?> দাউদকান্দিতে থানায় ভাঙচুর করে ‘ভুয়া’ স্লোগানে বেরিয়ে গেল ২৮ কিশোর, আটক ৫৯ | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

দাউদকান্দিতে থানায় ভাঙচুর করে ‘ভুয়া’ স্লোগানে বেরিয়ে গেল ২৮ কিশোর, আটক ৫৯

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাউদকান্দিতে থানায় ভাঙচুর করে ‘ভুয়া’ স্লোগানে বেরিয়ে গেল ২৮ কিশোর, আটক ৫৯

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৯ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বুধবার সন্ধ্যা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পরে আটক কিশোরদের থানায় আনার পর তাদের স্বজন ও অভিভাবকদের ভিড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং ২৮ কিশোর ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যায়।

বুধবার রাত ৮টার দিকে দাউদকান্দি মডেল থানা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানার ভেতরে ভাঙচুর এবং কিশোরদের বেরিয়ে যাওয়ার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থানার ভেতরে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে অস্থিরভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিভিন্ন কক্ষে মানুষের প্রবেশ ও হট্টগোলের কারণে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিকে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।

তবে ওসি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের খুঁজতে দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে মোট ৫৯ জনকে আটক করা হয়।

ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, “সর্বমোট ৫৯ আটক করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আটক কিশোরদের মধ্যে একটি কক্ষে ২৮ জন অবস্থান করছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকরা থানায় এসে সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেন। ওসির দাবি, বাইরে থেকেও কেউ কেউ উত্তেজনা ছড়ায় এবং থানার দিকে ঢিল ছোড়ে। এ সময় একটি পুরোনো দরজার একটি অংশ খুলে যায় এবং মানুষের ভিড়ে কয়েকটি চেয়ার উল্টে যায়।

অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ২৮ কিশোরকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। এ সময় থানার ভেতরে ব্যাপক ভিড় ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।

ঘটনার পর থানার সামনে আটক কিশোরদের অভিভাবক ও স্বজনদের পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের তৎপর হতে দেখা যায়।

আটক কিশোরদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তবে কিশোরদের স্বজনদের দাবি, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড নেই।

ওসি জানান, তথ্য যাচাই করে আটক কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ আটকের পর যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকাতেও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলছে বলে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, রাতভর অভিযান চলবে। অভিযান শেষে কতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কতজন আটক রয়েছে, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর গণমাধ্যমকে সঠিক সংখ্যা জানানো হবে।

দাউদকান্দির ঘটনায় একদিকে পুলিশের দাবি, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের হট্টগোলে একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যাওয়াসহ কিছু চেয়ার উল্টে যায়। অন্যদিকে ঘটনাস্থলের ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে থানার ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ফলে কিশোরদের আটকের কারণ, থানায় সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং ২৮ কিশোরের বেরিয়ে যাওয়ার পুরো ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে বিজিবির গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬

পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে বিজিবির গুলি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কলসিরমুখ সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারি লক্ষ্য করে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে বিজিবি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শুক্রবার (২২ মে) মধ্যরাতে আড়াইটার দিকে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের কলসিমুখ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত মধ্যরাতে (আড়াইটার দিকে) পাটগ্রাম উপজেলার কলসিরমুখ এলাকার মেইন পিলার-৮০৬ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পশ্চিম গিয়ারপাড়া এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করছিল বিজিবির একটি দল। এসময় ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে থাকা একটি চোরাকারবারী দলকে দেখতে পায় টহল সদস্যরা।

পরে বিজিবি সদস্যরা চোরাকারবারীদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা নির্দেশ অমান্য করে বিজিবির দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং চোরাকারবারীদের সতর্ক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার রফিকুল ইসলামের নির্দেশে টহল সদস্যরা ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ফাঁকা গুলির শব্দে চোরাকারবারীরা দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রংপুর-৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে ফাকা গুলি ছোড়া হয়েছে। সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে। এছাড়া কলসিরমুখ সীমান্ত এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন বলেও জানান তিনি।


রামিসার ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬

রামিসার ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা (৭) হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ মে) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। এই নৃশংস ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজই আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে যাচ্ছে পুলিশ।

এর আগে, গতকাল শনিবার (২৩ মে) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসাকে নির্যাতনের পর হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই দিনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে সে তাকে জোরপূর্বক নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরই মধ্যে রামিসার মা তাকে খুঁজতে এসে দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে, ধরা পড়ার ভয়ে সোহেল রানা শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহ ক্ষতবিক্ষত করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে।

পুলিশের আবেদন ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে নেওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্বজন ও প্রতিবেশীরা রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পুলিশি তৎপরতায় রক্ষা পাননি প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতের জবানবন্দি উভয় জায়গাতেই সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। আজ আদালতে চার্জশিট জমার মধ্য দিয়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে।


জামালপুর শহরে স্কুলের পাশেই ২৫ দিন ধরে অনবরত গ্যাস লিকেজ, আতঙ্কে ২শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

জামালপুর শহরে স্কুলের পাশেই ২৫ দিন ধরে অনবরত গ্যাস লিকেজ, আতঙ্কে ২শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

জামালপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ এলাকায় সড়ক সংস্কারের সময় গ্যাস পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের। গত প্রায় ২৫ দিন ধরে সংস্কার কাজের স্থানে তিতাস গ্যাসের পাইপ ফেটে গ্যাস নির্গত হলেও পৌরসভা বা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে রয়েছে সড়কের পাশেই অবস্থিত মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ থেকে ৫ মাস আগে  জামালপুর পৌরশহরের ৪ নং ওয়ার্ডে মুসলিমাবাদ এলাকার পরিচর্যা ক্লিনিক থেকে মুসলিমাবাদ জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১শত মিটার সড়ক  সংস্কারের কাজ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজটির ধীরগতির কারণে পথচারী ও এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত মাসের শেষের দিকে রাস্তা সমান করার উদ্দেশ্যে ভারী রোলার মেশিন চালানোর সময় রাস্তার তলদেশে থাকা তিতাস গ্যাসের প্রধান সংযোগ পাইপ লাইনটির দুটি স্থানে ফাটলের সৃষ্টি হয়। ফাটল সৃষ্টির পরপরই সেখান থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাটি প্রায় ২৫ দিন পার হয়ে গেলেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষক ভাঙ্গা অংশটি মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। খোলা জায়গায় অনবরত গ্যাস লিক হতে থাকায় পুরো এলাকা জুড়ে অগ্নিকাণ্ডের তীব্র ঝুকি তৈরি হয়েছে। যে কোনো সময় পথচারীদের অসাবধানতাবশত ফেলা দেশলাইয়ের কাঠি বা সিগারেটের আগুন থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, যে জায়গায় পাইপ ফেটে গ্যাস নির্গত হচ্ছে, তার একেবারেই গা ঘেষে অবস্থিত মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রায় দুই শত শিশু পড়াশোনা করতে আসে। অনবরত গ্যাস লিকের ফলে বাতাসে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিশুর শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতার ঝুকি বাড়ছে। পাশাপাশি যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এই শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির মতো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় বাসিন্দ ফারহান আহমেদ বাদল বলেন, এ রাস্তাটির কাজ করার সময় রোলার দিয়ে রাস্তার মাটি সমতল করার সময় রোলারের চাপে রাস্তার নিচে থাকা গ্যাসের পাইপ ফেটে গেছে। এরপর থেকেই এখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। প্রায় ২৫ দিন ধরে গ্যাস বের হলেও এটা এখনো ঠিক করা হয়নি। আমরা আতঙ্কে আছি, এখানে যে কোন সময় বড় ধরনের আগুন লাগতে পারে।

আঙ্গুর নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমরা অনেক আতঙ্কে আছি। এ রাস্তা দিয়ে মানুষ সিগারেট খেয়ে খেয়ে যায়। সিগারেটের আগুন থেকেও যে কোন সময় আগুন ধরতে পারে। বিশ্বাস না হলে একটা মেসের কাঠি ফেলে দেখেন। এখান দিয়ে এ লাইনের সব গ্যাস বের হয়ে যায়। ফলে আমরা বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ পায় না। আমরা এটা দ্রুত ঠিক করার দাবি জানাচ্ছি।

নিরব হোসেন (১১) নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এ রাস্তা দিয়েই স্কুলে যায়, বিকেলে এখানেই খেলি। গ্যাসের কেমন জানি একটা গন্ধ বের হয়। মাঝে মাঝে গ্যাসের কারণে শরীর চুলকাই।

রাস্তা সংস্কারের সময় গ্যাসের পাইপ ফাটার বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর পৌরসভার সচিব মো: হাফিজুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমি বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন জামালপুরে ম্যানেজার দুর্জয় বলেন, যে স্থানে পাইপ ফেটে ছিলো ওই জায়গায় পানি ছিলো তাই ওটা এতদিন ঠিক করা যায়নি। আমরা আজ থেকে কাজ শুরু করেছি আশা করি কালকের মধ্যে এটা ঠিক হয়ে যাবে।ফজলে এলাহী মাকাম,জামালপুর।