?> জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ৩৪তম তলায় দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ৩৪তম তলায় দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের দিনই (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অংশ নেবেন তিনি। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে তার সম্ভাব্য ভাষণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে এবং বিকালের অধিবেশনে নির্ধারিত ১৮ জন বক্তার মধ্যে তারেক রহমান ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

ভাষণের আগে বৃহস্পতিবার সকালেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী এবং সেখানে পাঁচ মিনিটের উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।

এরপর দুপুরে মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক আরও একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীর সমাপনী বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা পর্যন্ত 'ইউএন বাইল্যাটেরাল বুথে' থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

এর আগে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

প্রেস উইং আরও জানায়, সাধারণ অধিবেশনে ভাষণদান শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন অথবা তার থাকার জন্য নির্ধারিত হোটেল 'হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে' ফিরবেন। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির কার্যালয়ে আয়োজিত এক নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি।

পরের দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটি আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১১টায় কুয়েতের স্থায়ী মিশনে দেশটির ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি।

এরপর দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। যেখানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক প্রবণতা ও নানা ঝুঁকি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হবে। মধ্যাহ্নভোজ শেষে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফর শেষে ওই দিনই (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় (দুবাই সময়) দুবাই পৌঁছাবে।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ২টায় দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে দেশে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি তত বাড়ছে। জনমনে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তৈরি হচ্ছে ভীতির পরিবেশ। প্রায় প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের তৎপরতার খবর সামনে আসায় নির্বাচনকেন্দ্রিক জননিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে সামনে আসছে।

নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথারীতি তৎপরতা দেখালেও বাস্তব অবস্থার প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মধ্যেও অবৈধ অস্ত্রের অবাধ বিচরণ মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। জনমনে ফেলছে শঙ্কার ছায়া।

স্ত্রের এ মহড়ার দ্রুত লাগাম টানা না গেলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতে পারে, যা একদিকে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা যেমন বাড়াবে, সরকারের জন্যও তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে উঠতে পারে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুনের ঘটনায়ও অপরাধীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে, যা আসন্ন দিনগুলোতে এই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে যেসব খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু ভোটারদেরই নয়—নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রার্থীদেরও আতঙ্কিত করে তুলতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে—মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের বহু থানা থেকে অস্ত্র লুট করা হয়েছে। সেসব অস্ত্র কী পরিমাণ উদ্ধার হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। নতুন করে দেশের বাইরে থেকেও অস্ত্র ঢুকছে বলে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনের মাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না—রয়েছে এ সংশয়ও।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।—ডিএমপির তথ্য

তবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর ক্যাম্প কমান্ডার কে এ এম মামুন খান চিশতী জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশে অস্ত্র মজুতের গোপন সংবাদ জানতে পারে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচটি গুলিসহ দুজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২।

গত ৬ জানুয়ারি ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানার আরমান কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে অত্যাধুনিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ চার সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল।

গত বছরের ২৭ মে ভোরে কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকায় তিন ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে সুব্রত বাইনের অন্য দুই সহযোগী শুটার আরাফাত ও শরীফকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড অ্যামোনিশন এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮৮টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৭৯ জনকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী থানা লুটের ঘটনায় ৬৪১টি অস্ত্র এখনো পুলিশের হাতছাড়া।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, থানা থেকে লুট হওয়া এই অস্ত্রগুলো এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহার করা ৬৪১টি বৈধ অস্ত্রের হিসাবের বাইরে রাজধানীসহ সারাদেশে এ মুহূর্তে কী পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই পুলিশের হাতে।

দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না আমি তা বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না—স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সেনাবাহিনী, পুলিশ বা র‌্যাবের অভিযানেই শুধু নয়—দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও অস্ত্র উদ্ধার এখন যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ঘটছে খুনের ঘটনা।

হরহামেশা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র একদিন পরই গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদি মারা যান।

হাদিকে গুলির ঘটনার মাত্র একদিন আগেই ১১ ডিসেম্বর দুপুরে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে আবদুর রহমান ভূঁইয়া (৫৫) নামের এক মসলা ব্যবসায়ীকে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীতে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ঢুকে মুখোশ ও হেলমেট পরা সন্ত্রাসীরা পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। ১২ নভেম্বর মধ্য বাড্ডার কমিশনার গলির একটি দোতলা টিনশেড বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন মামুন শিকদার (৩৯) নামের এক ব্যক্তি।

বিদায়ী বছরের শুরুর দিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বনশ্রী ডি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে সোনা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে (৪৩) ফিল্মি স্টাইলে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে প্রায় ১৬০ ভরি সোনা ও নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

গত ২৫ মে রাতে বাড্ডা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে দোকানের সামনে বসে চা পান করছিলেন বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন। হঠাৎ দুজন লোক তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। পরে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে।

২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।—আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য

গত বছরের ১১ নভেম্বর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারেক সাইদ মামুনকে। চারদিন পরই ১৫ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের পশ্চিম লতিফপুর এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নতুন বছরের শুরুতেই গত ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে (৫৫) মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর দুদিন পর ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরের বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৩৮) ডেকে নিয়ে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি

অভ্যুত্থান-পরবর্তীকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থানার অস্ত্র লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী আমাদের ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।’

পুলিশের ব্যবহৃত লুণ্ঠিত অস্ত্র ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এগুলোর সঠিক তথ্য অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বলা যাবে না।

অস্ত্র জমা দিতে সরকারের নির্দেশনা ও পুরস্কার ঘোষণা

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার লুণ্ঠিত অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করে সরকার।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০, মার্চে ৩১৬, এপ্রিলে ৩৩৬, মে মাসে ৩৪১, জুনে ৩৪৪, জুলাইয়ে ৩৬২, আগস্টে ৩২১, সেপ্টেম্বরে ২৯৭, অক্টোবরে ৩১৯ ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৭৯টি। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।—পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য

গত ৬ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাদের পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।

পুরস্কারের পরিমাণ জানিয়ে তিনি বলেন, এলএমজিতে পাঁচ লাখ, এসএমজিতে দেড় লাখ, চায়না রাইফেলে এক লাখ এবং পিস্তল ও শটগানে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। প্রতি রাউন্ড গুলির জন্যও পুরস্কার থাকছে ৫০০ টাকা।

লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাকে কাছের থানায় যোগাযোগ করতে বলেছে পুলিশ

নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গত ২৯ ডিসেম্বর জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন টার্গেট করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

‘দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না তা আমি বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না’—সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিচ্ছে। প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন থাকবেন। শঙ্কার প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনে এখন কোনো শঙ্কা নেই।

প্রশাসনেও শঙ্কার ছাপ

অবৈধ অস্ত্র আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বা কোনো আশঙ্কা আছে কি না—জানতে চাইলে পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, দেশে অবৈধ অস্ত্র কী পরিমাণ আছে সেটা তো বলা মুশকিল। আমাদের যদি জানা থাকতো যে এখানে ১০০টি অবৈধ অস্ত্র আছে তাহলে সেই অস্ত্রগুলো রিকোভারি করতাম। শুধু নির্বাচন নয়, যে কোনো সময় অবৈধ অস্ত্র দেশের জন্য অবশ্যই একটা থ্রেট। তবে নির্বাচনে মনে হয় না এটির খুব বেশি প্রভাব পড়বে।

র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। গত তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা ১৮৮টি দেশি ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করি। এ সংক্রান্ত ৭৯ জনকে গ্রেফতার করি। এই তিন মাসে আমরা হত্যা মামলার ৫২২ জন আসামিকে গ্রেফতার করি। এছাড়া ডাকাতি মামলার ১৫১ জন, ছিনতাইবিরোধী অভিযানে ৭০ জন, মানবপাচারকারী ৪১ জন এবং মাদক মামলায় এক হাজার ২১০ জনকে গ্রেফতার করি। তিন মাসে আমরা মোট চার হাজার ৩৬৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’

অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। মামলা নিয়ে এমন প্রতিযোগিতা চললে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে—এটিই স্বাভাবিক।—অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক

নির্বাচন সামনে রেখে র‌্যাবের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের যে জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবো।’

‘আমাদের নয় হাজারের কাছাকাছি জনবল রয়েছে। এ নিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবো। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার থাকবে। স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ডিউটি হিসেবে বিজিবি এবং সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে’—যোগ করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক।

রাজনৈতিক সহিংসতায় অবৈধ অস্ত্র

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।

হত্যা মামলার পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ২৯৭টি খুনের মামলা হয়। অক্টোবরে এ সংখ্যা ছিল ৩২০। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে খুনের মামলা বাড়ে ২৩টি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সারাদেশে খুনের মামলা হয়েছিল ৩৯৯টি।

গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের খুনের মামলা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকায় ২২টি ও গাজীপুরে ১১টি খুনের মামলা হয়। তবে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এ সংখ্যা ছিল ২৫টি ও গাজীপুরে তিনটি। পুলিশ রেঞ্জগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকা রেঞ্জে ৫৯টি হত্যা মামলা হয়েছিল। চট্টগ্রাম রেঞ্জে সেপ্টেম্বরে ৫৫টি হত্যা মামলা হলেও অক্টোবরে তা বেড়ে হয় ৫৯টি। এসময়ে খুলনা রেঞ্জে ৩৪টি ও রাজশাহী রেঞ্জে হত্যা মামলা হয় ৪১টি।

খুনের ঘটনায় ১১ মাসে যত মামলা

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০টি, মার্চে ৩১৬টি, এপ্রিলে ৩৩৬টি, মে মাসে ৩৪১টি, জুনে ৩৪৪টি, জুলাইয়ে ৩৬২টি, আগস্টে ৩২১টি, সেপ্টেম্বরে ২৯৭টি, অক্টোবরে ৩১৯টি ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় ২৭৯টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।

২০২৪ সালের একই সময়ে (জানুয়ারি থেকে নভেম্বর) খুনের মামলা হয়েছিল তিন হাজার ২২৮টি।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, তফসিলের আগে চট্টগ্রামে একজন প্রার্থীকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা, তফসিলের একদিন পর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ওসমান হাদির ওপর যে আক্রমণ—সন্দেহ নেই এসব ঘটনা প্রার্থীদের আতঙ্কে রাখবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করবে এবং নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভোটারদের এক ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রাখবে। কারণ, মানুষের ভোটাধিকারের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। চট্টগ্রামে প্রার্থীর ওপর গুলির ঘটনার পরই যদি সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরালোভাবে ব্যবস্থা নিতে পারতো তবে এখনকার পরিস্থিতি হয়তো দেখতে হতো না।

এ অপরাধ বিশেষজ্ঞের মতে, অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং তাদের হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। কোনো হামলা, আক্রমণ বা অপরাধ নিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলে তখন অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে এটিই স্বাভাবিক।

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে’—যোগ করেন ড. তৌহিদুল হক।

জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা জাগো নিউজকে বলেন, সবার কাছে তো অস্ত্র থাকে না। অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্যগুলো যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোগাড় করতে পারে তবে সেগুলো উদ্ধার করা সহজ হয়। এজন্য জনসাধারণের সাহায্য দরকার।

‘এর চেয়েও অতীতে আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। টেনশনের কোনো কারণ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকতে হয়। অবৈধ অস্ত্রগুলো নির্বাচনের আগে দ্রুত উদ্ধার করা দরকার। অস্ত্র উদ্ধারের নানান পথ আছে। সেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অ্যাপ্লাই করতে হবে’—বলেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান।



ইউনূস আমলে পদায়ন বিতর্ক, এবার বদলি ব্যবস্থায় লটারির উদ্যোগ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

ইউনূস আমলে পদায়ন বিতর্ক, এবার বদলি ব্যবস্থায় লটারির উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিনিধি: সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে সাবরেজিস্ট্রারদের বদলিতে প্রথমবারের মতো লটারি পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া এই পদক্ষেপ সফল হলে সরকারি প্রশাসনে বদলি বাণিজ্য বন্ধের ক্ষেত্রে এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্ধারিত সময়ে এ লটারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ঢাকা জেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর জন্য নির্ধারিত পদগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সাবরেজিস্ট্রারদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে বদলি ও পদায়নকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সাবরেজিস্ট্রারের পদও এর বাইরে নয়। অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ও আর্থিকভাবে লাভজনক কিছু এলাকায় পদায়ন পেতে অনৈতিক লেনদেনের আশ্রয় নেওয়া হয়। ফলে একজন কর্মকর্তা যদি কোনো পদে যেতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

বদলি বাণিজ্যের এই সংস্কৃতি কেবল সাবরেজিস্ট্রি অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পছন্দের কর্মস্থল, গুরুত্বপূর্ণ পদ কিংবা আর্থিকভাবে সুবিধাজনক এলাকায় পদায়নকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো পদ ও কর্মস্থলকে ঘিরে অতীতে বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগও গণমাধ্যমে এসেছে। একজন কর্মকর্তা যদি অর্থ ব্যয় করে একটি পদে দায়িত্ব নেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার মানসিকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর সেখান থেকেই দুর্নীতির চক্র আরও শক্তিশালী হতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের পদায়ন নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকার থানাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে অতীতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। শুধু ঊর্ধ্বতন পদ নয়, অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের পদায়ন নিয়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। এসব অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন ওঠে—একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি দায়িত্ব পাওয়ার জন্য ঘুষ দেন, তাহলে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কতটা সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন?

নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়ন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিচার বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি বদলি ও পদায়ন নিয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকে, তাহলে তা পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও পদায়ন ও পদোন্নতিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সচিব পর্যায়ে পদায়ন ও পদোন্নতির জন্য ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্যে—এমন অভিযোগও সে সময় সামনে আসে। একই সময়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদায়নকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সে সময় গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে সরকার পরিবর্তন হলেও বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতিকে ঘিরে অনিয়মের সংস্কৃতি যে সহজে দূর হয়নি, এসব ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়।

বন বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট জেলা বা কর্মস্থলের পদকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করা হয় এবং এসব পদে যেতে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিযোগিতার সুযোগ নিয়েই একটি অনৈতিক লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। উচ্চপর্যায়ের কোনো কোনো পদ নিয়েও অতীতে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে।

ডাক্তারদের পদায়নেও বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। একজন চিকিৎসককে ঢাকায় বদলি হতে লাখ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক চিকিৎসকই ঢাকার বাইরে কর্মরত থাকতে অনাগ্রহী। এর অন্যতম কারণ দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার অতিরিক্ত ঢাকামুখী হয়ে পড়া। ফলে রাজধানীতে থাকার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় এবং কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলে বদলি হতে নানা ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।

ইউনূস আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ব্যাপক বদলি নিয়েও আলোচনা হয়। তিন হাজার মেডিক্যাল অফিসার ও ৫০০ কর্মচারীর চেয়ার রদবদল করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এত স্বল্প সময়ে অতীতে অধিদপ্তরে এমন ব্যাপক বদলি হয়নি—এমন কথাও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচিত হয়েছে। বদলি হওয়া অনেক চিকিৎসক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সরকারি চাকরি যাঁরা করেন, তাঁদের একটি বড় অংশ রাজধানীতে কর্মরত থাকতে চান—এটি বাস্তবতা। কিন্তু ১৮ কোটি মানুষের দেশে সবাই যদি ঢাকায় চাকরি করতে চান, তাহলে ঢাকার বাইরের বিপুল জনগোষ্ঠী সরকারি সেবা পাবে কীভাবে? চিকিৎসা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, ভূমি, প্রকৌশলসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই ঢাকাকেন্দ্রিকতার প্রভাব দেখা যায়। আর এর পেছনে বদলি ও পদায়নের বর্তমান ব্যবস্থারও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।

এই বাস্তবতায় সাবরেজিস্ট্রারদের বদলিতে লটারি পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—কোন কর্মকর্তা কোন কর্মস্থলে যাবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রভাব, তদবির কিংবা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ কমে আসবে। যোগ্য কর্মকর্তাদের নির্ধারিত তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হলে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।

তবে শুধু লটারি চালু করলেই দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হবে—এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। লটারির পাশাপাশি কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলা, কর্মস্থলের প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে লটারির পুরো প্রক্রিয়াটি প্রকাশ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরীক্ষাযোগ্য হওয়া জরুরি। তাহলে এই উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

সাবরেজিস্ট্রারদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সফল হলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদেও এর প্রয়োগ নিয়ে ভাবা যেতে পারে। যেমন জেলা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণকারী কর্মকর্তাদের একটি স্বচ্ছ ফিট লিস্ট তৈরি করে সেখান থেকে নীতিমালার ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণ করা যেতে পারে। একইভাবে থানার ওসি কিংবা চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব।

একজন কর্মকর্তা যদি ঘুষ বা তদবির ছাড়াই কোনো পদে দায়িত্ব পান, তাহলে সেই পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর একটি নৈতিক দায় তৈরি হয়। তখন পদটি পাওয়ার বিনিময়ে অর্থ ফেরত তোলার মানসিকতা থাকার কথা নয়। বরং কর্মদক্ষতা, সততা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবেন—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

তাই সাবরেজিস্ট্রারদের বদলিতে লটারি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগকে শুধু একটি বদলি প্রক্রিয়ার পরিবর্তন হিসেবে দেখলে হবে না। এটি সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং বদলি-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে একটি নতুন ধারণার সূচনা করতে পারে। সরকার চাইলে এই অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে পারে।

দুর্নীতি কমাতে শুধু আইন করে বা শাস্তির ভয় দেখিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে এমন কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোও দূর করতে হবে। বদলি ও পদায়ন যদি সেই দুর্বলতার অন্যতম জায়গা হয়, তাহলে সেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

সাবরেজিস্ট্রারদের বদলিতে লটারি পদ্ধতির এই উদ্যোগ তাই একটি সম্ভাবনাময় সূচনা। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত ও নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা গেলে সরকারি চাকরিতে বদলি-বাণিজ্য কমানোর পাশাপাশি প্রশাসনে জবাবদিহি, নিরপেক্ষতা ও জনসেবার মান বাড়াতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।


শাহজালালে বিমানের টয়লেটে মিললো ১১ কোটি টাকার স্বর্ণ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাহজালালে বিমানের টয়লেটে মিললো ১১ কোটি টাকার স্বর্ণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুর থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ৫০টি স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি।এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।


গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফ্লাইটটিতে স্বর্ণের চালান থাকার তথ্য পেয়ে কাস্টমস গোয়েন্দারা তল্লাশি শুরু করেন।

টানা প্রায় চার ঘণ্টা তল্লাশির পর বিমানটির টয়লেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন ১০ তোলা। সব মিলিয়ে স্বর্ণের পরিমাণ ৫০০ তোলা বা প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি।

যাত্রীর ব্যাগ বা শরীরের পরিবর্তে বিমানটির টয়লেট থেকে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ চালানের সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কিংবা বিমানবন্দরের কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।