?> জাতিসংঘের প্রশাসনিক দায়িত্বে জাইমা রহমান, লিগ্যাল অফিসারের কাজ কী? | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

জাতিসংঘের প্রশাসনিক দায়িত্বে জাইমা রহমান, লিগ্যাল অফিসারের কাজ কী?

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের প্রশাসনিক দায়িত্বে জাইমা রহমান, লিগ্যাল অফিসারের কাজ কী?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাইমা রহমান। যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রিধারী জাইমা রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। 

জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দফতরের কর্মকর্তাদের তালিকায় জাইমা রহমানের নাম ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দফতরে বিভিন্ন পদে ৪০ জন কর্মকর্তা ও কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন।

জাতিসংঘের প্রকাশিত জীবনীতে বলা হয়েছে, জাইমা রহমান একজন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতিবিষয়ক পেশাজীবী। তিনি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার আগ্রহের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার, শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সভাপতির কার্যালয়ের সার্বিক আইনি বিষয় ও কার্যক্রম আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করাই একজন লিগ্যাল অফিসারের মূল কাজ। যার মধ্যে রয়েছে সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত বিভিন্ন চুক্তি, প্রস্তাবনা ও নীতিনির্ধারণী দলিলের আইনি দিকগুলো নিরীক্ষা করা। সেই সাথে জাতিসংঘের সনদ ও অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী মেনে সভাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা এবং সভাপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি বিশ্লেষণ ও দাপ্তরিক নথি প্রস্তুত করা তার প্রধান দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়াও লিগ্যাল অফিসার হিসেবে তাকে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অংশীদারদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি সম্পাদনা এবং চূড়ান্তকরণে সহায়তা করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, জলবায়ু কূটনীতি ও গ্লোবাল গভর্নেন্স-এর মতো ক্ষেত্রগুলোতে নীতির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আইনগত গবেষণার কাজ করবেন জাইমা রহমান।জাইমা রহমান যুক্তরাজ্যে তার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। আইনি ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যে আইন পেশা অনুশীলনের জন্য তিনি দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দি ইনার টেম্পল থেকে পেশাদার বার-অ্যাট-ল সনদ অর্জন করেন। এরপর তিনি সংবিধানিক আইন, কর্পোরেট আইন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক আইন নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর, তিনি তার বাবা-মায়ের সাথে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত

অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

বরখাস্তকৃতরা হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান এবং গাজীপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এস এম মেহেদী হাসান ডিএমপির (ট্রাফিক-দক্ষিণ) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। পরবর্তীতে তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং ই-মেইলে নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি কর্মস্থলে হাজির হননি। 

মেহেদী হাসান ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুসারে ‘পলায়ন’ এর আওতাভুক্ত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ অধিদপ্তর থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়। এ প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৯ জুন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

জবাব দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি জবাব দাখিল করেননি। 

একইসঙ্গে তিনি সময় বৃদ্ধিরও কোনো আবেদন করেননি। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এবং অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপযোগ্য হবে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় অভিযোগসমূহ তদন্তের জন্য ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। 

তদন্ত শেষে দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে ‘পলায়ন’- এর অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। বিধি মোতাবেক চলতি বছরের ৪ জুন দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করা হয়। তিনি দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশেরও জবাব দাখিল করেননি।

এস এম মেহেদী হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। 

এরপর এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। সরকারি কর্মকমিশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা যায় মর্মে পরামর্শ প্রদান করে। 

‘পলায়ন’ এর অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। 

অপর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী গাজীপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এ কর্মরত থাকাকালে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসক তাকে দুই মাসের বিশ্রামের পরামর্শ দেন। বিশ্রাম শেষে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার কর্মস্থলে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি যোগদান করেননি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। কর্মস্থলে হাজির হওয়ার জন্য তার স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ জারি করা হলেও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি  থেকে কর্মস্থল থেকে প্রস্থান করে অদ্যাবধি কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এ ধরনের কর্মকান্ড সরকারি দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা এবং ‘অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’-এর আওতাভুক্ত যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ অধিদপ্তর হতে পত্র প্রেরণ করা হয়। বিধি অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তিনি জবাব দাখিল করেননি। একইসঙ্গে তিনি সময় বৃদ্ধিরও কোনো আবেদন করেননি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের গুরুত্ব বিবেচনায় এবং অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপযোগ্য হবে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’'-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে মতামত প্রদান করা হয়েছে। তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

তিনি দ্বিতীয় কারণ দর্শানে নোটিশেরও জবাব দাখিল করেননি। মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরে সরকারি কর্মকমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। সরকারি কর্মকমিশন তাকে ‘চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ’ সূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা যায় মর্মে পরামর্শ প্রদান করে। 

বিধি অনুসারে, অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।


নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ইউ আর আ টেরোরিস্ট’ এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলে চিৎকার করছিলেন।

এছাড়া, বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে সঙ্গে থাকা সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যায় ড. ইউনূস।


তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে বাদ দেওয়া গণভোটের বিধান আদালতের রায়ের পর সংশোধিত সংবিধানে পুনরায় যুক্ত করা হবে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যে সংশোধনীটা আমরা সামনে গ্রহণ করব—সে জায়গায় এমন কিছু আর্টিকেলের পরিবর্তন, সংশোধন সংযোজন আসবে; যেগুলো পরিবর্তনে সংশোধনের পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা হচ্ছে সাংবিধানিক গণভোট। আগে যে গণভোট হয়েছে সেটা আইনি গণভোট। এই সাংবিধানিক গণভোটটা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যে সংশোধনটা আমরা সামনে আনব—সেখানে প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আসবে। আর্টিকেল ৪৮ ও ৫৬-এ আসবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আমরা কেন ধারণ করব, সেই বিষয়গুলো আসবে। আর্টিকেল ১৪২-এ যেখানে গণভোট ছিল না, শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার সেটা উড়িয়ে দিয়েছিল। সেখানে আবার সেটা আমাদের ধারণ করতে হবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরায় আমরা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটা যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহজে পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য আমরা ওইটা পরিবর্তন করলেও ভবিষ্যতে জনগণের কাছে যাতে যেতে হয়, সেটায় গণভোটের বিধান রাখতে হবে। সেজন্য এই পরিবর্তনগুলো এবং এই সাংবিধানিক সংশোধনীগুলো আমরা সংবিধানে নিয়ে আসলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে আমাদের গণভোট দিতে হবে।’

সংবিধানে বর্তমানে গণভোটের কোনো বিধান নেই—এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়ার বৈধতা ছিল না। হাইকোর্ট ওই পরিবর্তনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন এবং আগের বিধানই সঠিক ছিল বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’-এর উদাহরণ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার ব্যাখ্যা, কোনো অসাংবিধানিক পরিবর্তন আদালত বাতিল করলে আগের সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হওয়ার প্রশ্নটি এ নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সংসদে পুনরায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না করা পর্যন্ত বিষয়টি পুরোপুরি প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলা যায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের রায়ের ভিত্তিতেই সংবিধানের আসন্ন সংশোধনীতে গণভোটের বিধান পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও অন্যান্য মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক গণভোটের বিধান রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরিয়ে আনার পর ভবিষ্যতে কেউ তা পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে। এভাবে একটি সমৃদ্ধ সাংবিধানিক সংশোধনী আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত হয়। পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আনা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাদ দেওয়া হয়। একই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল অংশগুলো অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন করে সাংবিধানিক আলোচনায় আসে।

আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধানের সংশোধিত রূপ বা নতুন একটি টেক্সট প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধান পুনঃস্থাপনের বিষয়টি রাখা হবে।