শেয়ার বাজার

জুলাই অভ্যুত্থান: মামলায় ৪০ গুলির দাবি, তদন্তে মেলেনি একটিও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থান: মামলায় ৪০ গুলির দাবি, তদন্তে মেলেনি একটিও

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন হয় আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের। ৩৬ দিনের গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার দিন ৫ আগস্ট পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় হাজারের বেশি মানুষ, স্থায়ী পঙ্গু হয় আরও ২০ হাজারের বেশি জনতা।

 
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর শুরু হয় জুলাই গণহত্যার বিচারের প্রক্রিয়া। কিন্তু সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে হতে থাকে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি পর্যায়ের মামলা। যেসব মামলা নিয়ে এরইমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাপকভাবে।
 
ওই বছর ৪ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনে আহত হন রিমন। এমন অভিযোগে অভ্যুথানের পর মামলা করেন তার বাবা। অভিযোগ ছিল ৪০টি গুলি করা হয় তার ছেলে রিমনকে। কিন্তু তদন্তে মেলেনি একটি গুলিরও প্রমাণ। ধানমন্ডি এলাকায় জুলাই আন্দোলনের আরেক মামলায় অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি আহত ব্যক্তির। যাত্রাবাড়ীতে এক মামলায় জীবিত ব্যক্তিকে দেখানো হয়েছে মৃত। এসব তথ্য উঠে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে।
                                                                                                                       
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, 
মামলার বাদী আদালতে এসে হলফনামা দিয়েছেন যে, তাকে আসামি করা হয়নি। তাহলে আসামি করেছেন কে, সেটারও কোনো হদিস পাচ্ছি না। বাদীই জানেন না আসামি কে দিয়েছেন! এমনকি আসামিকে পর্যন্ত বাদী চেনেন না।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে অনেককে এ মামলাগুলোতে জড়ানো হয়েছে। একই বিষয় নিয়ে একাধিক থানায় যেসব মামলার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো চার্জশিটে ফুটে উঠছে।’
 
শুধু পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তেই ১৬৫ মামলার মধ্যে ভুয়া শনাক্ত হয়েছে ৩১টি। বাকি ১১১টি মামলার ৯ হাজার ৬৯১ আসামির মধ্যে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে ৩ হাজার ৭৭০ জনের বিরুদ্ধে। তবে প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে দাবি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীর। রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে বর্তমান সরকার ভুয়া মামলা শনাক্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
 
‘থানার কর্মকর্তাদের বলে দেয়া হয়েছে, অভিযোগের স্পষ্টতা না থাকলে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদেরকেই অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।  
 

 

সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ্‌ বলেন, 

নিরীহ মানুষকে ঢালাওভাবে গ্রেফতার করা এবং মামলা করলেই একটা বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা-- এই দুইটার কারণেই মামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে এটাকে একটা ব্যবসাও বানিয়ে নিয়েছে।
এদিকে, দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের প্রত্যাশায় যে জুলাই গণ-অভ্যুথান, সেই চেতনাই প্রশ্নবিদ্ধ হয় এসব ভুয়া মামলার মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশাসন ও বিচার বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলেও অভিযোগ তাদের।
 
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘কোনো পুলিশের পক্ষে জুলাইয়ের মামলায় কাউকে অব্যাহতি দেয়া তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। কারণ এখানে মবের একটা বিষয় আছে। থানায় আক্রমণ করা হয়, আদালতে আক্রমণ করা হয়।’


কিশোর গ্যাং
দুইদিনে গ্রেফতার ৭৫ জামিনে সুপারিশ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৪

দুইদিনে গ্রেফতার ৭৫ জামিনে সুপারিশ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

রাজধানীর তেজগাঁও, গুলশান, উত্তরা ও মতিঝিল এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে গত দুদিনে ৭৫ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে বর্তমানে ধনীর সন্তানরাও জড়িয়ে যাচ্ছে। তারা মারামারিসহ হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চলবে। তাদের জামিনের বিষয়ে কেউ সুপারিশ নিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (৬ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, দুদিনে ৭৫ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্বের কারণে সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। কিশোর গ্যাং সদস্যরা ছিনতাই, ইভটিজিং, হুমকি দেওয়া, স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের ভয় দেখানো ও বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা পরিস্থিত সৃষ্টি করে। এ কাজগুলো তারা দলবদ্ধ হয়ে করে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নানা নামে প্রভাব বিস্তার করে আসছে তারা।

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়োং স্টার, বিগবস, ডিস্কো বয়েজ, বন্ধুমহল, শীল বিষু গ্যাং, পারভেজ গ্রুপ, রুস্তম গ্রুপ, ইয়োং স্টার গ্রুপ, নাইনএমএম গ্রুপ, নাইন স্টার গ্রুপ, রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বল গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলো মাদক, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করে আসছে। তাদের কিছু বড় ভাইয়ের ছত্রচ্ছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এমনকি তারা চুরি-ছিনতাই করে আসছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গত দুই বছরে ৩৪ জন কিশোর নিহত হয়েছে।


হারুন অর রশীদ আরও বলেন, একসময় মনে করতাম ভাসমান ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যবিত্ত, ধনীদের আলালের ঘরে দুলালরাও কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের পোশাক, চুলের কাটিং চলাফেরা সবই ভীতিকর। এসব ধনীর সন্তানরা প্রথমে মাদকসেবন, পরে মাদক বিক্রিতেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তারা এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক বড় ভাই আবার কখনো কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে থেকে তারা হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরদের ছত্রচ্ছায়ার অভিযোগ রয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুদিন ৭৫ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সবাই কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত থাকার কথা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে।

কিশোর গ্যাং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ উল্লেখ করে ডিবিপ্রধান বলেন, এখন যে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে। এসব কিশোর স্কুলে পড়ালেখা বাদ দিয়ে মাদকসেবনের মতো উশৃঙ্খল জীবন-যাপন করছে। গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে। তবে আমি মনে করি অভিভাকদের উচিত তার সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মিশে তার খোঁজ রাখা। পাশাপাশি মা-বাবার উচিত সন্তানদের সময় দেওয়া। গ্রেফতার করে কিশোর গ্যাং দমন করা যাবে না। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয় দেওয়া বড় ভাইদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক বড় ভাইয়ের নাম পেয়েছি। এসব নাম তদন্ত করে দেখবো কারা কারা কিশোর গ্যাং সদস্যদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তবে আমি মনে করি এসব কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপরাধ করার তথ্যতো কাউন্সিলররা জানেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা কিন্তু বড় বা রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে। মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ করে। কিশোর গ্যাংয়ের এমন দৌরাত্ম্যের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পরিবারের সদস্যদের কিশোর গ্যাং দমনে এগিয়ে আসতে হবে। কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চলবে। এ বিষয়ে কেউ সুপারিশ নিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


১২৪ এজেন্সির নিবন্ধিত হজযাত্রী নেই, ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি;ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৪

১২৪ এজেন্সির নিবন্ধিত হজযাত্রী নেই, ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি;ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

আগামী বছরের হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমতি পাওয়া এজেন্সির মধ্যে ১২৪টির কোনো প্রাক/নিবন্ধিত বা প্রাথমিক নিবন্ধিত হজযাত্রী নেই।

শর্ত অনুযায়ী এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এ বিষয়ে হজ এজেন্সিগুলোর কাছে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় হিজরি ১৪৪৬/২০২৫ সালের হজের জন্য মোট ৮৯১টি হজ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকার শর্তাবলি ১(ঝ) এর শর্ত নিম্নরূপ-প্রকাশিত তালিকার কোনো এজেন্সি হজ ২০২৫ মৌসুমে যৌক্তিক কারণ ছাড়া হজযাত্রী নিবন্ধন না করলে সেই এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এতে আরও বলা হয়, হজ ২০২৫ সালের জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। কিন্তু অনুমোদিত তালিকায় প্রকাশিত হজ এজেন্সির মধ্যে ১২৪টি হজ এজেন্সির কোনো প্রাক-নিবন্ধিত/প্রাথমিক নিবন্ধিত হজযাত্রী নেই।

এ অবস্থায় ১২৪টি হজ এজেন্সিকে দ্রুত হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন/প্রাথমিক নিবন্ধন করার জন্য অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। ৩০ অক্টোবর হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন। শনিবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ৮ হাজার ৩৩৪ জন প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন।


নজর কাড়ছে ৭৬ কেজির ছাগল, খামারে দর্শনার্থীদের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬

নজর কাড়ছে ৭৬ কেজির ছাগল, খামারে দর্শনার্থীদের ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তিনটি বিশাল আকৃতির ছাগল। দূর থেকে দেখে মনে হয় ছোটখাটো ঘোড়া। কিন্তু কাছে যেতেই বোঝা যায়, এগুলো ঘোড়া নয়, ছাগল। একেকটির ওজন ৫৪ থেকে ৭৬ কেজি। বিশাল আকৃতির ছাগলগুলো ইতিমধ্যে এলাকার মানুষের নজর কেড়েছে। এগুলো এখন সাতক্ষীরার ঈদবাজারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার আমিরুল ইসলামের খামারে বেড়ে ওঠা ছাগলগুলো দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ–বা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হলেও আমিরুলের ছাগল তিনটি আলাদা করেই নজর কেড়েছে।

খামারের মালিক আমিরুল ইসলাম পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বিদেশি জাহাজে কাজ করছেন। ছুটিতে দেশে এসে প্রায় ৬ বছর আগে শখের বশে ২৮ হাজার টাকা দিয়ে ১টি পুরুষ ছাগল এবং ১২ হাজার টাকা করে ২টি মাদি ছাগল কিনে খামার শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগ এখন বড় পরিসরে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তাঁর আট বিঘা জমিতে গাছপালা, মাছের পুকুর ও কবুতরের খামারের পাশাপাশি ছাগলের খামারে ৩৮টি ছাগল আছে। আর দেড় বিঘা জমিতে ছাগলের খাবারের জন্য নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে আমিরুলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, কালো, খয়েরি ও সাদা রঙের বড় তিনটি ছাগল। তাদের পরিচ্ছন্ন আলাদা ঘরে রাখা হয়েছে। দুপুর হলেই গোসল করানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়া হয় খাবার। দেখে মনে হয়, যেন পরিবারের সদস্য।

আমিরুল ইসলাম জানান, ঈদুল আজহা সামনে রেখে তিন বছর ধরে বিশেষভাবে কয়েকটি বড় ছাগল প্রস্তুত করেছেন। এবার করেছেন তিনটি ছাগল। এর মধ্যে সাদা ছাগলটির ওজন ৭৬ কেজি, খয়েরিটি ৬৪ কেজি এবং কালোটির ওজন ৫৪ কেজি। তিনজন কর্মচারী সার্বক্ষণিক এগুলোর দেখভাল করেন। গোসল করানো থেকে শুরু করে খাওয়ানো—সবকিছুতেই বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। প্রতিদিন তিনবার বিশেষ খাবার (ভুসি, কুঁড়া, পালিশ, সয়াবিন খইল ও তাজা ঘাস) দেওয়া হয়। প্রতিদিন তিনটি ছাগলের খাবারের জন্য প্রায় ৩০০ টাকা খরচ হয়।

জীবন্ত অবস্থায় ওজন করে প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে ছাগলগুলো বিক্রি করতে চান আমিরুল ইসলাম। ইতিমধ্যে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু খয়েরি রঙের ছাগলটি কিনে নিয়েছেন। প্রতি কেজি ৭০০ টাকা করে দাম পড়েছে ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা। তবে ছাগলটি তিনি এখনো নিয়ে যাননি।

প্রায় দুই মণ ওজনের ছাগল দেখতে আমিরুলের খামারে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে ভিডিও দেখে এসেছি। সরাসরি দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। এত বড় ছাগল আমাদের দিকে খুব একটা দেখা মেলে না।’ কলেজছাত্র শাওন হোসেন বলেন, ‘ছাগলগুলো শুধু বড়ই নয়, খুব সুন্দর। দেখলে মায়ায় জড়িয়ে যেতে হয়। দেখলেই বোঝা যায়, খুব যত্ন নেওয়া হয়।’

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, দেশে সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করেন সবাই। তবে কেউ কেউ ক্রস জাতের ছাগল পালন করছেন। এই জাতের ছাগল অনেক বড় হয়। খরচ ও পরিশ্রম একটু বেশি হলেও এ ধরনের ছাগলের প্রচুর চাহিদা আছে।