?> দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বুধবার (২৭ মে) বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।   

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয় এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার এক মহিমান্বিত ও সর্বজনীন আহ্বান।

মহান আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, অবিচল আনুগত্য এবং সামাজিক সাম্যের অনুপম মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা আবারও আমাদের সামনে সমাগত বলে উল্লেখ করে তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হজরত ইবরাহিম (আ:) তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ:)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য, বিশ্বাস ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ হয়ে রয়েছে। এই মহান ঘটনা আমাদের আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।’

কোরবানির হিস্যা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারিত্ব, বৈষম্য হ্রাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কোরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষ জোগানে সাহায্য করে। সার্বিক অর্থে দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করে। 

নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করা এবং কোরবানির বর্জ্য ফেলা, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। 

পবিত্র ঈদুল আজহার মহান শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভেদ নয়, সম্প্রীতি; হিংসা নয়, সৌহার্দ্য; স্বার্থপরতা নয়, উদারতা-এই চেতনা লালন করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাঁধে কাঁধ রেখে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন, দেশ ও জাতির ওপর তাঁর অশেষ রহমত বর্ষণ করুন। ঈদুল আজহা সমগ্র বিশ্বে বয়ে আনুক শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও অশেষ কল্যাণ।’

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছে দেশ। ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন ছুটি ঘোষণা করে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এরপর থাকছে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি।

পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মাঝখানের কর্মদিবস ২২ অক্টোবরও (বৃহস্পতিবার) ছুটি ঘোষণা করায় টানা পাঁচদিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। ২২ অক্টোবর অফিস খোলা ছিল। ওইদিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ফলে এই তিনদিনের পূজার ছুটির পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচদিনের ছুটির উপভোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ছুটি ঘোষণার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসসমূহ খোলা থাকবে।

এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিন ছুটি কাটানো যাবে।
ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন যারা

১) জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

২) হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

৩) চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

৪) জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিস এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

৫) ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

৬) বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান/কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।


দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ

মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে ঢাক-কাঁসরের বাদ্য, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুবাস। শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে আনন্দের জোয়ারে ভেসেছে সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলো। ষষ্ঠীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। বিশুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণ ও দেবী দর্শনে সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে ঢল নেমেছে ভক্তদের।

দেবীর কাছে ভক্তদের আকুল প্রার্থনা- শান্তি, সংহতি, শক্তি ও বিশ্ব কল্যাণের। তবে মহাসপ্তমীর গভীর তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আচারের সীমানায় আবদ্ধ নয়, এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভের বিরুদ্ধে মানবীয় শুভবোধের জাগরণ, প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সাম্য ও সম্প্রীতির সমাজ গঠন।

মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় অঙ্গ ‘নবপত্রিকা’ বা সাধারণ ভাষায় ‘কলাবউ’ স্থাপন। কলাগাছের সঙ্গে কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ একত্রে বেঁধে স্নান করানোর পর নতুন শাড়িতে ভূষিত করে মণ্ডপে স্থাপন করা হয়।

নবপত্রিকার এই নয়টি উদ্ভিদ মূলতঃ ব্রহ্মাণী, কালিকা, উমা থেকে শুরু করে দেবীর নয়টি মহাশক্তির প্রতীক। দুর্গাপূজার মূল কেন্দ্রে দেবী প্রতিমা থাকলেও মহাসপ্তমীতে সরাসরি উদ্ভিদকে পূজার অংশ বানিয়ে মূলত প্রকৃতির প্রতি মানুষের পরম কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করা হয়।

কারণ, এসব উদ্ভিদ মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, কৃষি ও বেঁচে থাকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তবে সচেতন মহলের মতে, কেবল আচার পালনে প্রকৃতি পূজা সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে গাছপালা সংরক্ষণ, জলাশয় দূষণমুক্ত রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হওয়াই নবপত্রিকার আসল বার্তা।

সপ্তমীর অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার হলো দেবীর ‘মহাস্নান’। দর্পণে দেবীমূর্তির প্রতিফলন ঘটিয়ে গঙ্গা জল, দুধ, মধু ও সুগন্ধি উপাচারে দেবীকে স্নান করানো হয়, যা বাহ্যিক ও আত্মিক শুদ্ধতার প্রতীক। এ স্নান মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্যের অধিকার হরণ, অহংকার, বৈষম্য বা হিংসা পুষে রেখে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নীতি-নৈতিকতার পূর্ণতা আসে না। সমাজে দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মাধ্যমেই ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রকৃত সামাজিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

পৌরাণিক কথনে মহিষাসুর বধের ঘটনাটি শুভ ও অশুভ শক্তির চিরন্তন সংঘাত নির্দেশ করে। দেবী দুর্গার দশ হাত ও দশ অস্ত্র মূলত অন্যায়কে প্রতিরোধ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শক্তিকে নির্দেশ করে। দেবীর পাশে থাকা লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ- যথাক্রমে সমৃদ্ধি, জ্ঞান, বীরত্ব ও বুদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করেন।

রূপক অর্থে জ্ঞান ছাড়া সমৃদ্ধি অন্ধ, সাহস ছাড়া ন্যায় অসম্ভব এবং বুদ্ধি ছাড়া শক্তির সঠিক ব্যবহার অসম্ভব।

বাঙালির ঘরোয়া সংস্কৃতিতে দেবীর এই আগমন শুধু ঈশ্বর আরাধনা নয়, বরং পিতৃগৃহে কন্যাসন্তানের ফিরে আসার গভীর পারিবারিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি, প্রতিমাশিল্পী, মৃৎশিল্পী, ঢাকি, আলোকসজ্জাকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের শ্রমে এই উৎসব রূপ নেয় এক বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক মিলনমেলায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মহাসপ্তমীর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা। উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিটি নাগরিক কোনো ধরনের ভয় ছাড়া নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন।

ঢাকিদের ঢাকের বাদ্য একসময় থেমে যাবে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস, প্রকৃতির প্রতি যত্ন এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতা যেন নাগরিক আচরণে সদা জাগ্রত থাকে, এটাই মহাসপ্তমীর মূল অঙ্গীকার।


ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ২০ বছর

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ২০ বছর

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংককে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার ২০ বছর পূর্ণ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর)। ২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এই পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেয়। দারিদ্র্য দূরীকরণে তৃণমূল পর্যায় থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এই স্বীকৃতি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের, বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়নে ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা এবং প্রথাগত আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টিকে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে।

প্রফেসর ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে, আর্থিক সেবা প্রাপ্তি এবং মানুষের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে কীভাবে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।

২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে নোবেল কমিটি স্বীকৃতি দিয়েছিল যে, দারিদ্র্য নিছক একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শান্তি। কোনো ব্যক্তি যখন অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত হন এবং নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ার কোনো সুযোগ পান না, তখন হতাশা ও অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়।

অন্যদিকে, মানুষ যখন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত হন, নিজেদের জীবনের দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পান এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হন, তখন শান্তির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।

২০০৬ সালের ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অসলো সিটি হলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেদিন প্রফেসর ইউনূস তাঁর পদক ও সনদ গ্রহণ করেন এবং নোবেল বক্তৃতা প্রদান করেন। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মোসাম্মৎ তাসলিমা বেগম গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এছাড়া অসলো স্পেকট্রামে নোবেল শান্তি পুরস্কার কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে পারফর্ম করেন- সঙ্গীতশিল্পী লিওনেল রিচি, রিহানা, অপেরা ও জ্যাজ শিল্পী রেনে ফ্লেমিং, অপেরা শিল্পী মনিকা ইউনূস, সংগীতশিল্পী পলিনা রুবিও, হাকিম, ‘সিম্পলি রেড’-এর মিক হাকনাল, ইউসুফ ইসলাম (‘ক্যাট স্টিভেন্স’ নামে পরিচিত) এবং উইনোনা জাড।

কনসার্টটি সঞ্চালনা করেন হলিউড অভিনয়শিল্পী অ্যাঞ্জেলিকা হিউস্টন ও শ্যারন স্টোন। সেদিন মঞ্চে পারফর্ম করেন বাংলাদেশের নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নৃত্যাঞ্চল’ এর শিল্পীরা।

পাঁচ দশক আগে প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বকে বার্তা দিয়েছিলেন, যে পদ্ধতি দরিদ্র মানুষের জীবনকে স্বীকার করে না, সেই পদ্ধতি ভুল। সেটিকে পাল্টে দেওয়া প্রয়োজন। এমন ব্যাংক গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে কোনো জামানত চাওয়া হবে না; যেখানে ব্যাংকিং কাঠামোর ভিত্তি হবে মানুষের পারস্পরিক আস্থা।

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার দুই দশক পর আজও এই দর্শন আরও ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

গ্রামীণের কাজ শুধু ক্ষুদ্রঋণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মানুষের জীবনের প্রয়োজনকে সামনে রেখে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা উদ্যোগ—ভিলেজ ফোনের ‘টেলিফোন লেডি’ গ্রামের মানুষের হাতে যোগাযোগ ও তথ্য পৌঁছে দিয়েছে; গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ প্রত্যন্ত মানুষের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দিয়েছে; ‘গ্রামীণ ক্যালেডোনিয়ান কলেজ অব নার্সিং’ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী গড়ে তুলেছে; গ্রামীণের শিক্ষা উদ্যোগ প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়িয়েছে।

আবাসন, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান—জীবনের বিভিন্ন মৌলিক প্রয়োজনকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল একটি বিষয়ই: মানুষকে শুধু ঋণ দেওয়া নয়, বরং তার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য, সাবলম্বী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সক্ষমতার পরিসর তৈরি করা।

গ্রামীণের দীর্ঘদিনের কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো— মানুষকে সহায়তার পাত্র হিসেবে নয়, নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখতে হবে। গ্রামীণের অর্জন হলো দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়া।

বর্তমানে প্রফেসর ইউনূস বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসার প্রচার ও প্রসারে কাজ করে চলেছেন। মানুষকে মূলত ভোক্তা ও মুনাফা তৈরির উপকরণ হিসেবে নয় বরং মানুষের সৃজনশীল সত্তাকে, কল্পনাশক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে কাজ করে চলেছেন।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান সভ্যতাকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ এবং ‘আত্মবিধ্বংসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিন শূন্যের পৃথিবী (শূন্য নিট কার্বণ নিঃসরণ, দারিদ্র্যের অবসানে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীভবন ও উদ্যোক্তাশক্তির বিকাশের মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব) গড়ার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।