শেয়ার বাজার

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের ইতিহাস

সিলেট টেস্টের পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট করতে নেমেছে পাকিস্তান। অষ্টম উইকেটে পঞ্চাশের বেশি রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান ও সাজিদ। আর ঠিক তখনই জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করে সফরকারীরা। কিন্তু সেই জুটি ভেঙে ফেলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র তিন উইকেট। বিপরীতে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২০ রান।

পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করার জন্য নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মিদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার সুযোগ আসে। নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচও দিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু সেটি মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

কিন্তু এই সুযোগ মিস করার পর ভুগতে হয় বাংলাদেশিদের। রিজওয়ান ও সাজিদ খানের দাপুটে পারফরম্যান্সে জয়ের স্বপ্নও দেখা শুরু করেছিল পাকিস্তানিরা। একসময় এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে আউট করে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই স্পিনার। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান সংগ্রহ করেন সাজিদ খান।

এদিকে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন পাকিস্তানের রিজওয়ান। কিন্তু এই উইকেটকিপার ব্যাটারকে শতক স্পর্শ করতে দেননি শরিফুল ইসলাম। মিরাজের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ৯৪ রান তুলেন রিজওয়ান। ১৬৬ বলে খেলা ইনিংসটিতে ১০টি চার নিয়েছেন। শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেছেন খুররাম শেহজাদ। আর শূন্য রাতে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ আব্বাস।

অন্যদিকে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছয়টি নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রান দিয়ে তুলেছেন ছয়টি উইকেট। নাহিদ রানা নিয়েছেন দুই উইকেট, আর একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

সিলেট টেস্টের শুরুতে ব্যাট করার জন্য নেমে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ব্যাট করতে মাঠে নেমে ২৩২ রান তুলে পাকিস্তান। ফলে ৪৬ রানে লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা ৩৯০ রান করলে ৪৩৭ রানের টার্গেট দাঁড়ায়। কিন্তু পাকিস্তান ৩৫৮ রানেই অলআউট হয়।

পরিচালক নাজমুলকে শোকজ করেছে বিসিবি

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

পরিচালক নাজমুলকে শোকজ করেছে বিসিবি

একের পর এক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। প্রথমে তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলার পর গতকাল ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স অনুযায়ী বেতন দেওয়া উচিত- এমন মন্তব্য করে আবারও দিয়েছেন সমালোচনার জন্ম।

বিসিবির এই পরিচালকের এমন মন্তব্যে তার পদত্যাগের দাবি তুলেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফায়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। সেটি না হলে সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।

এরমধ্যে  বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, এমন মন্তব্যের কারণে শোকজ করা হয়েছে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চাওয়া হয়েছে লিখিত জবাবও।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্প্রতি বোর্ডের এক সদস্যের করা আপত্তিকর মন্তব্যে গভীর অনুতাপ প্রকাশ করছে। এই মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে স্বীকার করে পেশাদারত্ব, ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান ও ক্রিকেট খেলার মান ও মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে তার অটুট প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করতে চায়।

এম নাজমুলের ইসলামকে শোকজ করার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই শোকজের লিখিত জবাব দিতে হবে সেই পরিচালককে, ‘একটি সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে বিসিবি তাদের নিজস্ব নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি দেখছে। এই দায়িত্বের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বোর্ড সদস্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই সদস্যকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। প্রক্রিয়ার ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের হুমকি দিয়ে রেখেছে কোয়াব। আজ (১৫ জানুয়ারি) মাঠে ফিরছে বিপিএল। সেটিকে আমলে নিয়েছে বিসিবি। বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশে বলা হয়েছে, ‘বিসিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, খেলোয়াড়রা বিপিএল এবং বোর্ডের আওতায় সকল ক্রিকেট কার্যক্রমের মূল অংশীদার এবং প্রাণ। বোর্ড আন্তরিকভাবে আশা করছে যে, ক্রিকেটাররা তাদের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা প্রদর্শন চালিয়ে যাবেন, টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করবেন এবং বিপিএলের সুষ্ঠু ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।’


তামিমের নেতৃত্বাধীন বিসিবির অ্যাডহক কমিটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

তামিমের নেতৃত্বাধীন বিসিবির অ্যাডহক কমিটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সদ্য গঠিত অ্যাডহক কমিটি নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন গঠিত এই কমিটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবির কর্মকর্তাসহ ১২ জন ব্যক্তি যৌথভাবে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিট পিটিশন নম্বর: ৬০৮৩/২০২৬।

আবেদনকারী ১২ জনের মধ্যে দেশের ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ফারুক আহমেদ এবং আসিফ ইকবাল ও খালেদ মাসুদ পাইলট।

এর আগে, আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে।

বর্তমান ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল খান। আরও দুই সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন ও আতহার আলী খান কমিটিতে আছেন।



‘ননসেন্স’ কথা উড়িয়ে নেইমার বললেন, ‘ফিট আছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬

‘ননসেন্স’ কথা উড়িয়ে নেইমার বললেন, ‘ফিট আছি’

ম্যাচে নেইমারের বদলি নিয়ে তোলপাড় ও বিতর্ক তো হয়েই গেছে। ম্যাচের পর তিনি ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সমালোচকদের নিয়ে। তার চোট, তার মানসিকতা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাদেরক কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা জানিয়ে রাখলেন, বিশ্বকাপের জন্য শারীরিকভাবে তিনি তৈরি।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা হবে সোমবার। সেই দলে নেইমারের জায়গা হবে কি না, কৌতূহল এখন ফুটবল বিশ্বজুড়ে। গত বেশ কিছুদিন ধরেই বারবার ঘুরেফিরে উঠে এসেছে প্রসঙ্গটি। এখন স্রেফ উত্তর মেলার পালা।

দল ঘোষণার আগে নিজেকে মেলে ধরার শেষ সুযোগ ছিল তার রোববার। ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের ম্যাচ ছিল করিচিবার সঙ্গে। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে তুলে নেওয়া হয় নেইমারকে। তবে সেটি ছিল আসলে ফোর্থ অফিসিয়ালের ভুল।

নেইমারকে যখন নাটকীয়ভাবে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়, তিনি অভিযোগ করেন যে, বদলির সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন চতুর্থ রেফারি। সতীর্থ গন্সালো এসকোবার পায়ের মাংসপেশির চিকিৎসার জন্য সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়লেও, তাকে বদলি করা হয়।

নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি বোর্ডে তুলে ধরেন চতুর্থ রেফারি এবং তার জায়গায় রবিনিয়ো জুনিয়রকে মাঠে নামেন। কিন্তু নেইমার মাঠে ফেরার চেষ্টা করায় হলুদ কার্ড পান এবং এরপরই তিনি তীব্র প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

তার যুক্তি শুনতে রাজি হননি রেফারি এবং চরম হতাশার মুহূর্তে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বদলির স্লিপটি ছিনিয়ে নিয়ে নেইমার টিভি ক্যামেরার সামনে দেখান এটা প্রমাণ করার জন্য যে, তাকে নয়, বরং এসকোবারকেই মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কথা ছিল।

লাভ কিছু হয়নি। ক্ষু্ব্ধ ও হতাশ নেইমারকে মাঠ ছাড়তেই এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটি তুলে দেন তিনি এসকোবারের হাতে, যাকে বদলি করানোর কথা ছিল।

ম্যাচে প্রথমার্ধের তিন গোলে হেরে যায় সান্তোস।

ম্যাচের পর নেইমারের দিকে মূল প্রশ্ন ছিল অবশ্য তার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। সেখানে নিজের আশাবাদ জানিয়ে ৩৪ বছর বয়সী তারকা ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সমালোচকদের নিয়ে।

“শারীরিকভাবে আমি দারুণ আছি। ফিট আছি’ প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে আরও উন্নতি করছি। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি – এটা সহজ ছিল না। আমাকে বলতেই হচ্ছে, এটা সহজ ছিল না।”

“বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের ফল এটা, পাশাপাশি আমার শারীরিক অবস্থা ও আমি যা করছিলাম, তা নিয়ে অনেক ‘ননসেন্স’ কথাও বলা হয়েছে। মানুষ যেভাবে এসব নিয়ে কথা বলে, তা সত্যিই দুঃখজনক। আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি… নীরবে, বাড়িতে… মানুষের কথার কারণে কষ্ট পেয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে।”

নেইমারের মতে, নিজের শতভাগ দিয়ে তিনি চেষ্টা করেছেন। বাকিটুকু কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাতে।

“আমি অক্ষত অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেছি। আমার পারফরম্যান্সে, এখনও পর্যন্ত যা কিছু করেছি, তাতে আমি খুশি... যা-ই ঘটুক না কেন, আনচেলত্তি অবশ্যই এই লড়াইয়ের জন্য সেরা ২৬ জন ফুটবলারকে ডাকবেন।”

৭৯ গোল করে ব্রাজিলের সর্বকালের সফলতম গোলস্কোরার নেইমার। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর চোটের পর আর দেশের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে।