?> অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান: গৃহায়ন মন্ত্রী | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান: গৃহায়ন মন্ত্রী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান: গৃহায়ন মন্ত্রী

দেশের অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে বড় শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে স্থাপত্য, কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে অনুমোদন এবং নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

এ কথা জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, নগর ও আবাসন ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজ শুরু হয়েছে। এখন চেষ্টা করা হচ্ছে আর্কিটেকচার, স্ট্রাকচারাল এবং ইলেক্ট্রো প্ল্যানিং—সবকিছু সমন্বিতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার আওতায় আনার।

তিনি বলেন, কোনো ভবনের নকশা অনুমোদনের পর সেটি নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভবনের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ডিজাইনারদের মাধ্যমে ভবনটি অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, তা প্রত্যয়ন করার ব্যবস্থা করা হবে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় গত সাত মাস ধরে নগর উন্নয়ন ও আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া প্রস্তাবগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী , আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইউডিডি) প্রথমবারের মতো ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কাজ করা হবে। শুরুতে মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরপর বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত প্রতিটি এলাকার জন্য বাস্তবভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাবনা বিবেচনা করে কোথায় কী ধরনের স্থাপনা, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা কিংবা অন্যান্য ব্যবহার হবে—তা নির্ধারণ করে জোনিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

তার ভাষায়, মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকটা একটি লক্ষ্যবস্তুতে চারটি তীর ছোড়ার মতো। কোনো একটি হয়তো লক্ষ্যে লাগতে পারে। কিন্তু পরিকল্পিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এভাবে এগোনোর সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই কাজ করতে হবে। এ কারণেই ইউডিডিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি এ বিভাগকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের সর্বশেষ জনশুমারি অনেক আগের। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি, জনসংখ্যা, বসতি, আবাসন ও নগরায়ণের প্রকৃত চিত্র জানতে নতুন করে একটি উপযুক্ত শুমারি করা প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীর ধানমন্ডিসহ রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় রাজউকের মাধ্যমে ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে অনেক এলাকায় অনুমোদিত পরিকল্পনা ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবন চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও হাতিরঝিল এলাকার পরিবেশ নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ছয়বার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান জাকারিয়া তাহের।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়িতে নির্মাণের সময় যে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল থাকার কথা ছিল, তা করা হয়নি। একইভাবে অনেক নামিদামি ডেভেলপার ভবন নির্মাণ করলেও বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপির ব্যবস্থা করেননি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার পাশাপাশি গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব বৈঠকে রাজউক চেয়ারম্যান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নিয়েছেন।

জাকারিয়া তাহের বলেন, গুলশান ও বারিধারার মতো এলাকাগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত এলাকা। এসব এলাকার লেকের পানি ও পরিবেশ ঠিক রাখা সম্ভব না হলে সারাদেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা আরও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, নগর উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনাও পাওয়া যাচ্ছে। জনগণ থেকে নির্বাচিত সরকার দেশের কল্যাণে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর কোনো পরামর্শ পেলে তা গ্রহণে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

নগর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে নতুন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের কথাও জানান জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, রাজউকের আদলে গত সাত মাসে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশালে নতুন ছয়টি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে আরও চারটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ছিল। পর্যায়ক্রমে বগুড়াসহ অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকেই নকশা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও এর উদাহরণ রয়েছে। বসিলাসহ কিছু এলাকায় ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এসব বিষয়কে একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মিত ভবন কিংবা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত স্থাপনার বিষয়েও নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে জানান তিনি। আগামী এক মাসের মধ্যে সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। বিধিমালা অনুমোদিত হলে ভবন নির্মাণ ও তদারকির আইন আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের বলেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ব্যাপকভাবে আবাসন নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজ সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যবস্থা ছাড়া বৃহৎ পরিসরে আবাসন নিশ্চিত করা কঠিন।

এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত এগিয়ে এলে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

বেসরকারি আবাসন খাতের নীতিমালা নিয়েও পরিবর্তন আনার কথা বলেন জাকারিয়া তাহের। তিনি জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিকল্পনা ও শর্তের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। আগের কাজ যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তার ওপরও পরবর্তী পরিকল্পনা অনুমোদনের বিষয়টি নির্ভর করবে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধে বেসরকারি আবাসন খাতকেও আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঢাকার বাসযোগ্যতা প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের বলেন, বাসযোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ফলে রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে সরকারকে একসঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। তবে অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে কাজটি সহজ নয়। যথাযথ পরিকল্পনার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এ উদ্যোগ সফল করা কঠিন।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, গত ৫ অক্টোবর বসতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশের আবাসন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষা, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জনবান্ধব আবাসন নীতি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণও জরুরি। মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখলে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আদ্‌-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: ৩ দিনের মধ্য তদন্ত প্রতিবেদন, ওয়ার্ড সিলগালা করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

আদ্‌-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: ৩ দিনের মধ্য তদন্ত প্রতিবেদন, ওয়ার্ড সিলগালা করা হবে

ঢাকার আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ২ সিলগালা করা হবে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) ডা, জাহিদ রায়হান এ তথ্য জানান।

তার মতে, পোস্ট অপারেটিভ থেকে এনআইসিইউতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকতে পারে। আর হাসপাতাল কতৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না বিস্তারিত জেনে জানাবেন বললেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালটির নবজাতক ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। আজ বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালে গুরুতর আহত আরও নবজাতক থাকার কথা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার কারণ ও অব্যবস্থাপনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর ।


ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারত বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে মতামত দেওয়ার সুযোগ (অধিকার) দেশটি রাখে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এছাড়া পতিত স্বৈরাচার ভোটের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করলে সরকার প্রতিহত করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।  

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ কথা জানান। রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। 

কোনো কোনো জেলায় ডিসিদের গণভোটের পক্ষে সেভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, আমরা যা করছি তা হলো, আমরা উপদেষ্টারা দেশের ৬৪ জেলায় গিয়ে বিভিন্ন জেলার যারা সুশীল সমাজের আছেন, শিক্ষক প্রতিনিধি আছেন, ছাত্র প্রতিনিধি আছেন, যারা ধর্মীয় নেতা আছেন- সবাইকে গণভোটটা কেন হচ্ছে, গণভোটের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী- এটা বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে গেছে, এখন আর আমরা কোনো উপদেষ্টা সেখানে যাচ্ছি না। আমাদের কিছু ম্যাটেরিয়াল আছে গণভোটের স্বপক্ষে, সেটাই আমরা বিলি করে বেড়াচ্ছি।  

তিনি বলেন, কিন্তু জেলা প্রশাসকেরা কোথায় প্রচার করছেন, করছেন না... জেলা প্রশাসকেরা প্রচার করবেন হচ্ছে যে ১২ তারিখে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটা গণভোট হবে। সাধারণ ভোটের পাশাপাশি জনগণ যেন গণভোটে যেতে পারে সে খবরটা জানানো। এর বেশি তো আর তাদের কিছু করার কথা না।  

সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন? দুই দলের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও ভোট নিয়ে মন্তব্য আসছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, শোনেন, প্রথম কথা হচ্ছে নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণ হবে। এক দল আরেক দলকে হারাবার চেষ্টা করবে, এক দল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে সে তার পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কথা বলবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করার কথা বলবে, এটা খুব স্বাভাবিক কথা।

তিনি বলেন, কোনো কোনো জায়গায় হয়তো ভদ্রতা সভ্যতার সীমাটা রাখা হচ্ছে না, সেজন্য সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যদি কোনোটা আইনশৃঙ্খলা পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন সেটা সরকারের দায়িত্ব। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বললো না বললো সেটা তো সরকারের দায়িত্ব না।  

নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্তব্য করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেখানে অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত তো দেওয়ার সুযোগ রাখে না। তার বিশ্লেষণ থাকতে পারে কিন্তু কে জিতলে কী ধারণা করবে জিতবার আগেই এত কথা বলে দিলে তো এই মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠ সেরকম মনে করার কোনো সুযোগ নেই।  

ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করা হবে- সরকারের এমন একটা বিবৃতি আছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেনি তা তো ঠিক কথা না। ভোটের যেদিন শিডিউল ঘোষণা হলো সেদিনই তো বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ করা হলো এবং সেটার ভুক্তভোগী আমরাও কয়েকজন আছি। ফলে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি কোনো রকম চেষ্টা করে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে, প্রয়োজনে প্রস্তুতি আমরা বাড়াবো।

মানুষের ভেতরে ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভয় কাজ করছে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, আপনি আমাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেবেন যে কোন মানুষ আপনাকে বলেছে তার ভোট দিতে ভয় লাগছে। আমরা যে এত কয়টা জেলায় গেলাম সব জায়গায় আমরা দেখে এসেছি প্রতিটি জায়গায় নির্বাচনের একটা আমেজ শুরু হয়েছে। যখন আমরা গেছি তখনও কিন্তু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। তো প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়বে, আগ্রহও বাড়বে, আনন্দও বাড়বে। এটা সবসময় বাংলাদেশে হয়ে থাকে। কোনো জায়গাতে কোনো মানুষ আমাকে বলেনি যে আপা ভোট দিতে কেমন করে যাবো আমার ভয় লাগছে। আপনাকে যদি কেউ এটা বলে থাকে আমাদের জানাবেন তার ভয় দূর করার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের।

সরকারের এ উপদেষ্টা আরও বলেন, এই যে ভয়ের একটা আবহ তৈরি করা নানান প্রচার-প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, নানান কিছু ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে দিয়ে একটা ভয়ের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্যই বলা হচ্ছে যে পতিত স্বৈরাচার যদি নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্ন করার জন্য কোনো কাজ করে আমরা সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।


বৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একগুচ্ছ কর্মসূচি

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একগুচ্ছ কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে যাচ্ছেন। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

সফরের শুরুতে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুর দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

এরপর দুপুর ২টায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে বিশ্রাম নেবেন তিনি।

বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করবেন। রাত ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ চলছে। একইসঙ্গে পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। জনসভাস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ দিকে।

জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সভাস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা স্থাপন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চলছে।

সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কার কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পাশাপাশি পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশের এলাকাতেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। একইভাবে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।

এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে আসার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর সফরের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়।