়া জয়পুরহাটের পিঅ্যান্ডপি ট্রেডিং ২০ কনটেইনারে আখের গুড় এনেছে। এসব পণ্যের পাশাপাশি পুরোনো লোহার টুকরা, রেজিন, থ্রি-পিস ইত্যাদি পণ্য আমদানি হয়েছে।

পাকিস্তান ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আনা হয়েছে খাদ্যপণ্য, খেজুর, লুব অয়েল, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। পাকিস্তানের পাশাপাশি আমিরাত থেকেও ১০ কনটেইনার চিনি আমদানি হয়েছে।

‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি কর্ণফুলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিজেনসি লাইনস লিমিটেড এই সংস্থার বাংলাদেশে স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। দুবাই ভিত্তিক কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ফিডার লাইনস ডিএমসিসি দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম-মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া-ভারত-দুবাই রুটে ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ জাহাজটি চালু করেছে।

কর্ণফুলী লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আনিস উদ দৌলা বলেন, জাহাজটিতে প্রথমবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ কনটেইনার এসেছে। সরাসরি জাহাজটি আসায় সময় কয়েকদিন কম লাগছে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ সাশ্রয় হচ্ছে।

শিপিং এজেন্ট, বন্দর ব্যবহারকারী ও আমদানিকারকদের মতে, দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চালু হওয়ায় মেরিটাইমে গুরুত্বপূর্ণ দুই বিবেচ্য বিষয় ‘ভাড়া’ ও ‘সময়’ সাশ্রয় হচ্ছে। পাকিস্তান থেকে এত দিন শ্রীলঙ্কা বা সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রামে পণ্য আমদানি হতো। তাতে এসব কনটেইনার একবার এসব বন্দরে নামানো হতো। আবার চট্টগ্রামমুখী জাহাজে তুলে দেওয়া হতো। এতে সময় লাগতো বেশি। এখন সরাসরি জাহাজসেবা চালুর কারণে ১০ দিনে পণ্য হাতে পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।


জ্বালানির দাম দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশে কত?

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জ্বালানির দাম দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশে কত?

বিশ্ববাজারে ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ ভর্তুকি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। রোববার সরকারি এক প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশে দাম বাড়িয়ে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হঠাৎ করে মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খাতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে; যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।  

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে বাংলাদেশে যখন তুমুল আলোচনা চলছে, তখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কত; সেদিকে নজর রাখছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য এবং স্থানীয় মুদ্রার বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক রূপান্তর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই অঞ্চলের জ্বালানি বাজারে দামের বেশ বড় ব্যবধান রয়েছে।

বাংলাদেশে সোমবার থেকে নতুন দরে ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নতুন প্রজ্ঞাপনে এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনীতি ভারতে রাজ্যভেদে জ্বালানির দামে পার্থক্য রয়েছে। দেশটির জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং ও অ্যানালাইসিসের (পিপিএসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লিতে পেট্রোল ১০২.১২ ভারতীয় রুপি, অর্থাৎ প্রায় ১৩১ টাকা; ডিজেল ৯৫.২০ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২২ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।

পাকিস্তানে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী তিন দিনের জন্য নির্ধারিত দরে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেট্রোল ৩৮৯.১৪ পাকিস্তানি রুপি, যা বাংলাদেশি প্রায় ১৭২ টাকা; হাই-স্পিড ডিজেল ৪২৪.০৪ রুপি, প্রায় ১৮৮ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কায় গত ৩১ আগস্টের সর্বশেষ সরকারি মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোল ৩৯৯.০০ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৪৭.৬ টাকা) ও অটো ডিজেল ৩৮২.০০ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৪১.৩ টাকা) ধরে বিক্রি হচ্ছে।

নেপাল অয়েল করপোরেশনের তালিকায় প্রতি লিটার পেট্রোল ১৭৫.০০ নেপালি রুপি (প্রায় ১৪০.৩ টাকা) এবং ডিজেল ১৬৫.০০ নেপালি রুপিতে (প্রায় ১৩২.৩ টাকা) বিক্রি হচ্ছে।

ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে সরকারি ভর্তুকি-পরবর্তী পেট্রোল ৯৮ গুলট্রাম, প্রায় ১২৫ টাকা এবং ডিজেল ৯৮.৩১ গুলট্রাম, প্রায় ১২৬ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।

মালদ্বীপে রাষ্ট্রীয় মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৬.০১ রুফিয়া, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২৮ টাকা এবং ডিজেল ১৭.৫৪ রুফিয়া, প্রায় ১৪০ টাকা।

আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে সরকারি ওয়েবসাইটে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী পেট্রোল ও ডিজেলের নির্দিষ্ট খুচরা মূল্য পাওয়া যায়নি। দেশটির সরকারি আফগানিস্তান অয়েল অ্যান্ড গ্যাস করপোরেশন বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজার, সরবরাহ, পরিবহন, কর ও বিনিময় হারসহ বিভিন্ন কারণে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি দামে পরিবর্তন হচ্ছে।

সূত্র: পিপিএসি.গভ.ইন, ওজিআরএ.ওআরজি.পিকে, সিইওয়াপিইটিসিও.গভ.এলকে, এমওআইসিই.গভ.বিটি, এসটিও.এমভি।


ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬

ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পেট ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনার জন্য তুলে ধরেছে দেশটি।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া দুই দিনের এ সভায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পণ্য পরিবহনব্যবস্থা আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি বাণিজ্য প্রতিকারমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, তা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে সাফটা চুক্তির আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণেও জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার বিষয়টিও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।

স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয় সভায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম ও শেডের পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষা এবং কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়েছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ও রয়েছে আলোচ্যসূচিতে।

আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং সীমান্ত হাটসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্থলবন্দর, কাস্টমস ও সীমান্ত কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভৌগোলিক নৈকট্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করার পাশাপাশি সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সীমাবদ্ধতা নিরসন জরুরি। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে অগ্রগতি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সভায় অংশ নেয়।