বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কার মধ্যে সোমবার (১ জুন) স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৫১.৬৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ২.৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪,৪৭৯.২০ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা এবং শক্তিশালী ডলারের কারণে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায়।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, বাজারে উচ্চ সুদের হার দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রত্যাশা স্বর্ণের দামের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বন্ডের ফলন কমতে শুরু করলে বা সুদের হার স্থিতিশীল হলে স্বর্ণবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সপ্তাহান্তে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা জোরদার হয়েছে।
বাজারের ধারণা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে বা দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত একবার সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৫৬ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং Federal Reserve কর্মকর্তাদের বক্তব্য স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩.৯৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ কমে ১,৯০৮.৯১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৩৪৩.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম:
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর দাম অনুযায়ী, দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।








