শেয়ার বাজার

ধমক দেবেন না, উড়ে এসে জুড়ে বসিনি : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ধমক দেবেন না, উড়ে এসে জুড়ে বসিনি : মির্জা ফখরুল

জুলাই সনদ ও গণভোটের বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর হুঁশিয়ারির কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা তো উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। আমাদের ধমক দিয়ে লাভ নেই।

১৭টি বছর আন্দোলন করেছি, জেলে গেছি।’

বুধবার (২০ মে) ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল মিলে ১১ দলীয় জোট করেছে। তারা বলছে, জুলাই সনদ অনুযায়ী আইন না করলে দেশে অঘটন ঘটাবে।

আমরা তো উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। আমাদের ধমক দিয়ে লাভ নেই।’

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একটা দল আছে, যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। আমি পরিষ্কার করে বলছি, জামায়াতকে কখনোই দেশের জনগণ ক্ষমতায় আনবে না।

কারণ তারা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছে। জামায়াতকে কোনোভাবেই এই দেশের মানুষ ক্ষমতায় আনতে পারে না।’

ফখরুল আরো বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। দেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছেন।

কুমিল্লা অঞ্চলে ঝুলে আছে ৬০ হাজার এনআইডি আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৪

কুমিল্লা অঞ্চলে ঝুলে আছে ৬০ হাজার এনআইডি আবেদন

কুমিল্লা অঞ্চলের জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, মাঠপর্যায় থেকে উঠে আসা প্রতিবেদন অনুযায়ী কুমিল্লা অঞ্চলে ৫৯ হাজার ৬৬৩টি এনআইডি সংশোধনের আবেদন ঝুলে আছে।

এই অঞ্চলের প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন আট হাজার ৭৮৬টি। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজারের মতো আবেদন অনুমোদন হয়েছে।

এদিকে গত আট মাসে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৭৬৪ জন। এদের মধ্যে আবেদন অনুমোদন হয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৩৯৮ জনের।


সিলেটে কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে দাদিকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

সিলেটে কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে দাদিকে হত্যা

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ঘরের দরজা ভেঙে এক কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাধা দিলে তার দাদি ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তাঁর নাম দিলারা বেগম (৫৪)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ওই কিশোরী ও তার মা। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিলারা বেগমের ছেলে মো. আম্বিয়া প্রায় আট বছর ধরে ওমানে থাকেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে থাকেন। গতকাল রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আম্বিয়ার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে মা সাজনা বেগম ও দাদি দিলারা বেগম জেগে ওঠেন। তাঁরা বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দিলারা বেগম ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। কিশোরী ও তার মাকে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত মা-মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


সিলেটের গোয়াইনঘাটে ঘরের দরজা ভেঙে এক কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাধা দিলে তার দাদি ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তাঁর নাম দিলারা বেগম (৫৪)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ওই কিশোরী ও তার মা। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিলারা বেগমের ছেলে মো. আম্বিয়া প্রায় আট বছর ধরে ওমানে থাকেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে থাকেন। গতকাল রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আম্বিয়ার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে মা সাজনা বেগম ও দাদি দিলারা বেগম জেগে ওঠেন। তাঁরা বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দিলারা বেগম ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। কিশোরী ও তার মাকে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত মা-মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আবদুল মতিন বলেন, এর আগেও প্রবাসী আম্বিয়ার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া আম্বিয়ার সঙ্গে এলাকার আরেক ওমানপ্রবাসীর টাকাপয়সা–সংক্রান্ত বিরোধ ছিল।


গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ওমানপ্রবাসী হারুন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে নিহত ওই নারীর ছেলে আম্বিয়ার আর্থিক বিরোধ ছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসও হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হামলার ঘটনায় হারুনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে সিলেটের বিয়ানীবাজারে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে আরেক বন্ধু নিহত হয়েছে। নিহত ও অভিযুক্ত দুজনেই কিশোর। গতকাল সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোর বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে দুই বন্ধু মিলে আম পেড়ে আনে। সন্ধ্যায় আম খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আম খাওয়ার ছুরি দিয়ে একজন আরেকজনকে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই এক কিশোরের মৃত্যু হয়।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, নিহত কিশোরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কিশোরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


মা কবরে বাবা কারাগারে: দরিদ্র নানা-নানির কাঁধের বোঝা ৬ শিশু

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

মা কবরে বাবা কারাগারে: দরিদ্র নানা-নানির কাঁধের বোঝা ৬ শিশু

ফাঁকা বাড়ি, নেই কোনো বেষ্টনী। উঠোনের দুইপাশে দুইটি চুলা এখনো পড়ে আছে। ক’দিন থেকে বাড়িতে সুনসান নীরবতা। সন্ধ্যায় বাড়িতে বাতি জ্বালানোর মতো কেউ নেই। ঘরে ঝোলানো তালা।

গত বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে এই বাড়িতে স্বামীর মারধরে মারা যান ছয় সন্তানের জননী মরজিনা খাতুন। ঘটনার পর স্থানীয়রা স্বামী আব্দুল মকিমকে (৪০) আটক করে পুলিশে দেয়।

ঘটনার পর থেকে অবুঝ ছয় শিশু এখন দরিদ্র নানা-নানির আশ্রয়ে রয়েছে। নাতি-নাতনিদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে নওগাঁর পোরশা উপজেলার শীতলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মকিমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে পাশের নীতপুর গ্রামের মশিউর রহমানের মেয়ে মরজিনা খাতুন রুপসির বিয়ে হয়। দরিদ্র এ দম্পতির ছয় সন্তান। ছেলে সন্তানের আশায় একের পর এক চার মেয়ে। পঞ্চমবার ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরপর আরও এক মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। তাদের নিজেদের আধাপাকা ছোট দুই কক্ষের ঘর ছাড়া কোনো সম্পত্তি নেই।

মকিম কৃষিকাজ এবং মরজিনা প্রতিবেশীদের গরুর দুধ দহন ও বিক্রি করে টেনেটুনে কোনো রকম সংসার চলত। এছাড়া প্রতিবেশীরাও বিভিন্নভাবে তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করত। তাদের বাড়ি জেলার প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী শীতলি ডাঙ্গাপাড়ায়।

সবার বড় মেয়ে মাহিয়া আকতার মিমি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে৷ দ্বিতীয় মেয়ে মারিয়া আকতার চতুর্থ শ্রেণি, তৃতীয় মেয়ে শ্রাবনি আক্তার তৃতীয় শ্রেণি ও চতুর্থ মেয়ে জান্নাতুন শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে৷ এছাড়া পাঁচ নম্বর সন্তান রমজান আলীর বয়স ৪ বছর এবং ছয় নম্বর সন্তান জাইদাতুনের বয়স ১১ মাস।

ঘটনার দিন দুপুরে গমের ক্ষেতে কাজ করে স্বামী মকিম খাবারের জন্য বাড়ি আসেন। মকিম ফ্রিজ থেকে একটি ডিম বের করে ভাঙেন। এই ডিম ভাঙাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষোভের বসে মকিম প্রেশার কুকার দিয়ে মরজিনার মাথা ও মুখমন্ডলে আঘাত করেন। এতে রক্তাক্ত জখম হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন মরজিনা। বাচ্চাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে স্থানীয়রা মকিমকে আটক করে গাছে বেঁধে রাখে। পরে থানা পুলিশের কাছে তাকে সোপর্দ করা হয়। ঘটনার পর নিহতের ছয় সন্তান তার বাবা-মার কাছে আশ্রয় নেয়। মায়ের অনুপস্থিতিতে সন্তানদের কান্না যেন আর থামছেই না।

নিহত মরজিনার প্রতিবেশী আলেয়া বেগম বলেন, আব্দুল মকিমের মাথায় একটু সমস্যা আছে। তারপরও সে পরিশ্রম করে। আর মরজিনা খুবই পরিশ্রমী একজন মেয়ে। তার কারণে সংসারটা টিকে ছিল। আমরা প্রতিবেশী সবাই তাদের সহযোগিতা করতাম। মেয়ে সন্তান জন্ম হওয়ার কারণে মরজিনার গালে জখম করেছিল। অনেক চিকিৎসার পর সুস্থ হয়। ছেলে মেয়ে এখন নানার বাড়িতে থাকে। কিন্তু তাদের এখন কী হবে সেটা নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় আছে।

দরিদ্র বৃদ্ধ মশিউর রহমান ও তার স্ত্রী তাদের ছোট ছেলের কাছে থাকা-খাওয়া করেন। তার ওপর আরও ছয় নাতি-নাতনি যোগ হয়েছে। তাদের নিয়ে এখন দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন নানা-নানি।

শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নানি শওকত আরা।

তিনি বলেন- পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। সবাই শিশু। তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি কীভাবে তাদের মানুষ করবো।

নানা মশিউর রহমান বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বয়স হয়েছে। কোনো কাজকাম করতে পারি না। কষ্ট করে বুড়াবুড়ি ছোট ছেলের মধ্যে খাই। কোনো রকম দিন পার হয়। তার ওপর আরও ছয় সদস্য আমার ঘাড়ে চেপেছে। এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি কীভাবে তাদের বড় করবো। সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষ আছেন, তারা যদি একটু সুনজর দিতো নাতি-নাতনিদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করতে পারতাম।

পোরশার নীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, বৃদ্ধ মশিউর রহমান দরিদ্র মানুষ। তারা স্বামী-স্ত্রী ছোট ছেলের মধ্যে থাকে। তার ওপর আরও ছয় শিশুর দায়িত্ব পড়েছে মশিউরের কাঁধে। এটাতো অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা এলে তাদের সহযোগিতা করা হবে। কোনো পরিবারে খুন-জখম হোক এটা কেউ চায় না। এসব বিষয়ে সমাজে আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে।