?> বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে অর্থনীতির এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের হিসাবের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। একইভাবে ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাসও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগ কার্যক্রম দুর্বল হয়েছে, রপ্তানির গতি কমেছে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে ব্যবসার খরচও বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতির কারণে দেশের বৈদেশিক খাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং নারীরা কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।

এদিকে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৮ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। তবে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

অন্যদিকে চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার এ অঞ্চলের র্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।


দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিউমার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিউমার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটির দিনে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় জমে উঠেছে কেনাকাটা। সকাল থেকেই নিউমার্কেট ও আশপাশের বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে নতুন পোশাক কেনার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করছেন অনেকে। ছুটির দিনে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারাও।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে কেনাকাটার এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূজার সময় নিউমার্কেট এলাকায় বাড়তি ভিড় ও যানজটের কারণে কেনাকাটায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ কারণে শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে অনেকেই আগেভাগে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে পছন্দের পোশাক কিনতে এসেছেন অনেকে। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি থাকায় দোকান ও ফুটপাতের বিভিন্ন পণ্যের দোকানে কেনাকাটার ব্যস্ততা দেখা গেছে।

নিউমার্কেট এলাকায় তুলনামূলকভাবে ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেশি বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, থ্রি-পিস, শিশুদের পোশাকসহ নানা ধরনের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে এসব দোকানে।

বিভিন্ন দামের পোশাক থাকায় ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন।

ফুটপাতের দোকানগুলোতে পোশাকের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। কেউ নিজের জন্য পোশাক কিনছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য একসঙ্গে কয়েকটি পোশাক বেছে নিচ্ছেন। দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ায় বিক্রেতাদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে। দরদাম করে পছন্দের পোশাক কিনতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের।

ছুটির দিনে ক্রেতাদের এমন উপস্থিতিতে খুশি বিক্রেতারা। পূজাকে কেন্দ্র করে বিক্রি বাড়ার প্রত্যাশা করছেন তারা। সারা দিনের বিক্রির ওপর নির্ভর করছে তাদের আয়। তাই ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পোশাক সাজিয়ে রেখে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নিউমার্কেট কেনাকাটা করতে আসা দীপ্তি বিশ্বাস বলেন, কিছুদিন পরে পূজা। শেষ মুহুর্তে ভিড় জমবে তাই আগেই কেনাকাটা করতে আসলাম। এখন স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারছি।

আরেক ক্রেতা অলোক মন্ডল বলেন, বৌ-বাচ্চা নিয়ে কেনাকাটা করতে আসছি। মার্কেট থেকে কিছু কেনাকাটা করলাম। ফুটপাত থেকেও কিনলাম। কাপড় প্রায় একই। ফুটপাতে একটু কম দামে কিনতে পারা যায়।

নিউমার্কেটের গ্লোব শপিং মার্কেটের বিক্রেতা আমানুর বলেন, বিক্রি হচ্ছে ভালোই। এমনিতেই ছুটির দিনে একটু ভিড় থাকে, তারপর সামনে পূজাকে কেন্দ্র করে ক্রেতা সমাগম বেশী। আমরা ভালো বিক্রি নিয়ে আশাবাদী।

ফুটপাতের বিক্রেতা রবিন বলেন,আমরা অল্প লাভে মাল বিক্রি করি। আমাদের সেল বেশি, লাভ কম। বেশি বিক্রি হওয়ায় পুষিয়ে যায়। ভালো বেঁচাবিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকেই ভিড়। রাত পর্যন্ত ভিড় থাকবে।

সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিউমার্কেট এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পূজার আনন্দকে সামনে রেখে কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতা ও বিক্রেতারা। তবে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে ক্রেতাদের বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে।

নিউমার্কেট এলাকায় ক্রেতা সমাগম বাড়ায় প্রধান সড়কে যানযট তৈরি হয়েছে। ছুটির দিকে সড়ক অনেকটা ফাঁকা থাকলেও আজ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের টহন গাড়িও দেখা গেছে।


বন্ধ পাটকল চালুতে সরকারের বড় উদ্যোগ, তৈরি হবে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বন্ধ পাটকল চালুতে সরকারের বড় উদ্যোগ, তৈরি হবে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

বিএনপি সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যেই লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু হওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীন আরও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মিলগুলো হলো— চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড ও নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল।


বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দুইটি কোম্পানির সঙ্গে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে হ্যামকো গ্রুপ পেয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিলগুলো চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এটির বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এখান থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, সংস্থাটির মালিকানায় বর্তমানে ২৫টি পাটকল রয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় এসব মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৭টির লিজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি তিনটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মিল দুটি হলো- ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মামুনুর রশিদ আরও বলেন, চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং খুলনার আলিম জুটমিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলস ফেরত পাওয়া গেছে এবং লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা ও অব্যবহৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশে পাটের ব্যবহার বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসবে।

পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়। পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে (৫ থেকে ২০ বছর) বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের পাটকল চালুর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পখাতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে ও পরিবেশবান্ধব পাটশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সূত্র: বাসস


বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের নীতির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও নীতির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়-দায়িত্বের বোঝা বহন করতে হচ্ছে সরকারকে। এর সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও রয়েছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার যেসব নীতি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে সংস্থাটি একমত।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামীদিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত। এ বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।


১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি


বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, আমি এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আমি অনেকগুলো ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি এখানে-সেখানে। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে একটা ফলোআপ হবে। এটা একটা প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এখনকার আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বরং ভবিষ্যতে দুই পক্ষ যেসব কাজ করবে এবং যেসব সিদ্ধান্ত নেবে, তার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে এই আলোচনার মাধ্যমে। আলোচনা ঢাকায়ও চলবে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

তবে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তি তৈরি করা দরকার, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি ও মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। কীভাবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক কী হবে, তা লিখিতভাবে জমা দিয়েছি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই কাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজস্ব সুপারিশ দিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আলোচনা চলছে।


মূল্যস্ফীতি-জিডিপি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার। সংস্থাগুলো নিজ নিজ হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা কারও প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা তাদের হিসাবে তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এটাই মূল কথা।