শেয়ার বাজার

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে মালদ্বীপে জোরালো অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে মালদ্বীপে জোরালো অভিযান

মালদ্বীপে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৫০৭টিরও বেশি অভিবাসন মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে ৯৭৬টি মামলা ইমিগ্রেশন বিভাগ দিয়েছে। তবে এখনো ২৪৪টি মামলা যাচাই করা হয়নি এবং ১১৬টি মামলা তদন্তাধীন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, ইমিগ্রেশন সংস্থার বাইরে থেকে ১৭১টি মামলা দায়ের হয়েছে।

শুধু অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় নয় বরং শহর, আবাসিক এলাকা, শিল্প গ্রাম ও কৃষি গ্রামে অবস্থানরত বিদেশিদের তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালাচ্ছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য প্রস্তুতকারী সাইটগুলোতে নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য আলাদা অপারেশনও চালু করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মালদ্বীপে সব বিদেশি নাগরিকের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা। আগামী তিন বছরের মধ্যে অভিবাসন সমস্যার পূর্ণ সমাধান হয়ে যাবে বলে স্থানীয় গণমাধ্যকে জানানো হয়েছে।

ইতালিতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

ইতালিতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাস সে দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যা সোমবার (১ জুন) ভিসা প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল নিশ্চিত করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে প্রাথমিক নিবন্ধন (প্রি-এনরোলমেন্ট) শেষ করেছেন, তাদের সাথে ভিএফএস গ্লোবাল সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারের তারিখ জানিয়ে দেবে। ফলে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে না। নিবন্ধনে ব্যবহৃত ই-মেইলটিই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে।

আর্থিক সহায়তার (স্পন্সর) ক্ষেত্রে এবার বড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাবা-মায়ের পাশাপাশি দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা-ফুপু, মামা-খালা, তাদের সন্তান এবং ইতালিতে অবস্থানরত আত্মীয়স্বজনও এখন থেকে আর্থিক গ্যারান্টর হতে পারবেন।

ভাষা দক্ষতার সনদের ক্ষেত্রে শর্ত হলো, এটি অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত হতে হবে, যেখানে শোনা, বলা, পড়া ও লেখার পৃথক মূল্যায়ন থাকতে হবে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যতা যাচাইয়ে সিআইএমইএ সনদ অথবা ‘ডিক্লারেশন অব ভ্যালু’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রি-এনরোলমেন্ট ভিত্তিক শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের এই নির্দেশনাগুলো গুরুত্বের সাথে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


৭ দিনে প্রবাসী আয় ৯ হাজার কোটি টাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৫

৭ দিনে প্রবাসী আয় ৯ হাজার কোটি টাকার

দেশ থেকে অর্থপাচার কমেছে। কমেছে হুন্ডির দৌরাত্মও। আর এসব কারণে বৈধপথে বাড়ছে রেমিট্যান্স। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেড়ে গেছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের গতিপ্রবাহ। দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স আসায় একের পর এক রেকর্ড হতে থাকে। সর্বোচ্চ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যথাক্রমে মার্চ ও এপ্রিলে।

রেমিট্যান্স আসার সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। চলমি মাস মে’র প্রথম সাত দিনেই ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি (৮ হাজার ৯৬৭ কোটি) টাকা। আর প্রতিদিন আসছে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১২৮১ কোটি টাকা। এভাবে রেমিট্যান্স এলে চলতি মাসে আবারও রেকর্ড হতে যাচ্ছে অর্থাৎ তিন বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মে মাসের প্রথম সাত দিনে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা তার আগের বছরের একই সময়ে (মে, ২০২৪) সাড়ে ১৩ কোটি ডলার বেশি। ২০২৪ সালের মে মাসের প্রথম সাত দিনে এসেছিল ৬০ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৫২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত এসেছিল এক হাজার ৯৭২ কোটি ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি এসেছে। অর্থবছরের হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স আসার প্রবৃদ্ধি ২৮.২ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে এসেছে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে এসেছে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার এবং সবশেষ এপ্রিলে আসে ২৭৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।


ফ্রান্সে জরিমানা গুনলেন বাংলাদেশি অভিবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৫

ফ্রান্সে জরিমানা গুনলেন বাংলাদেশি অভিবাসী

ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করার দায়ে এক বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে দেশটির ব্রেস্ট শহরের একটি আদালত। ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ফরাসি গণমাধ্যম ওয়েস্ট ফ্রন্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ পাড়ি দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে ফ্রান্সে এসেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন।

যদিও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে সাক্ষাৎকারে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে তার আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওই বাংলাদেশি অভিবাসী ২০২৪ সালের ১২ জুলাই অন্য তিনজন অভিবাসীর সঙ্গে একটি ট্রাকের পেছনে লুকিয়ে ফ্রান্সে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রোস্কফ শহরে সীমান্ত পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন।

ট্রাকটি যুক্তরাজ্য থেকে আসছিলো। চালক ছিলেন রোমানিয়ার নাগরিক। তদন্তকারীদের চালক বলেছিলেন, এক পাচারকারীর চাপে পড়ে অভিবাসীদের ফ্রান্সে নিয়ে আসতে রাজি হয়েছিলেন তিনি। এজন্য তাকে আটশো ইউরো দেওয়া হয়েছিলো।

অনিয়মিত প্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক আদালতে বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণে নিরাপত্তার অভাবে দেশ ছেড়েছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার ধর্মের কারণে ঝুঁকিতে ছিলাম। আমি এখানে শান্তিতে বাঁচতে চাই। বর্তমানে ওই ব্যক্তি বৃহত্তর প্যারিসের সারসেল শহরে একটি এনজিওর সহায়তায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তার ফ্রান্সের কাজের অনুমতি না থাকায় তিনি এখনও কোনো পেশায় যুক্ত হতে পারেননি।

ব্রেস্ট শহরের আদালত তার অনিয়মিত প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও আপাতত কঠোর শাস্তি আরোপ করেনি।

বরং মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে শর্ত সাপেক্ষে ১৫০ ইউরো অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে আর কোনো ফৌজদারি অপরাধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলে তাকে এই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে না।

কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে কঠিন জরিমানার মুখোমুখি করা হতে পারে।

ইতালি, ব্রিটেন ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনিয়মিত উপায়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে সাধারণত জরিমানা আরোপ করে থাকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রোতাইয়ো অনিয়মিতভাবে ফ্রান্সে প্রবেশ ছাড়াও বসবাসকেও অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চান বলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখ করেছেন।

২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে অনিয়মিত উপায়ে বসবাস করা আইনিভাবে সাজার আওতাধীন ছিল।

পরবর্তীতে সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে নির্বাচিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া অলান্দ এ ব্যবস্থাটি বাতিল করে নতুন অভিবাসন আইনের অনুমোদন দিয়েছিলেন। এখনও সেই সিদ্ধান্তটি বহাল রয়েছে।

ডান এবং অতি ডানপন্থিরা অনুমোদনবিহীন বসবাসকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলে আসছে।

ফ্রান্সের ডানপন্থি সংসদ সদস্যরা ২০২৪ সালের জানুয়ারির অভিবাসন আইনে এই ব্যবস্থাটি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাংবিধানিক কাউন্সিল তা বাতিল করে দিয়েছিল।

পরে ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হয়।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের জরিমানা এবং ফরাসি ভূখণ্ড থেকে বিতাড়নের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে জরিমানা আরোপ নিয়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি পরে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস