শেয়ার বাজার

সাধারণ মানুষের কথা শুনতে ঈদে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সাধারণ মানুষের কথা শুনতে ঈদে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিজ সংসদীয় এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি শুনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বুধবার (২৭ মে ) প্রটোকল ছাড়াই তাকে দেখা গেছে ময়মনসিংহের গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে। 

ঈদের ছুটির এই দিনগুলোতে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন এবং সরাসরি সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী। চায়ের দোকানের আড্ডায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের রাস্তাঘাটের সমস্যা, জনসেবা প্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা ও এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে সরাসরি মতামত জানান।

প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে সবার কথা শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দেন। ঈদের সময় একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীকে এভাবে নিজেদের মাঝে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ঈদ কেবল আনুষ্ঠানিক আনন্দের উৎসব নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ারও সময়। নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রকৃত অবস্থা ও সমস্যাগুলো সরাসরি জানতেই আমি তৃণমূলের মানুষের কাছে ছুটে এসেছি। জনসেবা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণেই এই সরকার সবসময় কাজ করে যাবে। 

দুর্যোগ কবলিত মানুষের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, মানুষের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদে সরকার সবসময় পাশে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে জন্য সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সাথে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং পশুর দাম, বেচাকেনার অবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে খোঁজখবর নেন তিনি। হাটে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা, কৃত্রিম যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ঈদের দিন কোরবানির পর পশুর বর্জ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। 

দেশের ইতিহাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

দেশের ইতিহাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাত ৯টায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড হয়েছে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট, যা ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই অর্জিত হয়েছিল।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে আবাসিক খাতে শীতলীকরণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পিক লোড বৃদ্ধি পায়।

দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বড় অংশ আসে আবাসিক খাত থেকে। এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, যা মূলত বাসা-বাড়ির ফ্যান, লাইট, এসি ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়।

শিল্প খাতেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ উল্লেখযোগ্য। মোট ব্যবহারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে শিল্প কারখানা থেকে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি), টেক্সটাইল ও ভারী শিল্প অন্যতম।

বাণিজ্যিক খাতে— যেমন মার্কেট, অফিস ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। বাকি অংশ কৃষি ও সেচ কার্যক্রম, রাস্তাঘাটের আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য জনসেবামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও চাহিদার তারতম্যের ওপর।


১৫টি কবরের ওপরের মাটি সরানো, ভেতরের দৃশ্যে এলাকায় তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ, ২০২৪

১৫টি কবরের ওপরের মাটি সরানো, ভেতরের দৃশ্যে এলাকায় তোলপাড়

পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুরে কবরস্থান থেকে ১৫টি কঙ্কালের হদিস মিলছে না। স্থানীয়দের ধারণা কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার খাস আমিনপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এই ঘটনা ঘটে। 

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে বিষয়টি স্থানীয়রা টের পান। এরপর থেকেই কবরস্থানে স্বজনেরা ভিড় করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

চুরি হওয়া এক লাশের স্বজন মাসুদ রানা বলেন, এটা ভাবতেই অবাক লাগছে। মহাসড়কের পাশে এই কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। আমাদের দাবি, পুলিশ দ্রুত এই ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরেক স্বজন জাহিদ হাসান বলেন, এতদিন আমরা দেখে আসছি আমাদের দেশে বেঁচে থাকা অবস্থায় মানুষের নিরাপত্তা নেই। এখন দেখছি মরে গেলেও মানুষের লাশেরও নিরাপত্তা নেই।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, সকালে স্থানীয়রা কবরস্থানে গেলে এ ঘটনা জানতে পারে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ওসি আরও বলেন, কবরস্থানের কবরগুলোর উপরের মাটি সরানো। সেখানে কোনো মরদেহ নেই। কিন্তু চুরি হয়েছে কিনা এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে কঙ্কালগুলো হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


পাঁচ দশক পর মায়ের কোলে দুলি, নরওয়ে থেকে এসে মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

পাঁচ দশক পর মায়ের কোলে দুলি, নরওয়ে থেকে এসে মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণ

পহেলা বৈশাখ মানেই নতুনের আবাহন। কিন্তু মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মুক্তানগর গ্রামের আম্বিয়া বেগমের কাছে এবারের নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়, বরং দীর্ঘ অর্ধশতকের হাহাকার মুছে এক পূর্ণতার গল্প। নরওয়ে প্রবাসী মেয়ে দুলি রোজ থুভ সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে ফিরে এসেছেন মায়ের ভিটায়। এবারের বৈশাখ তাই আম্বিয়া বেগম আর দুলির কাছে এক অনন্য অনুভূতির নাম।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নরওয়ের নাগরিক দুলি রোজ। মাত্র এক বছর বয়সে ঢাকার শিশু সদন থেকে নরওয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে পালক মা-বাবার কাছে বড়ো হলেও মনের গহিনে লালন করতেন এই মাটির সংস্কৃতি।

গত বছর একাত্তর টেলিভিশনের সহায়তায় দীর্ঘ লড়াই আর অপেক্ষার অবসান ঘটে, দুলি খুঁজে পান তার গর্ভধারিণী মাকে। এরপর থেকেই অপেক্ষার পালা ছিলো—কবে নিজের শেকড়ে ফিরে দেশি আমেজে মেতে উঠবেন।

দুলি রোজ জানান, তিনি ইন্টারনেট আর গুগলের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ গান আর মেলার ছবি দেখতেন। খনার বচন, চারুকলার মুখোশ, পালকি আর গাজীর পট তাকে সবসময় টানতো। এবারের নববর্ষ সরাসরি উপভোগ করতে স্বামী ফয়েন থুভকে নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন মায়ের গ্রামে।

দুলি বলেন, এদেশের নিজস্ব পার্বণ পহেলা বৈশাখ যে এতো রঙিন, তা না দেখলে বিশ্বাস হতো না। চারদিকে প্রাণের উচ্ছ্বাস। গুগল থেকে জেনেছি এটি বিশ্ব ঐতিহ্য। মাকে খুঁজে পাওয়ার পর নিজের সংস্কৃতিতে অংশ নিতেই এবার আসা।

মুক্তানগর গ্রামের বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ। মা আর মেয়ের ভাষা আলাদা, একজন বলেন বাংলা আর অন্যজন ইংরেজি কিংবা নরওয়েজিয়ান। কিন্তু ভাষা না বুঝলেও অনুভূতির প্রকাশ থেমে নেই। একে অপরকে ছুঁয়ে থাকা আর ইশারায় চলছে মনের আলাপ।

মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণের প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখছেন না দুলি। সারাদিন ঘুরে চুড়ি, টিপ আর সাজসজ্জার সরঞ্জাম কিনেছেন। নিজের জন্য কিনেছেন বৈশাখের চিরায়ত লাল-সাদা শাড়ি। শুধু নিজের জন্য নয়, মা আর পরিবারের সদস্যদের জন্য সাধ্যমতো করেছেন নববর্ষের বাজার-সদাই।


গ্রামের নারীরা দুলি ও তার স্বামী ফয়েনকে হাতভরে মেহেদি পরিয়ে দিয়েছেন নানা নকশায়। এমন আন্তরিকতায় মুগ্ধ ফয়েন থুভ বলেন, সবখানে রঙের দারুণ ছোঁয়া। এখানকার মানুষের মন মাটির মতো নরম।

দুলির মা আম্বিয়া বেগম অসুস্থ ছিলেন। দূর প্রবাসে থেকেও পারিবারিক বন্ধু ক্রিস্টোফারের সহায়তায় মায়ের চিকিৎসা ও অপারেশনের সব ব্যবস্থা করেছেন দুলি। এখন মা-মেয়ে দুজনেই সুস্থ। আম্বিয়া বেগম ভাঙা ভাঙা গলায় মেয়েকে শিবালয়ের বৈশাখী মেলার গল্প শোনাচ্ছেন।

অর্ধশত বছর ধরে মুক্তানগরের এই বাড়িতে নববর্ষ আসত এক চাপা কষ্ট আর অপূর্ণতা নিয়ে। হারিয়ে যাওয়া সন্তানের শূন্যতা আম্বিয়া বেগমকে প্রতি বৈশাখে পোড়াত। আজ সেই শূন্যতা ভরাট হয়েছে। চৈত্রসংক্রান্তির রাত পোহালেই নতুন বছর। মুক্তানগরের এই বাড়িতে এবার নববর্ষ শুধু উৎসব নয়, এক হার না মানা সম্পর্কের পুনর্মিলন। দুলি আর ফয়েন দম্পতি বারবার ফিরে আসতে চান এই প্রাণের উৎসবে।