সাড়ে ছয় বছরের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
বাগেরহাটে সৎ মার বিরুদ্ধে সাড়ে ছয় বছরের এক শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) সকালে জেলার ফকিরহাট উপজেলার লখপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম মো. তালহা। সে ওই গ্রামের সৈকত হোসেন পাপ্পু ও মনিরা খানমের ছেলে। তালহা বাবা ও সৎ মার সঙ্গে ওই ভাড়া বাড়িতে থাকতো। আটক নারীর নাম রুবাইয়া আক্তার (২৫)। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে মো. তালহা নামের সাড়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে
স্থানীয়রা জানান, পানিভর্তি বালতির মধ্যে মাথা ডোবানো অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, আপাতদৃষ্টিতে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৎ মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
রাজধানী ঢাকায় এত ভিক্ষুক কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দান খয়রাতের আশায় ঈদের সময় মানুষ ঢাকা শহরে আসে।
বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে ধানমন্ডি-৩২ জনগণের মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সমন্বয় করে তেলের দাম কিছু হলেও কমিয়েছি। তাছাড়া জিনিসপত্রের দাম আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে।
বিএনপির উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, বিএনপির নেতারা বড় বড় কথা বলেন, মায়াকান্না করেন; তারা কি ভুলে গেছেন জিয়াউর রহমানের আমলে উত্তরবঙ্গের নারীদের পতিতাবৃত্তি করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নাকি ৮০ শতাংশ আসামি নির্যাতিত। যারা অপরাধের জন্য জেলে যাচ্ছে, তাদের জন্য কেন বিএনপির এত মায়াকান্না?
রাজধানীতে নিরাপত্তার বিষয়ে কাদের বলেন, তারাবির নামাজের পর সারা রাত ধরে ঈদের শপিং চলে। এখনো কারও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটেনি। রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে যারা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে। তাদের এসব কথায় কান দেব না।
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-ডুয়েটের এ নতুন উপাচার্য যোগদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
রোববার সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও বহিরাগতদের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে থেকে পূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার সকাল থেকে তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করে। তবে বেলা ২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
গাজীপুর সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, “সোমবার সকাল থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবস্থান ধর্মঘট করছে, তবে পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্দিষ্ট অবস্থানে পুলিশও অবস্থান করছে।”
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য বদলের ধারাবাহিকতায় গত ১৪ মে বুয়েটসহ ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে দ্বায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
তারপর থেকেই প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাদের দাবি, ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য দিতে হবে।
এর ধারাবাহিকতায় ১৭ মে সকালে ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচির ব্যানারে বিক্ষোভের ডাক দেন আন্দোলনরতরা। সেদিন সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। এ সময় ‘দাবি মোদের একটাই, ডুয়েট থেকে ভিসি চাই’ এবং ‘ডুয়েটের ভিসি, ডুয়েট থেকেই চাই’ স্লোগান দেন।
নবনিযুক্ত ভিসিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ব্যানার টানিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন একদল শিক্ষার্থী। এরপরই বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৭ মে দুপুরের দিকে নবনিযুক্ত ভিসির পক্ষে কিছু বহিরাগত লোক এসে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় দফায়-দফায় সংঘর্ষে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন; বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা শিমুলতলী সড়কে বাস চলাচল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন এবং তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-
১. শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালের ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ বাতিল।
২. ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ।
৩. শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের ওপর সংঘটিত হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার।
সোমবার আন্দোলন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ডুয়েটে নতুন ভিসির বিরুদ্ধে একদল শিক্ষার্থী যে আন্দোলনে নেমেছে, তাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে ছাত্রদল।
ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্রসংগঠনটি বলেছে, 'সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশ ধরে’ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ডুয়েট ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
ডুয়েটের নতুন ভিসি মোহাম্মদ ইকবাল এখনও তার অফিসে যাননি। তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে গাজীপুরেই অবস্থান করছেন। নতুন সহকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
নরসিংদীতে খেলার ছলে পাতিলের ভেতরে মাথা ঢুকে গেছে অন্তিম নামে দুই বছরের এক শিশুর। অনেক চেষ্টার পরও মাথা থেকে পাতিল খুলতে না পেরে পরবর্তীতে ওয়ার্কশপে নিয়ে শিশুর মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুই বছরের শিশু অন্তিম খেলার ছলে মাথায় পাতিল ঢোকায়। এক পর্যায়ে তার মাথায় পাতিলটি শক্তভাবে আটকে যায়। পরবর্তীতে, পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টার পরও তা খুলতে না পেরে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ডাক্তারেরা পাতিলটি খুলতে ব্যর্থ হলে শিশুটিকে পাশের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলসানারা কবীর বলেন, শিশুটি অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। আরও কিছু সময় এভাবে থাকলে শ্বাসকষ্টের কারণে প্রাণহানির শঙ্কা ছিল। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
