শেয়ার বাজার

পাঁচ দশক পর মায়ের কোলে দুলি, নরওয়ে থেকে এসে মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

পাঁচ দশক পর মায়ের কোলে দুলি, নরওয়ে থেকে এসে মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণ

পহেলা বৈশাখ মানেই নতুনের আবাহন। কিন্তু মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মুক্তানগর গ্রামের আম্বিয়া বেগমের কাছে এবারের নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়, বরং দীর্ঘ অর্ধশতকের হাহাকার মুছে এক পূর্ণতার গল্প। নরওয়ে প্রবাসী মেয়ে দুলি রোজ থুভ সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে ফিরে এসেছেন মায়ের ভিটায়। এবারের বৈশাখ তাই আম্বিয়া বেগম আর দুলির কাছে এক অনন্য অনুভূতির নাম।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নরওয়ের নাগরিক দুলি রোজ। মাত্র এক বছর বয়সে ঢাকার শিশু সদন থেকে নরওয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে পালক মা-বাবার কাছে বড়ো হলেও মনের গহিনে লালন করতেন এই মাটির সংস্কৃতি।

গত বছর একাত্তর টেলিভিশনের সহায়তায় দীর্ঘ লড়াই আর অপেক্ষার অবসান ঘটে, দুলি খুঁজে পান তার গর্ভধারিণী মাকে। এরপর থেকেই অপেক্ষার পালা ছিলো—কবে নিজের শেকড়ে ফিরে দেশি আমেজে মেতে উঠবেন।

দুলি রোজ জানান, তিনি ইন্টারনেট আর গুগলের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ গান আর মেলার ছবি দেখতেন। খনার বচন, চারুকলার মুখোশ, পালকি আর গাজীর পট তাকে সবসময় টানতো। এবারের নববর্ষ সরাসরি উপভোগ করতে স্বামী ফয়েন থুভকে নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন মায়ের গ্রামে।

দুলি বলেন, এদেশের নিজস্ব পার্বণ পহেলা বৈশাখ যে এতো রঙিন, তা না দেখলে বিশ্বাস হতো না। চারদিকে প্রাণের উচ্ছ্বাস। গুগল থেকে জেনেছি এটি বিশ্ব ঐতিহ্য। মাকে খুঁজে পাওয়ার পর নিজের সংস্কৃতিতে অংশ নিতেই এবার আসা।

মুক্তানগর গ্রামের বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ। মা আর মেয়ের ভাষা আলাদা, একজন বলেন বাংলা আর অন্যজন ইংরেজি কিংবা নরওয়েজিয়ান। কিন্তু ভাষা না বুঝলেও অনুভূতির প্রকাশ থেমে নেই। একে অপরকে ছুঁয়ে থাকা আর ইশারায় চলছে মনের আলাপ।

মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণের প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখছেন না দুলি। সারাদিন ঘুরে চুড়ি, টিপ আর সাজসজ্জার সরঞ্জাম কিনেছেন। নিজের জন্য কিনেছেন বৈশাখের চিরায়ত লাল-সাদা শাড়ি। শুধু নিজের জন্য নয়, মা আর পরিবারের সদস্যদের জন্য সাধ্যমতো করেছেন নববর্ষের বাজার-সদাই।


গ্রামের নারীরা দুলি ও তার স্বামী ফয়েনকে হাতভরে মেহেদি পরিয়ে দিয়েছেন নানা নকশায়। এমন আন্তরিকতায় মুগ্ধ ফয়েন থুভ বলেন, সবখানে রঙের দারুণ ছোঁয়া। এখানকার মানুষের মন মাটির মতো নরম।

দুলির মা আম্বিয়া বেগম অসুস্থ ছিলেন। দূর প্রবাসে থেকেও পারিবারিক বন্ধু ক্রিস্টোফারের সহায়তায় মায়ের চিকিৎসা ও অপারেশনের সব ব্যবস্থা করেছেন দুলি। এখন মা-মেয়ে দুজনেই সুস্থ। আম্বিয়া বেগম ভাঙা ভাঙা গলায় মেয়েকে শিবালয়ের বৈশাখী মেলার গল্প শোনাচ্ছেন।

অর্ধশত বছর ধরে মুক্তানগরের এই বাড়িতে নববর্ষ আসত এক চাপা কষ্ট আর অপূর্ণতা নিয়ে। হারিয়ে যাওয়া সন্তানের শূন্যতা আম্বিয়া বেগমকে প্রতি বৈশাখে পোড়াত। আজ সেই শূন্যতা ভরাট হয়েছে। চৈত্রসংক্রান্তির রাত পোহালেই নতুন বছর। মুক্তানগরের এই বাড়িতে এবার নববর্ষ শুধু উৎসব নয়, এক হার না মানা সম্পর্কের পুনর্মিলন। দুলি আর ফয়েন দম্পতি বারবার ফিরে আসতে চান এই প্রাণের উৎসবে।

পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে বিজিবির গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬

পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে বিজিবির গুলি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কলসিরমুখ সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারি লক্ষ্য করে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে বিজিবি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শুক্রবার (২২ মে) মধ্যরাতে আড়াইটার দিকে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের কলসিমুখ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত মধ্যরাতে (আড়াইটার দিকে) পাটগ্রাম উপজেলার কলসিরমুখ এলাকার মেইন পিলার-৮০৬ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পশ্চিম গিয়ারপাড়া এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করছিল বিজিবির একটি দল। এসময় ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে থাকা একটি চোরাকারবারী দলকে দেখতে পায় টহল সদস্যরা।

পরে বিজিবি সদস্যরা চোরাকারবারীদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা নির্দেশ অমান্য করে বিজিবির দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং চোরাকারবারীদের সতর্ক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার রফিকুল ইসলামের নির্দেশে টহল সদস্যরা ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ফাঁকা গুলির শব্দে চোরাকারবারীরা দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রংপুর-৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে ফাকা গুলি ছোড়া হয়েছে। সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে। এছাড়া কলসিরমুখ সীমান্ত এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন বলেও জানান তিনি।


মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটি'র নেতৃবৃন্দদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটি'র নেতৃবৃন্দদের

বার্তাবেলা (নিজস্ব প্রতিবেদক): মহান বিজয়দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটির পক্ষ থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। 

আজ (সোমবার) ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪, বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটির আহ্বায়ক মোঃ এফ রহমান রুপক এবং সদস্য সচিব মোঃ শাহাজালাল ভুইয়া উজ্জ্বলের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহাজাহান মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ এনামুল হক আবির, এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, যাদের মধ্যে ছিলেন মোঃ মহিন উদ্দিন স্বপন, মোঃ শাহ আলম সাগর,মাহবুব মন্ডল, মোসাঃ মাহাফুজা আক্তার, মোসাঃ ডালিয়া আক্তার, মোঃ রায়হান, মোঃ মনির হোসেন, এবং মোঃ নাজমুল হুদা বাবুল প্রমুখ।


এসময় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধ বজায় রাখতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

এদিনের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তারা মুক্তিযুদ্ধের মহান আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন


আড়াইহাজারে ‘চাঁদা’ না পেয়ে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

আড়াইহাজারে ‘চাঁদা’ না পেয়ে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির সময় দাবি করা টাকা না দেওয়ায় এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। 

বুধবার (১৯ মে) দিবাগত সাড়ে ১২টার দিকে আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম ওসমান গনি (৪৫)। তিনি উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। নিহত ওসমান গনি আড়াইহাজারের ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বড় বিনাইরচর এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল অভিযুক্ত দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। 
নিহতের স্বজনরা জানান, ওসমান গনি দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও কাউন্দা চকে জমি থেকে মাটি কিনে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছিলেন। ওই সময় দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজানসহ কয়েকজন তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। ওসমান গনি সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাটি কাটার ভেকুটি নষ্ট হয়ে গেলে ওসমান গনি আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচগাঁও এলাকায় যান। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা রমজান ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে ওসমান গনিসহ বেশ কয়েকজনকে গুরুতর জখম করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ওসমান গনিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ওসমান গনির সমর্থক ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বিনাইরচর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় উত্তেজিত জনতা হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন এবং বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। অবরোধের ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে প্রধান অভিযুক্ত রমজানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত বিএনপি নেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে হত্যার সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।