?> পবিত্র রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানালেন আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

পবিত্র রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানালেন আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পবিত্র রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানালেন আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র ১২১ দিন বাকি রয়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী আগামী ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে রোজা শুরু হতে পারে। আগামী ১২ অক্টোবর সোমবার হিজরি জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে রমজানের ক্ষণগণনায় আর মাত্র চারটি চন্দ্র মাস বাকি থাকবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষস্থানীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, শনিবার সূর্যাস্তের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত সময় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খালি চোখে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে ১২ অক্টোবর সোমবার জমাদিউল আউয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই রমজান শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে। সেই হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে আগামী বছরের ৯ মার্চ মঙ্গলবার অথবা ১০ মার্চ বুধবার। আল জারওয়ান উল্লেখ করেন, ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো কোনো ধরনের বিশেষ যন্ত্রপাতি বা জটিল গাণিতিক হিসাব ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চাঁদের রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে মাস গণনা করা যায়।

এদিকে জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন বিশ্লেষণ দিয়েছে শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শারজাহ স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি হাব। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রোববার সূর্যাস্তের পর সাধারণ টেলিস্কোপ কিংবা খালি চোখে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে সূর্যাস্তের পূর্বে উন্নত অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফি প্রযুক্তির সাহায্যে চাঁদের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

শারজাহ সেন্টারের তথ্যমতে, যেসব দেশ বা অঞ্চল ইসলামি মাস নির্ধারণে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনাকে প্রাধান্য দেয়, তারা ১২ অক্টোবর সোমবার থেকে নতুন মাস গণনা শুরু করবে। অন্যদিকে যেসব দেশ সূর্যাস্তের পর খালি চোখে বা সাধারণ অপটিক্যাল টেলিস্কোপে চাঁদ দেখাকে অপরিহার্য মনে করে, তাদের ক্ষেত্রে জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হতে পারে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার রাতে স্থানীয় সময় ৮টা ৪৭ মিনিটে শারজাহ অঞ্চলে চাঁদের কেন্দ্রিক সংযোগ সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা দেওয়া উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। তাই ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এ ধরনের পরিবেশ তার জন্য নতুন নয়।

পেশাগত সাফল্যের জন্য ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি তাদের অভিনন্দন জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়, বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেন। পরে তিনি বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এই ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক গৌরবজনক অধ্যায়।

আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে নিহিত। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।’


সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি’কে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে দাগনভূঁঞা থানা পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি’কে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে দাগনভূঁঞা থানা পুলিশ

বার্তাবেলা ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে দাগনভূঁঞা থানায় যোগদানকৃত অফিসার ইনচার্জ(ওসি)আবুল হাসিম দাগনভূঁঞা থানায় যোগদানের পর থেকেই থানাধীন এলাকায় চুরি-ছিনতাই ইফটিজিং কিশোর গ্যাং মাদকসেবন ও মাদক ক্রয়- বিক্রয়ের সাথে জড়িত এবং  পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতারসহ নানান অপরাধ দমনে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন । 

তারাই ধারাবাহিকতায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সোনাগাজী সার্কেল  দিকনির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসিম এর সার্বিক তত্তাবধানে এসআই/মোঃ ফখরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অদ্য ২১ ফেব্রুয়ারি ২৪ ইং রাতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করিয়া ০৪টি সিআর সাজা প্রাপ্ত যাবৎ আত্নগোপনে থাকা আসামি মর্ডান ব্রীক ফিল্ডের মালিক মোঃ ছালেহ উদ্দিন ছালু’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় দাগনভূঁঞা থানা পুলিশের একটি চৌকস ট্রিম। 

এই বিষয়ে দাগনভূঁঞা থানার ওসি আবুল হাসিম সাংবাদিকদের জানান গ্রেফতারকৃত আসামি সাজা এড়াতে দীর্ঘদিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে আছেন।গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিধি মোতাবেক অদ্য ২১ ফেব্রুয়ারি ২৪ ইং বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হইয়াছে।


তেলের টাকাই উঠছে পিংক বাসে, প্রতিদিন ভর্তুকি ৫০ হাজার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তেলের টাকাই উঠছে পিংক বাসে, প্রতিদিন ভর্তুকি ৫০ হাজার

নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা চালু করেও পরিচালন ব্যয় মেটাতে পারছে না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা ভাড়ায় জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালক-শ্রমিকদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছে না। ফলে নারী বাসসেবায় সরকারকে নিয়মিত দিতে হচ্ছে ভর্তুকি।

বিআরটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে নারী বাসসেবার বাসগুলো পরিচালনা করে প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিআরটিসির ১৯ থেকে ৩১ আগস্ট এবং ১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারী বাসসেবার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে ১২ কার্যদিবসে ১৫৮টি ট্রিপে ১৪ হাজার ১১৬টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮ টাকা। অন্যদিকে, আগস্টে ৮ কার্যদিবসে ১১৪টি ট্রিপে ৬ হাজার ৬৮৯টি টিকিট বিক্রি হয়। এ সময়ে আয় হয়েছে ৯৮ হাজার ৬৪৬ টাকা।


হিসাব বোঝাতে মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিল রুটের উদাহরণ নেওয়া যায়। একমুখী এ রুটের দূরত্ব ২১ কিলোমিটার। বাসটি যাওয়া-আসা করায় এক ট্রিপে মোট ৪২ কিলোমিটার চলাচল করে। এক লিটার ডিজেলে ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার চললে এক ট্রিপে ১৬ দশমিক ৮ থেকে ২১ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। ১১৫ টাকা লিটার দরে এতে জ্বালানি খরচ পড়ে প্রায় ১ হাজার ৯৩২ থেকে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৭ টাকা হিসাবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হয় ২৯৪ টাকা। ফলে এক ট্রিপে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ২২৬ থেকে ২ হাজার ৭০৯ টাকা।

সেপ্টেম্বরের ১৫৮টি ট্রিপকে একই ২১ কিলোমিটার রুট ধরে হিসাব করলে বাসগুলো মোট চলেছে ৬ হাজার ৬৩৬ কিলোমিটার। এতে ডিজেল লাগে আনুমানিক ২ হাজার ৬৫৪ থেকে ৩ হাজার ৩১৮ লিটার। এর মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার থেকে ৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা। রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয় আরও প্রায় ৪৬ হাজার ৪৫২ টাকা। অর্থাৎ, শুধু জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণেই খরচ হয় প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার থেকে ৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, ওই সময়ে বিআরটিসির আয় ২ লাখ ২ হাজার ৮ টাকা। অর্থাৎ, জ্বালানি খরচের সর্বনিম্ন হিসাব ধরলেও আয়ের চেয়ে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে শুধু ডিজেলে। আর জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ—দুটি খাত একসঙ্গে ধরলে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর বাইরে রয়েছে চালকের মাসিক ৪০ হাজার টাকা বেতন, সহকারীসহ কর্মীদের বেতন, টায়ার, লুব্রিকেন্ট, কর, প্রশাসনিক ব্যয় ও বাসের অবচয়।

আগস্টের হিসাবেও একই চিত্র পাওয়া যায়। ১১৪টি ট্রিপে ৪২ কিলোমিটার করে মোট চলাচল ধরলে দূরত্ব হয় ৪ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার। এতে জ্বালানি খরচ হয় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হয় প্রায় ৩৩ হাজার ৫১৬ টাকা। অথচ ওই সময়ে আয় ছিল মাত্র ৯৮ হাজার ৬৪৬ টাকা। অর্থাৎ, চালকের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় ধরার আগেই জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের সঙ্গে আয়ের ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

নারী বাসসেবায় যাত্রীসংখ্যাও প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। ৬০ আসনের বাসে প্রতিটি ট্রিপে গড়ে প্রায় ২০টি আসন খালি থাকছে। ফলে আসন পূর্ণ হলে আয় বাড়ার সুযোগ রয়েছে। এতে পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থের ঘাটতিও কিছুটা কমতে পারে। তবে যাত্রী বাড়ানোর পাশাপাশি সপ্তাহে দুই দিন বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিআরটিসির ব্যবস্থাপক মো. নূর-ই-আলম  বলেন, নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এ সেবা চালু করা হয়েছে। ফলে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে এ সেবার প্রয়োজনীয়তা বিচার করা হচ্ছে না। তবে নিয়মিত ভর্তুকির কারণে সেবাটি পরিচালনায় করপোরেশনের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাসের সংখ্যা বাড়লে আয় বাড়বে। তখন ভর্তুকি কমে আসবে। শুরুর দিকের তুলনায় এখন ভর্তুকি দিন দিন কমছে। এক ট্রিপে অন্তত ১২০ জন যাত্রী পাওয়া গেলে ব্যয় ও আয় সমান পর্যায়ে (ব্রেক-ইভেন) আসবে। এর বেশি যাত্রী পাওয়া গেলে লাভ হতে শুরু করবে।

এদিকে, সাধারণ গণপরিবহনে সপ্তাহের সাত দিনই বাস চলাচল করলেও বিআরটিসির নারী বাসসেবা শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ থাকছে। ফলে সপ্তাহের দুই দিন এ সেবা থেকে বঞ্চিত হন নারী যাত্রীরা। অথচ একই সময়ে বেসরকারি পরিবহনের বাসগুলো নিয়মিত চলাচল করে। বিআরটিসির অন্যান্য বাসও শুক্রবার ও শনিবার সড়কে চলতে দেখা যায়। নারী যাত্রীদের জন্য চালু করা বিশেষ সেবায় সপ্তাহে দুই দিন ছুটি রাখার কারণে সেবার পরিধি ও সম্ভাব্য আয়–দুটিই সীমিত হচ্ছে।

বিআরটিসির ব্যবস্থাপক মো. নূর-ই-আলম জানান, শুক্র ও শনিবার কর্মজীবী নারী যাত্রী পাওয়া যায় না। তাই এই দুই দিন গোলাপি বাসের চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে।