?> রিয়াদ বিমানবন্দ‌রে হামলায় নিহত ২ বাংলা‌দে‌শির প‌রিচয় জানালো সরকার | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

রিয়াদ বিমানবন্দ‌রে হামলায় নিহত ২ বাংলা‌দে‌শির প‌রিচয় জানালো সরকার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদ বিমানবন্দ‌রে হামলায় নিহত ২ বাংলা‌দে‌শির প‌রিচয় জানালো সরকার

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি নাগ‌রি‌কের প‌রিচয় জা‌নি‌য়ে‌ছে প্রবাসী কল‌্যাণ ও বৈ‌দে‌শিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নিহত মো. শাহেদ আহম্মেদের বা‌ড়ি বগুড়া এবং মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির বা‌ড়ি কু‌মিল্লায়। রোববার (১১ অক্টোবর) প্রবাসী কল‌্যাণ মন্ত্রণালয় জানায় গতকাল বিকাল আনুমানিক ৩টা ২০ মি‌নি‌টে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর উপর একটি ক্ষেপনাস্ত্র এসে পড়ে। 

এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমান ছিল। দুঘটনায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন।

তারা হলেন—বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানার মাদলা গ্রামের (ডাকঘর: মাদলা) বাসিন্দা মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার বদরপুর গ্রামের (ডাকঘর: ঢালুয়া) বাসিন্দা মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। 

জবি ছাত্রীর আত্মহত্যা;
অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০২৪

অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে তিনটায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ভিক্টোরিয়া পার্ক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ ঘুরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়।

এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে দাঁড়িয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেন। এসব দাবি বাস্তবায়নে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসিভ বলেন, ফাইরুজ অবন্তিকা অসাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানান বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে জবি শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাকে মুক্তির জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে অবন্তিকাও নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাকে নানান ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এরপরও তিনি পিছপা হননি। কিন্তু তারই এমন করুণ পরিণতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। বিষয়টির সঙ্গে যারা জড়িত সবার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সব ভাই-বোনদের জন্য নিরাপদ করে তুলবো আমরা। আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের বোনের এমন পরিণতির জন্য যারা দায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে, অভিযুক্ত শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকিকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা, দ্রুত সিন্ডিকেট ডেকে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার, ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপিড়ন সেল কার্যকর করতে হবে।

এর আগে শনিবার সকালে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষকতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযুক্ত রায়হান সিদ্দিকি আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জানা গেছে, ফাইরুজ অবন্তিকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে প্রথমে ফেসবুকে পোস্ট দেন ফাইরুজ। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তিনি মারা গেছেন।



প্রধানমন্ত্রী ফজরের নামাজের পর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত কাজ করেন: আইনমন্ত্রী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ফজরের নামাজের পর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত কাজ করেন: আইনমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফজরের নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততার কথা তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান এবং ফজরের নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন।’

দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এদিন ঝিনাইদহে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (পিটিআই) নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার আশাবাদী। অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় আরও ভালো নির্বাচন করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত যথাসময়ে জানা যাবে বলে জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কাজ করলে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।

বিসিআইসির সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, এ ধরনের কোনো অনিয়মের খবর তার জানা নেই। সার ডিলার নিয়োগ ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন আইনমন্ত্রী। সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানো, জনবলসংকট দূর করা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।


চলতি বছর দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

চলতি বছর দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে

অর্থনীতির ধীরগতির প্রভাব পড়েছে মানুষের আয় ও জীবিকায়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে; এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, কমেছে নারীদের কর্মসংস্থানও। ফলে অর্থনীতির সংকট শুধু প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর প্রভাব পৌঁছেছে মানুষের জীবনযাত্রায়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এ তথ‍্য উঠে আসে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিশ্বব‍্যাংকের ঢাকা অফিসে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে থাকতে পারে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি কমেছে।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমছে। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হয়ে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতির ধীরগতির সঙ্গে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।

কর্মসংস্থানের দুর্বলতা দারিদ্র্য বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে। 

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত থেমে গেছে এবং বিশেষ করে নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় আয় হারানোর ঝুঁকি বেড়েছে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা এবং নতুন ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এসব সংস্কার জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে নতুন করে দারিদ্র্যে পড়া মানুষের বড় অংশকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। কিন্তু যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের বড় একটি অংশই এসব কর্মসূচির বাইরে রয়েছে।

এ কারণে সীমিত সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি আরও উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, সরকারের ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে তথ্যভিত্তিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

দারিদ্র্য কমাতে বিদ্যমান খাদ্য ও নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর আরও ভালো সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একাধিক খাদ্যভিত্তিক ভর্তুকি কর্মসূচিকে একীভূত করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির আরও ভালো সমন্বয় করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব।

দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে কর্মসংস্থানের সংকট থাকলেও অর্থনীতির অন্য কয়েকটি খাতের দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের জুনে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই অনুপাত ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হার ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাজস্ব আহরণের দুর্বলতাও সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে সীমিত করছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ফলে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।

রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতার সঙ্গে বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উঠেছে। ফলে একদিকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সহায়তার প্রয়োজন বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের সেই সহায়তা দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটও অর্থনীতির গতি কমিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা ব্যবসা ও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিবেশ দুর্বল হয়েছে।

তবে বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে দেশের বহিঃখাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটির মতে, এখন বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দ্রুত দূর করা। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

তবে সংস্কার কার্যক্রম গতি পেলে অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম গতি পেলে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে।

অন্যদিকে একই দিনে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে তা কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশকে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে দক্ষতা, অবকাঠামো ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।