শেয়ার বাজার

ঈদ বোনাস দিয়েছে ৯৪.৭০ শতাংশ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ঈদ বোনাস দিয়েছে ৯৪.৭০ শতাংশ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ

সোমবার (২৫ মে) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।

 
এতে বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু রয়েছে মোট ২ হাজার ১৩৩টি কারখানা। যার মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৭৯৪টি ও চট্টগ্রামে ৩৪০টি।
 
এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেছে ২ হাজার ১১৭টি কারখানা, যা শতকরা ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭৮৩টি ও চট্টগ্রামের ৩৩৪টি কারখানা।
 
 
ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে মোট ২ হাজার ২১টি কারখানা, যা শতকরা ৯৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭০৯ টি ও চট্টগ্রামের ৩১২টি কারখানা।
 
এছাড়া মে মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধ করেছে মোট ৭৬৭টি কারখানা, যা শতকরা ৩৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
 
এদিকে, ২৪ মে ঢাকা ছেড়েছে ১০৮টি পোশাক কারখানার কর্মীরা। ২৫ ও ২৬ মে ঢাকা ছাড়বে যথাক্রমে ৬৬৪টি ও ৭৭১টি পোশাক কারখানার কর্মী। আর আগামী ২৭ মে ২৫১টি পোশাক কারখানার কর্মীরা ঢাকা ছাড়বে।

এস আলমের পোড়া চিনি-কেমিক্যাল পড়ে দূষিত হচ্ছে কর্ণফুলি,মরছে মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৪

এস আলমের পোড়া চিনি-কেমিক্যাল পড়ে দূষিত হচ্ছে কর্ণফুলি,মরছে মাছ

চট্টগ্রামের এস আলম সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মিলে আগুনে পুড়ে যাওয়া চিনি ও কেমিক্যাল ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে। এতে বিষক্রিয়ায় মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়া।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এস আলম সুগার মিলের নালা দিয়ে পোড়া বর্জ্য আসছে কর্ণফুলী নদীতে। এতে নদীর পানি তামাটে রং ধারণ করেছে। নদীর তীরে মাছ কুড়াচ্ছে শত শত মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতে ফেলা কেমিক্যাল বর্জ্য কর্ণফুলী নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নদীর পানির রং পরিবর্তনের পাশাপাশি মারা যাচ্ছে মাছ, চিংড়ি-কাঁকড়াসহ নানান জলজ প্রাণী।

শুধু কর্ণফুলী নদীতেই ফেলা হচ্ছে না চিনি মিলের পোড়া বর্জ্য। কারখানার আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায়ও যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দুুপুর ১২টার দিকে এস আলম সুগার মিলের সামনের রাস্তায় চলাচলরত শিক্ষার্থীদের সমস্যা পোহাতে দেখা যায়। মিল থেকে পোড়া বর্জ্য ট্রাকে করে ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশে ও খোলা জমিতে।

ইছানগর এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘এসব কারখানার বর্জ্য নিয়মিতই নদীতে ফেলা হয়। এখন রাস্তাঘাট ও জমিতে ফেলছে, এতে আমাদের পরিবার ও স্বজনরা অসুস্থ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাত থেকে নদীতে মরা মাছ ভেসে আসছে। এছাড়া নানান জাতের মাছ কূলে আসছে, এলাকার মানুষ তা সংগ্রহ করছে।

জাহেদুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকালে নদীতে মাছ ভেসে আসার খবরে এখানে এসেছি। এখানে কেউ জাল দিয়ে আবার কেউ হাতেই মাছ ধরছে। চিনিকলের বর্জ্যে নদীর পানির রং নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক মাছ এরই মধ্যেই মারা গেছে। কিছু দুর্বল হয়ে জালে আসছে।’


অনেকের মতো নদীতে মাছ ধরতে এসেছে শিশু নাহিদ। সে জানায়, কেমিক্যালের কারণে মাছ মারা যাচ্ছে শুনে নদীতে আসা। অনেকেই মাছ ধরছে নদীতে। দুই ঘণ্টায় এক কেজির কাছাকাছি মাছ পেয়েছে সে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনির দাহ্য পদার্থ যখন ৩৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকে তখন বিষাক্ত কেমিক্যালে রূপ নেয়। আর সেখানে পানি ছাড়া হলে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন কার্বন তৈরি হয়। যে কারণে কারখানায় পোড়া চিনি বিষাক্ত কেমিক্যালে রূপ নিয়ে নদী দূষণ করছে। যার কারণে নদীর মাছসহ সব ধরনের জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নদী গবেষক মঞ্জুরুল কিবরিয়া জাগো নিউজকে বলেন, পুড়ে যাওয়া চিনি বিষাক্ত কেমিক্যালে রূপ নিয়েছে। এতে পানির কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে পানিতে অক্সিজেনের শূন্যতা সৃষ্টি হবে। এ কারণে পানিতে থাকা জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে নদীর মাছ মারা যাচ্ছে। এতে কর্ণফুলী নদীর পানি এবং জীববৈচিত্র্যের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হলো।

ড. ইদ্রিস আলী বলেন, শিল্প কারখানা গড়ে তোলার আগে ডাম্পিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার প্রয়োজন ছিল। এটি না করায় কারখানা থেকে পোড়া বর্জ্য পড়ে কর্ণফুলী নদী দূষিত করে তুলছে। যাতে ক্ষতি হবে মৎস্য সম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য। এতে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে তা আর পূরণ হবে না। এজন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও সজাগ হওয়া উচিত ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস আলম সুগার মিলের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হাসমত আলী বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় পুড়ে যাওয়া চিনি নালার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছিল। এখন আমরা ট্রাকে জমিতে পুঁতে ফেলছি।’

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমান বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে ফেলার কারণে মাছ মারা যাচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তদন্ত পরবর্তীসময়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বুধবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে সংবাদকর্মীদের খবর সংগ্রহে মিলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।



শুভ জন্মদিন কাজী নজরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬

শুভ জন্মদিন কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলা ক্যালেন্ডারের হিসাবে গানের বুলবুল আর বাংলা কবিতায় দ্রোহের প্রতীক কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। আমাদের জাতীয় কবি- কণ্ঠশিল্পী, অভিনেতা, সম্পাদক পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অভিমানী হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছিলেন নিপীড়িত-অসহায়ের আর্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কবিতা কোটি তরুণের রক্তে জ্বালায় স্ফুলিঙ্গ। উপন্যাস, নাটক, সঙ্গীত আর দর্শনেও নজরুলের অনবদ্য উপস্থিতি বর্ণাঢ্য করেছে বাংলা সাহিত্যকে।

সৃষ্টিশীল এক অনন্য প্রতিভার নাম, কাজী নজরুল ইসলাম। যিনি একাধারে কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার, নাট্যকার, চলচ্চিত্র অভিনেতা। শিল্পকলার নানান শাখায় ছিল তার অবাধ স্বচ্ছন্দ বিচরণ।

ক্ষণজন্মা এ প্রতিভার জন্ম, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে। শৈশব-কৈশোর কিংবা তারুণ্য, জীবনের পরতে পরতে তার সংগ্রাম। জীবনের বিভিন্ন সময়ে জড়িয়েছিলেন নানা পেশায়। ১৯১৭ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও।


তৎকালীন প্রভাবশালী কবি-সাহিত্যিকদের সংস্পর্শে আসেন তিনি। ১৯২২ সালে প্রকাশ করেন ধূমকেতু পত্রিকা। ব্রিটিশ শাসকদের চক্ষুশূল তো ছিলেন শুরু থেকেই এরপর "আনন্দময়ীর আগমনে" কবিতার জন্য নজরুলকে দেয়া হয় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। মাত্র ২২ বছর ব্যাপ্তির লেখক জীবনে তিনি রচনা করেন প্রায় ৩ হাজার গান, লিখেছেন অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস।

সাহিত্যের পাশাপাশি সংগীত ও চলচ্চিত্রে, পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত চলচ্চিত্র "ধ্রুব"তে অভিনয়ও করেন। তাই তো শুধু কবি পরিচয়েই আবদ্ধ নন নজরুল। বেধেছেন সুরের মায়াজাল; করেছেন অভিনয়, সম্পাদনা করেছেন পত্রিকা। আসানসোলের রুটি বানানো ছেলেটা এখনও বিশাল এক প্রতিষ্ঠান। না থেকেও যার উপস্থিতি প্রতিদিন।

১৯৭২ সালে কবি নজরুলকে সপরিবারে নিয়ে আসা হয় স্বাধীন বাংলাদেশে। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। কবির ইচ্ছানুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।


চার বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

চার বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল চট্টগ্রাম

চার বছরের এক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, ঘেরাও এবং দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। অভিযুক্ত যুবক মনিকে পুলিশ নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেয় স্থানীয়রা। তারা পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চাইলে বাধে সংঘর্ষ। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটার বিসমিল্লাহ ম্যানশন এলাকায় শত শত স্থানীয় বাসিন্দা বিক্ষোভে অংশ নেন। এসময় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কে যান চলাচল। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ডেকোরেশন দোকানের এক কর্মচারী ৪ বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ওই ভবন ঘিরে রাখে। 

পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ শত শত লোকজন অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করে। ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়লে দুই সংবাদকর্মী সহ কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় জনতা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। 

এদিকে, অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।