রামিসা হত্যার বিচার দ্রুততম সময়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
দ্রুততম সময়ে রামিসা হত্যার বিচার হবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শিগগিরই অপরাধীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, আসামীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় চার্জশিট দিতে বেশি সময় লাগবে না।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতে যা যা করা দরকার, সরকার তা করছে।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইন সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া, কিছু আইনে সংশোধন আনতে হবে।
তবে জনগণের ক্ষোভের কারণে বা আবেগের বশবর্তী হয়ে হুট করে আইন পরিবর্তন বা আদালত গঠন সমীচীন নয় বলেও মনে করেন তিনি।
ধর্ষণ বা হত্যার মতো ঘটনার তদন্তে জোর দিয়েছে সরকার। অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পহেলা বৈশাখ মানেই নতুনের আবাহন। কিন্তু মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মুক্তানগর গ্রামের আম্বিয়া বেগমের কাছে এবারের নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়, বরং দীর্ঘ অর্ধশতকের হাহাকার মুছে এক পূর্ণতার গল্প। নরওয়ে প্রবাসী মেয়ে দুলি রোজ থুভ সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে ফিরে এসেছেন মায়ের ভিটায়। এবারের বৈশাখ তাই আম্বিয়া বেগম আর দুলির কাছে এক অনন্য অনুভূতির নাম।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নরওয়ের নাগরিক দুলি রোজ। মাত্র এক বছর বয়সে ঢাকার শিশু সদন থেকে নরওয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে পালক মা-বাবার কাছে বড়ো হলেও মনের গহিনে লালন করতেন এই মাটির সংস্কৃতি।
গত বছর একাত্তর টেলিভিশনের সহায়তায় দীর্ঘ লড়াই আর অপেক্ষার অবসান ঘটে, দুলি খুঁজে পান তার গর্ভধারিণী মাকে। এরপর থেকেই অপেক্ষার পালা ছিলো—কবে নিজের শেকড়ে ফিরে দেশি আমেজে মেতে উঠবেন।
দুলি রোজ জানান, তিনি ইন্টারনেট আর গুগলের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ গান আর মেলার ছবি দেখতেন। খনার বচন, চারুকলার মুখোশ, পালকি আর গাজীর পট তাকে সবসময় টানতো। এবারের নববর্ষ সরাসরি উপভোগ করতে স্বামী ফয়েন থুভকে নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন মায়ের গ্রামে।
দুলি বলেন, এদেশের নিজস্ব পার্বণ পহেলা বৈশাখ যে এতো রঙিন, তা না দেখলে বিশ্বাস হতো না। চারদিকে প্রাণের উচ্ছ্বাস। গুগল থেকে জেনেছি এটি বিশ্ব ঐতিহ্য। মাকে খুঁজে পাওয়ার পর নিজের সংস্কৃতিতে অংশ নিতেই এবার আসা।
মুক্তানগর গ্রামের বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ। মা আর মেয়ের ভাষা আলাদা, একজন বলেন বাংলা আর অন্যজন ইংরেজি কিংবা নরওয়েজিয়ান। কিন্তু ভাষা না বুঝলেও অনুভূতির প্রকাশ থেমে নেই। একে অপরকে ছুঁয়ে থাকা আর ইশারায় চলছে মনের আলাপ।
মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণের প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখছেন না দুলি। সারাদিন ঘুরে চুড়ি, টিপ আর সাজসজ্জার সরঞ্জাম কিনেছেন। নিজের জন্য কিনেছেন বৈশাখের চিরায়ত লাল-সাদা শাড়ি। শুধু নিজের জন্য নয়, মা আর পরিবারের সদস্যদের জন্য সাধ্যমতো করেছেন নববর্ষের বাজার-সদাই।
গ্রামের নারীরা দুলি ও তার স্বামী ফয়েনকে হাতভরে মেহেদি পরিয়ে দিয়েছেন নানা নকশায়। এমন আন্তরিকতায় মুগ্ধ ফয়েন থুভ বলেন, সবখানে রঙের দারুণ ছোঁয়া। এখানকার মানুষের মন মাটির মতো নরম।
দুলির মা আম্বিয়া বেগম অসুস্থ ছিলেন। দূর প্রবাসে থেকেও পারিবারিক বন্ধু ক্রিস্টোফারের সহায়তায় মায়ের চিকিৎসা ও অপারেশনের সব ব্যবস্থা করেছেন দুলি। এখন মা-মেয়ে দুজনেই সুস্থ। আম্বিয়া বেগম ভাঙা ভাঙা গলায় মেয়েকে শিবালয়ের বৈশাখী মেলার গল্প শোনাচ্ছেন।
অর্ধশত বছর ধরে মুক্তানগরের এই বাড়িতে নববর্ষ আসত এক চাপা কষ্ট আর অপূর্ণতা নিয়ে। হারিয়ে যাওয়া সন্তানের শূন্যতা আম্বিয়া বেগমকে প্রতি বৈশাখে পোড়াত। আজ সেই শূন্যতা ভরাট হয়েছে। চৈত্রসংক্রান্তির রাত পোহালেই নতুন বছর। মুক্তানগরের এই বাড়িতে এবার নববর্ষ শুধু উৎসব নয়, এক হার না মানা সম্পর্কের পুনর্মিলন। দুলি আর ফয়েন দম্পতি বারবার ফিরে আসতে চান এই প্রাণের উৎসবে।
প্রতিবেদক: শাখাওয়াত হোসেন, মিরপুর।
দেশজুড়ে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা ও মানি লন্ডারিং চক্রের বিরুদ্ধে চলমান নজরদারির অংশ হিসেবে আলোচনায় এসেছে এম এইচ মিঠু ওরফে “মুখুষ ধরি মিঠু” নামের এক ব্যক্তির নাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে হুন্ডি ব্যবসার আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে অবৈধ আর্থিক লেনদেন পরিচালনার অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উঠে এসেছে এবং খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হতে পারে।
অর্থপাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এম এইচ মিঠুর পক্ষ থেকে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
