শেয়ার বাজার

চার বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

চার বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল চট্টগ্রাম

চার বছরের এক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, ঘেরাও এবং দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। অভিযুক্ত যুবক মনিকে পুলিশ নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেয় স্থানীয়রা। তারা পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চাইলে বাধে সংঘর্ষ। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটার বিসমিল্লাহ ম্যানশন এলাকায় শত শত স্থানীয় বাসিন্দা বিক্ষোভে অংশ নেন। এসময় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কে যান চলাচল। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ডেকোরেশন দোকানের এক কর্মচারী ৪ বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ওই ভবন ঘিরে রাখে। 

পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ শত শত লোকজন অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করে। ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়লে দুই সংবাদকর্মী সহ কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় জনতা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। 

এদিকে, অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। 

কুমিল্লা অঞ্চলে ঝুলে আছে ৬০ হাজার এনআইডি আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৪

কুমিল্লা অঞ্চলে ঝুলে আছে ৬০ হাজার এনআইডি আবেদন

কুমিল্লা অঞ্চলের জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, মাঠপর্যায় থেকে উঠে আসা প্রতিবেদন অনুযায়ী কুমিল্লা অঞ্চলে ৫৯ হাজার ৬৬৩টি এনআইডি সংশোধনের আবেদন ঝুলে আছে।

এই অঞ্চলের প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন আট হাজার ৭৮৬টি। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজারের মতো আবেদন অনুমোদন হয়েছে।

এদিকে গত আট মাসে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৭৬৪ জন। এদের মধ্যে আবেদন অনুমোদন হয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৩৯৮ জনের।


সিলেটে কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে দাদিকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

সিলেটে কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে দাদিকে হত্যা

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ঘরের দরজা ভেঙে এক কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাধা দিলে তার দাদি ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তাঁর নাম দিলারা বেগম (৫৪)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ওই কিশোরী ও তার মা। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিলারা বেগমের ছেলে মো. আম্বিয়া প্রায় আট বছর ধরে ওমানে থাকেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে থাকেন। গতকাল রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আম্বিয়ার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে মা সাজনা বেগম ও দাদি দিলারা বেগম জেগে ওঠেন। তাঁরা বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দিলারা বেগম ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। কিশোরী ও তার মাকে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত মা-মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


সিলেটের গোয়াইনঘাটে ঘরের দরজা ভেঙে এক কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাধা দিলে তার দাদি ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তাঁর নাম দিলারা বেগম (৫৪)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ওই কিশোরী ও তার মা। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিলারা বেগমের ছেলে মো. আম্বিয়া প্রায় আট বছর ধরে ওমানে থাকেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে থাকেন। গতকাল রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আম্বিয়ার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে মা সাজনা বেগম ও দাদি দিলারা বেগম জেগে ওঠেন। তাঁরা বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দিলারা বেগম ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। কিশোরী ও তার মাকে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত মা-মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আবদুল মতিন বলেন, এর আগেও প্রবাসী আম্বিয়ার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া আম্বিয়ার সঙ্গে এলাকার আরেক ওমানপ্রবাসীর টাকাপয়সা–সংক্রান্ত বিরোধ ছিল।


গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ওমানপ্রবাসী হারুন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে নিহত ওই নারীর ছেলে আম্বিয়ার আর্থিক বিরোধ ছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসও হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হামলার ঘটনায় হারুনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে সিলেটের বিয়ানীবাজারে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে আরেক বন্ধু নিহত হয়েছে। নিহত ও অভিযুক্ত দুজনেই কিশোর। গতকাল সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোর বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে দুই বন্ধু মিলে আম পেড়ে আনে। সন্ধ্যায় আম খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আম খাওয়ার ছুরি দিয়ে একজন আরেকজনকে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই এক কিশোরের মৃত্যু হয়।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, নিহত কিশোরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কিশোরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

বার্তাবেলা ডেস্ক: সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪ (অ্যাক্ট নং ২৬, ১৯৭৪)’ প্রণয়নের ৫০ বছর পূর্তিতে ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আছে তরুণ সমাজ। এরা অত্যন্ত মেধাবী। তাদের পথ দেখালেই বীরদর্পে সামনে এগিয়ে যাবে। আমরা সেটাই চাই।

এসময় বিভিন্ন দেশের যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, শান্তি প্রগতি ও উন্নতির পথ দেখায়, জাতিকে অগ্রগরমান করে, উন্নত জীবন দেয়। আমরা সেজন্য শান্তি চাই। যুদ্ধ চাই না। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সেটি আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যেখানে রেখে গেছেন, বাংলাদেশ সেখানে থমকে গিয়েছিল। আমরা আবার সেখান থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। আমরা চাই, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ, স্মার্ট বাংলাদেশ। আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তুলতে চাই। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াবো। মর্যাদা নিয়ে চলবো। সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে রেখেছি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময়োপযোগী করে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, খনিজ সম্পদসহ সব আমাদের উত্তোলন করতে হবে। কাজে লাগাতে হবে। এজন্য যথাযথ বিনিয়োগও প্রয়োজন। এজন্য আলাপ আলোচনা করছি। আন্তর্জাতিক টেন্ডারও দিয়েছি। আমরা বিশাল সমুদ্রসীমার যথাযথ ব্যবহার করে দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই।

এসময় তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা আসুন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। আমাদের ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই বিনিয়োগ করে আপনারাও লাভবান হবেন।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবো না। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সামর্থ্য থাকতে হবে। ফোর্সেস গোল তৈরি করেছি। সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

সমুদ্র এলাকার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশাল সমুদ্র এলাকায় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে। মাতারবাড়িতে ডিপ সি পোর্ট করেছি। পায়রা সি পোর্ট করছি। এটা থেকে সমুদ্র বেশি দূরে না। এটার একটা ভবিষ্যৎ আছে। আমরা ধীরে ধীরে উন্নতি করছি। তাড়াহুড়া করছি না। ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে নৌবাহিনী কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জাতির পিতা অনুভব করেছেন। আমি এই নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে রূপান্তর করেছি। অনেকে বলে, এটা কী দরকার ছিল। আমরা ছোট দেশ। আমরা কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে অনেক বড়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ সালের পরের সরকার আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিশাল সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি, কোনো রকম উদ্যোগ নেয়নি। আমাদের স্থল সীমানা চুক্তিও জাতির পিতা করে দিয়ে যান। সংবিধান সংশোধন করে সে চুক্তি বাস্তবায়ন করে দিয়ে যান। পরে সেটি আর কার্যকর হয়নি। ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় আসি এবং এ নিয়ে কাজ শুরু করি। এটি করতে হয় গোপনীয়ভাবে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, এই নীতি মেনে চলেছি। পাশাপাশি আমাদের অধিকারটা আদায়েও সচেতন হই। উদ্যোগ নিই।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশাল সমুদ্রসীমা আমাদের আছে। এটি আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখতে পারবে। আজকের দিনের এই সেমিনার আমাদের সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার ও সব সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা এবং সহায়ক ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে। সমুদ্রপথ সবাই ব্যবহার করছে এবং ব্যবসা বাণিজ্য করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সংঘাত হয়নি, শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কখনোই সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ হবে না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব ধারণ করেই আমরা এগিয়ে যাবো।

আনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।