?> বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাক্রম- | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাক্রম-

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাক্রম-

বার্তাবেলা ডেস্ক: ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ২ মিনিট: পিলখানায় দরবার শুরু। দরবারে মোট উপস্থিত ছিলেন দুই হাজার ৫৬০ জন।

৯টা ২৬ মিনিট: ডিজির বক্তব্য চলাকালে মঞ্চের বাম দিকের পেছন থেকে দুজন বিদ্রোহী অতর্কিত মঞ্চে প্রবেশ করেন। এদের একজন ছিলেন সশস্ত্র। বিদ্রোহ শুরু হয়।

৯টা ৩০ মিনিট: ডিজি নিজে প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ অন্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে দ্রুত সেনা হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান।

১০টা ১৫ মিনিট: র‌্যাবের একটি দল পিলখানার ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফটকে পৌঁছায়।

১০টা ৩০ মিনিট: বিদ্রোহীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে দরবার হলে ঢোকেন এবং কর্মকর্তাদের বের হয়ে আসার নির্দেশ দেন। ওইসময় ডিজিকে বৃত্তাকারে ঘিরে কর্মকর্তারা মঞ্চের পেছন দিক থেকে বের হয়ে আসেন।

আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিট: ডিজির নেতৃত্বে কর্মকর্তারা এক সারিতে দরবার হল থেকে বের হয়ে মাত্র সিঁড়িতে কয়েক পা দিয়েছেন, তখনই বাইরে দাঁড়ানো মুখ বাঁধা সৈনিকরা ব্রাশফায়ার করে। মুহূর্তে ঢলে পড়েন ডিজিসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।

বেলা ১১টা: বিদ্রোহীরা ম্যাগাজিন ভেঙে গুলি-বারুদ সংগ্রহ করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগার ভেঙে অস্ত্র লুট করেন তারা। ১১টা নাগাদ সেনাবাহিনীর একটি দল ধানমন্ডির মেডিনোভা ক্লিনিকের সামনে অবস্থান নেয়। বিদ্রোহীরা ১৬টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। বাইরে থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পিলখানায় বিদ্রোহীদের প্রতি অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট ছাড়া হয়। এসময় হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। হেলিকপ্টারে ছয়টি গুলি লাগে।

১২টা ৩০ মিনিট: ৩ নম্বর ফটকের সামনে বিডিআরের পক্ষে শতাধিক মানুষের একটি মিছিল হয়। এরপর বিদ্রোহীরা প্রায় ২০ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। তারা মাইকে জানান, আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একা আসতে হবে।

১টা ৩০ মিনিট: আলোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রীকরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাদা পতাকা নিয়ে ৪ নম্বর ফটকের সামনে যান প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সরকারি দলের হুইপ মির্জা আজম।

বিকেল ৩টা: প্রতিমন্ত্রী নানক, সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস ও হুইপ মির্জা আজমের সঙ্গে ফটকের সামনে অবস্থানরত বিডিআর বিদ্রোহীরা কথা বলতে রাজি হন। তারা বিদ্রোহীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে রাজি করান।


৩টা ৪০ মিনিট: তারা ১৪ সদস্যের বিডিআর প্রতিনিধিদলকে নিয়ে সরকারি অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করেন। যমুনায় তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তখন যমুনায় তিন বাহিনীর প্রধান, আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যা ৬টা: আলোচনা শেষে জাহাঙ্গীর কবির নানক অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, বিডিআর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহী সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন এবং অস্ত্র জমা দিয়ে তাদের ব্যারাকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

৬টা ৪৫ মিনিট: যমুনা থেকে বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে নানক ও মির্জা আজম পিলখানায় ফেরেন।

সন্ধ্যা ৭টা: প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকে গেজেট আকারে প্রকাশের দাবি করেন এবং আগের মতো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন জওয়ানরা।

রাত ৮টা: ধানমন্ডির হোটেল আম্বালা-ইনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সঙ্গে বিদ্রোহীদের আরেকটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক শুরু। নানক ও মির্জা আজম, পুলিশের আইজি, র‌্যাবের ডিজি, গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও ছিলেন।

এর আগে সন্ধ্যার পর পিলখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কর্মকর্তাদের মরদেহ সরানো শুরু ও পুঁতে ফেলা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাত ১টা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রী ও আইজিপি পিলখানার ভেতরে যান এবং বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

রাত ১টা ৩০ মিনিট: বিদ্রোহীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কিছু অস্ত্র সমর্পণ করেন।

২৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা ১০ মিনিট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আটকে পড়া ১৫ জন জিম্মিকে বের করে আনেন।

সকাল সাড়ে ৯টা: মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও সংসদ সদস্য তাপস বিডিআর সদর দপ্তরের ৪ নম্বর ফটকে উপস্থিত হন।

সকাল ১০টা: যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ ও মহাজোটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠক শুরু।

বেলা ১১টা ৩০ মিনিট: প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এরপর তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক।

দুপুর ১টা ৩০ মিনিট: সংসদ সদস্য মাহবুব আরা ও সেগুফতা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল পিলখানায় যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা তিন সেনা কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের বের করে আনেন। একই সময়ে হোটেল আম্বালায় মতিয়া চৌধুরী ও এরশাদসহ অন্যদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের বৈঠক ভেঙে যায়।

বিদ্রোহীদের দুপুর ২টার মধ্যে সব অস্ত্র জমা দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় সরকার। পিলখানার মূল ফটকে জওয়ানদের আবার গুলিবর্ষণ।

দুপুর ২টা ৩০ মিনিট: সরকারের ১২ সদস্যের মধ্যস্থতাকারী কমিটি গঠন। আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে এই কমিটি পিলখানায় যায়। কমিটি বিদ্রোহীদের সঙ্গে হোটেল আম্বালায় আবার বৈঠক করে।

টেলিভিশন ও বেতারে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচার। বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ করে ব্যারাকে ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভাষণের পর বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।

বিকেল ৪টা: হোটেল আম্বালায় অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের বৈঠক। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নানক ও মির্জা আজম পিলখানার ভেতরে যান।

বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ শুরু।

সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট: সমর্পিত অস্ত্র হেফাজতে নিতে পিলখানায় পুলিশের প্রবেশ। রাতে পুলিশ পিলখানায় অবস্থান নেয়।

রাত ৮টা ৩০ মিনিট: পিলখানা থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা—পরিস্থিতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মামলার রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন

২০০৯ সালের বর্বরোচিত এ ঘটনার পর দুটি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এরমধ্যে বিস্ফোরক মামলাটির শুনানি এখনো নিম্ন আদালতে বিচারাধীন। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে ৮৫০ আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৭৮ জনকে খালাস দেন আদালত। রায় ঘোষণার আগেই মারা যান চার আসামি।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিপরীতে আসামিরা উচ্চ আদালতে যান। শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর ৫৫২ জনকে বিচারের আওতায় এনে বাকি ২৮৩ জনকে খালাস দেন আদালত।

উচ্চ আদালতে শুনানি চলাকালে আরও ১১ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট ৮৩৫ জনের বিরুদ্ধে শুনানি হয় আলোচিত এ মামলায়।

নিম্ন আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে খালাস দেন হাইকোর্ট। এরপর আসামিদের অনেকেই আপিল বিভাগে আপিল করেন, যার শুনানি এখনো শুরু হয়নি। আর বিস্ফোরক মামলাটির বিচার এখনো চলছে নিম্ন আদালতেই।

বিডিআর পুনর্গঠন ও বিজিবি গঠন

পিলখানায় এ বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়। শুরু হয় বিডিআর পুনর্গঠনের কাজ। বিডিআরের নাম, পোশাক, লোগো ও সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করা হয়। জাতীয় সংসদে ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০’ পাস হয়। ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি বাহিনীর সদরদপ্তরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নতুন পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন এবং মনোগ্রাম উন্মোচন করেন। এর মধ্যদিয়ে শুরু হয় এ বাহিনীর নতুন পথচলা।

১২৪ এজেন্সির নিবন্ধিত হজযাত্রী নেই, ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি;ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৪

১২৪ এজেন্সির নিবন্ধিত হজযাত্রী নেই, ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি;ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

আগামী বছরের হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমতি পাওয়া এজেন্সির মধ্যে ১২৪টির কোনো প্রাক/নিবন্ধিত বা প্রাথমিক নিবন্ধিত হজযাত্রী নেই।

শর্ত অনুযায়ী এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এ বিষয়ে হজ এজেন্সিগুলোর কাছে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় হিজরি ১৪৪৬/২০২৫ সালের হজের জন্য মোট ৮৯১টি হজ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকার শর্তাবলি ১(ঝ) এর শর্ত নিম্নরূপ-প্রকাশিত তালিকার কোনো এজেন্সি হজ ২০২৫ মৌসুমে যৌক্তিক কারণ ছাড়া হজযাত্রী নিবন্ধন না করলে সেই এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এতে আরও বলা হয়, হজ ২০২৫ সালের জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। কিন্তু অনুমোদিত তালিকায় প্রকাশিত হজ এজেন্সির মধ্যে ১২৪টি হজ এজেন্সির কোনো প্রাক-নিবন্ধিত/প্রাথমিক নিবন্ধিত হজযাত্রী নেই।

এ অবস্থায় ১২৪টি হজ এজেন্সিকে দ্রুত হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন/প্রাথমিক নিবন্ধন করার জন্য অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। ৩০ অক্টোবর হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন। শনিবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ৮ হাজার ৩৩৪ জন প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন।


দূরপাল্লায় কিলোমিটারে ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দূরপাল্লায় কিলোমিটারে ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাবে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং রাজধানীসহ শহরাঞ্চলে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভাড়া কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। এরপর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন ভাড়া কার্যকর করা হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাসভাড়া সমন্বয় নিয়ে বৈঠক হয়। এতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দূরপাল্লার পথে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং শহরাঞ্চলে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর নীতিগত প্রস্তাব করা হয়।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে অন্যান্য খরচও বিবেচনায় নিয়ে সাধারণত বাসভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তবে এবার শুধু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত রোববার সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, সাধারণ হিসাবে ডিজেলের দাম এক টাকা বাড়লে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় এক পয়সা বাড়ে। সে হিসাবে এবার ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা এবং শহরের বাসে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন ভাড়া নির্ধারণে দেরি হলে বাড়তি দামে জ্বালানি কেনার কারণে মালিক-শ্রমিকেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারেন।

বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং মিনিবাসে ২ টাকা ৪২ পয়সা। দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা।

তবে এসি বাস, মালবাহী যানবাহন ও কিছু অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। এসব ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকেরা ভাড়া নির্ধারণ করেন।

এদিকে বিআরটিএর প্রস্তাব করা ১৮ ও ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির হার চূড়ান্ত পর্যায়ে কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপনে নতুন ভাড়া নির্ধারিত হবে।


সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় কাউছার হোসেন রকি

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় কাউছার হোসেন রকি

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাভোগের কারণে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা কাউছার হোসেন রকি। বর্তমানে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া কাউছার হোসেন রকি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে।

রকির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর মুক্তির দাবিতে গঠিত ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৩-১৪ সালের লাগাতার হরতাল-অবরোধ ও তৎকালীন একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনেও তিনি মাঠে ছিলেন।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ৮ নভেম্বর থেকে প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেন কাউছার হোসেন রকি। একই বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবরণের প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং ওই সময় আহত হন তিনি।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন বর্জনের দাবিতে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্দেশনায় হরতাল, অবরোধ, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে জানান কাউছার হোসেন রকি। এ সময় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি মামলার আসামি হন এবং পরবর্তীতে প্রায় এক মাস কারাভোগ করেন বলে দাবি করেন।

একই বছরের জুলাইয়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন রকি। এ সময় তিনি আহত হন বলেও জানান। কাউছার হোসেন রকির দাবি, মামলা ও কারাভোগের পরও তিনি দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।
যেসব সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন

কাউছার হোসেন রকির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

২০১৪ সালে গঠিত সিলেট মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২০ সালে জিয়া সাইবার ফোর্স সিলেট জেলা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান রকি। ২০২২ সালে সিলেট মহানগর বিএনপির আওতাধীন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর পুনরায় সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘদিনের রাজপথের সক্রিয়তা, মামলা-কারাভোগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউছার হোসেন রকির নাম আলোচনায় এসেছে। তবে চূড়ান্ত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ওপর।