শেয়ার বাজার

সরকারের ‘ছায়ামন্ত্রী’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে চমক থাকছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদে চমক  থাকছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা চারবার ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে গঠিত হয়েছে ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা। এবার চোখ সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এই কমিটির সভাপতি অনেকটা ছায়ামন্ত্রীর মতোই। নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি, তদারকি ও কাজে গতিশীলতা আনতে সংসদীয় কমিটি করার রেওয়াজ আছে সংসদে। আট থেকে ১৫ সংসদ সদস্যের ওই কমিটিতে একজন থাকেন সভাপতি। আর স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাধারণত হন সাবেক মন্ত্রী বা জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য।

নির্বাচনের পর নতুন সরকার ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের কাছে রেখেছেন তিন মন্ত্রণালয়। বাকি ২৫টিতে মন্ত্রী ও ১১টিতে প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে মূলত চলবে মন্ত্রণালয়। তবে রেওয়াজ অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাজের তদারকি করবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদের দফা (১)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংসদ (ক) সরকারি হিসাব কমিটি, (খ) বিশেষ অধিকার কমিটি এবং (গ) সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি গঠন করবে।

নির্বাচনের পর নতুন সরকার ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের কাছে রেখেছেন তিন মন্ত্রণালয়। বাকি ২৫টিতে মন্ত্রী ও ১১টিতে প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়েছে।

দফা (২)-এ সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যাবলির বর্ণনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কমিটি সংবিধান ও অন্য কোনো আইন সাপেক্ষে (ক) খসড়া বিল ও অন্যান্য আইনগত প্রস্তাব পরীক্ষা করতে পারবে; (খ) আইনের বলবৎকরণ পর্যালোচনা এবং অনুরূপ বলবৎকরণের জন্য ব্যবস্থাদি গ্রহণের প্রস্তাব করতে পারবে; (গ) জনগুরুত্বসম্পন্ন বলে সংসদ কোনো বিষয় সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করলে সে বিষয়ে কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজ বা প্রশাসন বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত করতে পারবে।

কোনো মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি সংগ্রহ এবং প্রশ্নাদির মৌখিক বা লিখিত উত্তর লাভের ব্যবস্থা করতে পারবে। এবং (ঘ) সংসদ কর্তৃক অর্পিত অন্য যে কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সব কমিটির কাজের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদে সংসদীয় কমিটি আছে ৫০টি। এরমধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি। বাকিগুলোর মধ্যে রয়েছে- কার্যউপদেষ্টা কমিটি, কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, পিটিশন কমিটি, লাইব্রেরি কমিটি, সংসদ কমিটি, বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিতে কারা আসছেন, এ নিয়েও এখন আলোচনা হচ্ছে। অতীত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই কমিটিগুলো করেন সংসদ নেতা নিজেই। চিফ হুইপ বা স্পিকার সংসদ নেতার অনুমোদনক্রমে এগুলো সংসদে উপস্থাপন করেন। পরে তা গ্রহণ করে সংসদ। স্বভাবতই সাবেক মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ অথবা জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়।

কারা হচ্ছেন ছায়ামন্ত্রী?

এবারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নান। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার অথবা জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন মোহাম্মদ সাদিক বা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বা জাহিদ আহসান রাসেল। খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আসতে পারেন। সাবেক মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আসতে পারেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে। ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

অতীত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই কমিটিগুলো করেন সংসদ নেতা নিজেই। চিফ হুইপ বা স্পিকার সংসদ নেতার অনুমোদনক্রমে এগুলো সংসদে উপস্থাপন করেন। পরে তা গ্রহণ করে সংসদ। স্বভাবতই সাবেক মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ অথবা জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে আসতে পারেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বা প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু আসতে পারেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে বর্তমান সভাপতি আ ফ ম রুহুল হকই থাকছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে ফের আসতে পারেন বর্তমান সভাপতি রওশান আরা মান্নান। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বা রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু আসতে পারেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বা টিপু মুনশি। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন বা উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন বর্তমান সভাপতি শাজাহান খান বা সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে দেওয়া হতে পারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমানকে। কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাককে আনা হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বা কাজী কেরামত আলী। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে স্থান পেতে পারেন সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বা সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার হতে পারেন শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি থাকতে পারেন বর্তমান সভাপতি বেনজির আহমেদ বা বর্তমান কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেক। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সাবেক মন্ত্রী শাহাবউদ্দিন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সাবেক মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বা সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমেদ। সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার হতে পারেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে বর্তমান সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম বা সাবেক মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন অথবা মুজিবুল হককে রাখা হতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন একই মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন এম এ লতিফ। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সাহাদারা মান্নান বা উম্মে কুলসুম স্মৃতি। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন অ্যাডভোকেট আবু জাহির। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেতে পারেন মহিউদ্দিন আহমেদ।

বাজেট
অটোরিকশা থেকেই আসবে হাজার কোটি টাকা রাজস্ব! বাজেটে বড় চমক দিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬

অটোরিকশা থেকেই আসবে হাজার কোটি টাকা রাজস্ব! বাজেটে বড় চমক দিচ্ছে সরকার

সারা দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দূর করার পাশাপাশি রাজস্বের পরিধি বাড়াতে এবার যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার জোরালো প্রস্তুতি চলছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি অটোরিকশা চলাচল করছে, যা থেকে গড়ে মাত্র ১ হাজার টাকা করে কর আদায় করা গেলেও সরকারের ঘরে আসবে প্রায় হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব। প্রাথমিক প্রস্তাবনায় সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ হাজার, পৌরসভায় ২ হাজার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা ট্যাক্স নির্ধারণ করা হলেও, সাধারণ মালিকদের স্বস্তির কথা চিন্তা করে চূড়ান্ত পর্যায়ে এই করের হার অর্ধেক কমিয়ে যথাক্রমে ২৫০০, ১০০০ এবং ৫০০ টাকা করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

"এবার বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে করের আওতায় এনে ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের বড় পরিকল্পনা করছে সরকার।"

নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা ও আইনি জটিলতায় এতদিন এই বিশাল খাতটি করের আওতার বাইরে থাকলেও, নতুন বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালার অধীনে এদের নিয়মের মধ্যে আনা হচ্ছে। এই করের বড় বোঝা মূলত চালকদের ওপর নয়, বরং বহন করতে হবে গ্যারেজ বা রিকশা মালিকদেরই। ঢাকার অটোরিকশাচালক জজ মিয়া ও সুলতান মিয়ার মতো খেটে খাওয়া মানুষেরা জানান, মহাজনেরা ইতিমধ্যে করের দায়ভার নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, ফলে তাদের দৈনিক জমার হার বাড়বে না। উল্টো লাইসেন্সিং ও নিবন্ধনের মাধ্যমে রাস্তায় অটোরিকশার সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করা হলে তাদের দৈনিক আয় আরও বাড়বে এবং সড়কে দীর্ঘদিনের চলাচলের বিশৃঙ্খলাও দূর হবে বলে আশা করছেন এই খাতের সাধারণ চালক ও যাত্রীরা।


তিস্তা ব্যারেজও করবে বিএনপি সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬

তিস্তা ব্যারেজও করবে বিএনপি সরকার: প্রধানমন্ত্রী

শুধু পদ্মা ব্যারেজ নয়, এর পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজেরও কাজ শুরু করবে বিএনপি সরকার। তিনি বলেন, অনেকেই বড়ো বড়ো কথা বললেও বিএনপি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে গাজীপুরে এক সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

এর আগে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ও দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’-এর। দিনব্যাপী গাজীপুর সফরের অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে টঙ্গীর সাতাইশে এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউট আঙিনায় একটি তাল গাছের চারা রোপণ করেন এবং পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

পরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সুধী সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের ওপারে ব্যারেজ নির্মাণের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। দেশের মানুষ যেন পানি পায়, সেজন্য আমরা পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ করবো। ফারাক্কা বাঁধের ফলে সমুদ্রের পানি ঢুকে উপকূলের লবণাক্ততা বাড়ছে। এই সঙ্কট লাঘবে বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে এবং পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজেরও কাজ শুরু করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, বড়ো বড়ো কথা নয়, কাজ যদি কেউ করে থাকে বিএনপি করেছে। অনেকেই বড়ো বড়ো কথা বললেও বিএনপির সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নেই। তবে কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারি, সেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও কাজ করছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিশ্রুত খাল খনন কর্মসূচি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি মোটেও কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়।


খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১১ মামলার শুনানি ১৪ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১১ মামলার শুনানি ১৪ ফেব্রুয়ারি

বার্তাবেলা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা ১১ মামলায় শুনানির জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার এসব মামলায় অভিযোগ গঠন ও মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

অধিকাংশ মামলায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় ও এদিন খালেদা জিয়া অসুস্থতাজনিত কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় তার আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে কেরানীগঞ্জ কারাগারের নবনির্মিত ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামন সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এ তারিখ ধার্য করেন।

১১ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানি ও অপর ১০ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি তাপস পাল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করা হয়। এছাড়া ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রল বোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ ও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই ঘটনায় পরের দিন ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়। অপরদিকে ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়। খালেদা জিয়া ছাড়া এসব মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।