প্রতারণার মামলায় বিদিশার ২ বছরের কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
?>
প্রতারণার এক মামলায় মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশা সিদ্দিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁকে। একই সঙ্গে তাঁর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর গুলশান থানার মামলায় রায় দিয়েছেন আদালত।
২০০৮ সালে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী ওই মামলা করেছিলেন।
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে লাগা আগুন প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। সেনাবাহিনী ও বিজেপিসহ আগুন নেভাতে টঙ্গী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্টেশনের ২১টি ইউনিট কাজ করে। তবে আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পর্যায়ক্রমে আরও ১৩টি ইউনিট যুক্ত করা হয়। মোট ২১টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় প্রায় চার ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহিন আলম বলেন, সকাল ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে টঙ্গী ও গাজীপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
কারখানাটির কোন অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, আগুনে ওষুধ, কাঁচামাল বা উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ কমাতে এবং কাজের গতিশীলতা আনতে বর্তমান সরকার খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় ৫ থেকে ৮ জন নতুন মুখ যুক্ত করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্তও আসতে পারে। এদিকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন দীপেন দেওয়ান।
সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রগুলো বলছে, তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ এমপির নাম বেশ আলোচনায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।
পাশাপাশি নরসিংদী থেকে আরও একজনকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এছাড়া নেত্রকোনা থেকে একজন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের একজন নারী এমপির নাম মন্ত্রী হিসেবে বেশ আলোচনা রয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার একজন সিনিয়র বিএনপি নেতাকেও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় শিগগিরই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, খুলনা, ঢাকা ও বৃহত্তর পাবনা জেলা থেকেও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন কয়েকজন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের কাউকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। সেইসঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে।
এদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বেশ বিব্রত ও অস্বস্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দীপেন দেওয়ান সত্যিই অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে সরকার ও প্রশাসনে। দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উৎস: দেশ রুপান্তর।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৯ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বুধবার সন্ধ্যা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পরে আটক কিশোরদের থানায় আনার পর তাদের স্বজন ও অভিভাবকদের ভিড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং ২৮ কিশোর ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যায়।
বুধবার রাত ৮টার দিকে দাউদকান্দি মডেল থানা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানার ভেতরে ভাঙচুর এবং কিশোরদের বেরিয়ে যাওয়ার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থানার ভেতরে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে অস্থিরভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিভিন্ন কক্ষে মানুষের প্রবেশ ও হট্টগোলের কারণে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।
তবে ওসি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের খুঁজতে দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে মোট ৫৯ জনকে আটক করা হয়।
ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, “সর্বমোট ৫৯ আটক করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আটক কিশোরদের মধ্যে একটি কক্ষে ২৮ জন অবস্থান করছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকরা থানায় এসে সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেন। ওসির দাবি, বাইরে থেকেও কেউ কেউ উত্তেজনা ছড়ায় এবং থানার দিকে ঢিল ছোড়ে। এ সময় একটি পুরোনো দরজার একটি অংশ খুলে যায় এবং মানুষের ভিড়ে কয়েকটি চেয়ার উল্টে যায়।
অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ২৮ কিশোরকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। এ সময় থানার ভেতরে ব্যাপক ভিড় ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
ঘটনার পর থানার সামনে আটক কিশোরদের অভিভাবক ও স্বজনদের পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের তৎপর হতে দেখা যায়।
আটক কিশোরদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তবে কিশোরদের স্বজনদের দাবি, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড নেই।
ওসি জানান, তথ্য যাচাই করে আটক কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ আটকের পর যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকাতেও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলছে বলে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, রাতভর অভিযান চলবে। অভিযান শেষে কতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কতজন আটক রয়েছে, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর গণমাধ্যমকে সঠিক সংখ্যা জানানো হবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় একদিকে পুলিশের দাবি, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের হট্টগোলে একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যাওয়াসহ কিছু চেয়ার উল্টে যায়। অন্যদিকে ঘটনাস্থলের ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে থানার ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ফলে কিশোরদের আটকের কারণ, থানায় সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং ২৮ কিশোরের বেরিয়ে যাওয়ার পুরো ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
