শেয়ার বাজার

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বার্তাবেলা: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হায়দারের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে এ মামলায় তাদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়। এদিন আসামিরা হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ মার্চ মামলার বাদী তানভীর হোসেন বিজ্ঞাপন দেখে একটি মোটরসাইকেল কেনা বাবদ দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। তবে নির্দিষ্ট ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও আসামিরা তা সরবরাহ কর‍তে ব্যর্থ হন।

এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর ইভ্যালি পণ্যের সমমূল্যের একটা চেক প্রদান করেন। এরপর চেকটি নগদায়নের জন্য একাধিক ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিজঅনার হয়। এ বিষয়ে সবশেষ গত বছরের ২২ অক্টোবর তাদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শামীমা নাসরিন ও মো. রাসেলের বিরুদ্ধে বাদী মামলা করেন।

ই-কমার্সে প্রতারণার আটক টাকা কীভাবে ফেরত, জানতে চান আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

ই-কমার্সে প্রতারণার আটক টাকা কীভাবে ফেরত, জানতে চান আপিল বিভাগ

বার্তাবেলা ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন অনলাইন ভিত্তিক কোম্পানি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পর প্রতারণার শিকার ও আটকে থাকা টাকা গ্রাহকরা কীভাবে ফেরত পাবেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি (এমএলএম) ইউনিপে-টু-ইউ সংক্রান্ত এক শুনানিতে মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বিচারপতির আপিল বিভাগ এমন প্রশ্ন তোলেন।

এসময় দুদকের পক্ষে শুনানি করা সিনিয়র আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খানের কাছে আদালত জানতে চান, ‘ইউনিপে-টু-ইউ, ইভ্যালি, আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকরা ফেরত পাবেন কীভাবে? গ্রাহকদের-তো টাকা ফেরত পেতে হবে।


২৮৫ প্রতিবন্ধীকে প্রাথমিকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

২৮৫ প্রতিবন্ধীকে প্রাথমিকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের

বার্তাবেলা: ২৮৫ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রোববার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

রায়ের পর রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্টের আজকের রায় যুগান্তকারী। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করবেন।

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বিনা পয়সায় প্রতিবন্ধীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ২৮৫ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোটার ভিত্তিতে নিয়োগে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রায়ের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

গত সপ্তাহে ২৮৫ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোটার ভিত্তিতে নিয়োগে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। গত ১৭ জানুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটায় বিভিন্ন উপজেলায় ১১৪ সহকারী শিক্ষক পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রতিবন্ধী কোটায় কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে না- তা জানতে রুল জারি করেন আদালত।

এর আগে ১১৪ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোটার ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।  একই বিষয়ে পরে ১৭১ জন পৃথক আরও তিনটি রিট দায়ের করেন।

রিটে সম্প্রতি ৩৭ হাজার ৫৭৪ জনকে নিয়োগে প্রতিবন্ধী কোটা থেকে নিয়োগ না দেওয়ার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। সেখানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়। মো. মাহাবুব শেখ, মো. আবু জাহিদ, ফাহিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, পার্থ প্রতীম, শাজাহান শেখ, মো. মনোয়ার হোসেন, মো. আজিজুল ইসলাম, বৃষ্টি রানি রায়, মো. সাজ্জাদ হোসেন সাজু ও মো. নূর আলমসহ বিভিন্ন জেলার মোট ২৪৫ প্রতিবন্ধী প্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেন।


শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাবা-মা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। 

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তারা এই সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রামিসার বাবা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অসুস্থ বোধ করায় আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসে তার জবানবন্দি শেষ করেন।

আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। বনানীতে নিজের কর্মস্থলে পৌঁছানোর পরপরই তার স্ত্রী পারভীন আক্তারের ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। সেখানে এসে ভবনের সামনে প্রচুর মানুষের ভিড় দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে তার স্ত্রী জানান যে রামিসা ওই ঘরের ভেতরে আটকে আছে।
 
তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকজন দরজা ভাঙার চেষ্টা করার একপর্যায়ে ভেতর থেকে মূল লক খুলে দেন আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। সবাই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতেই টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান। এরপর আসামিদের ব্যবহৃত কক্ষের স্টিলের খাটটি উঁচু করতেই নিজের মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পুলিশ এসে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে তিনি থানায় গিয়ে মামলা করেন।

জেরার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী জানতে চান তিনি পুরো ঘটনা নিজ চোখে দেখেছেন কি না। জবাবে আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি, তা-ই বলেছি। আসামিদের সঙ্গে পূর্ব কোনো শত্রুতা বা চেনা-পরিচয় থাকার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

একই আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে রামিসার মা পারভীন আক্তার বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি রান্না করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসাকে বলেছিলেন ছোট বোন রামিসাকে নিয়ে চাচার বাসায় যেতে। রান্নাঘরে থাকায় দুই শিশুর শব্দ না পেয়ে তিনি ভেবেছিলেন তারা চলে গেছে। এর কিছুক্ষণ পর একটি চিৎকারের শব্দ শুনলেও সেটি দূর থেকে আসছে বলে মনে হয়েছিল তার। পরে বড় মেয়ে একা ফিরে এলে রামিসাকে না পেয়ে তিনি ভবনের বিভিন্ন তলায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পারভীন আক্তার বলেন, খোঁজার একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের দরজার নিচে তিনি রামিসার জুতা দেখতে পান। এরপর বারবার ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলছিল না। তখন তিনি চিৎকার শুরু করলে ভবনের অন্য বাসিন্দারা জড়ো হন এবং তিনি স্বামীকে ফোন দেন। রাজু নামের এক যুবক দরজার ফাঁক দিয়ে মুঠোফোনে ভিডিও করলে দেখা যায় ভেতরে স্বপ্না খাতুন হাঁটাহাঁটি করছেন।

আদালতে কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের দেখিয়ে পারভীন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বপ্না খাতুনকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ওরে ওই সময় বলছি, বোন দরজা খুলে দে। আর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে দেখিয়ে বলেন, এই লোকই ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। জেরার জবাবে তিনি বলেন, সোহেল রানা খুন করেছেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে সহযোগিতা করেছেন। ঘটনার পর সোহেল রানার জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনেছেন বলেও আদালতকে জানান। 

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিন ধার্য করেন।