?> বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে রূপে-রঙে সাজ যেমন হবে | AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। AAA News । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।
শেয়ার বাজার

বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে রূপে-রঙে সাজ যেমন হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে রূপে-রঙে সাজ যেমন হবে

বার্তাবেলা ডেস্ক: শীতের শেষ, বসন্ত কড়া নাড়ছে দরজায়। প্রকৃতি সাজতে শুরু করেছে নতুন রূপে। বসন্তকে বরণ করে নিতে ফ্যাশন প্রেমীরাও উন্মুখ। সাজে, পোশাকে বসন্তকে বরণ করে নিতে তাদের যেন আগ্রহের শেষ নেই। আপনিই বা সেই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন কেন। বসন্ত বরণের প্রস্তুতি কম-বেশি সবার মাঝেই থাকে।

বসন্ত ষড়ঋতুর শেষ ঋতু। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস মিলে হয় বসন্ত ঋতু। দেশবাসী বেশ জাকজমকতার সঙ্গে পালন করে বসন্তের প্রথম দিন। রাত পোহালেই বাসন্তি রঙের পোশাক পরে বসন্ত বরণ করবে বাঙালিরা।

গতবারের মতো এবারও ভালোবাসা দিবসের দিনই পালিত হতে চলেছে বসন্ত। এদিন কে কোন পোশাক পরবেন কিংবা কীভাবে সাজবেন এ নিয়ে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সবাই উচ্ছ্বসিত থাকেন। এ যেন এক উৎসব।

বিগত কয়েক বছরে বসন্তের সাজ-ফ্যাশনে বেশ পরিবর্তন এসেছে। আগে হলুদ, কমলা বা বাসন্তি রঙের পোশাকের চাহিদা বেশি ছিল। তবে এখন বাহারি রঙের পোশাকেও বসন্ত বরণ করা হয়।

যার মধ্যে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, টিয়া, সি গ্রিন থেকে শুরু করে মাল্টি কালার কম্বিনেশনও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক এবারের বসন্ত বরণে কেমন হবে আপনার সাজ-পোশাক-

১. বসন্ত বরণের পোশাক হিসেবে শাড়িকেই বেশি প্রাধান্য দেন নারীরা। তবে এবার শাড়ির পাশাপাশি ফ্যাশনে আরও আছে কুর্তি, স্কার্ট, সারারা, এমনকি জিনস-টপসও। আপনি পছন্দসই পোশাক পরতে পারেন। একরঙা শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ না মিললেও সমস্যা নেই।

২. ফুলের গয়না পরতে চাইলে শাড়ির সঙ্গে ভারী কোনো জুয়েলারি পরবেন না। গলায়, হাতে ও কানে গয়না হিসেবে পছন্দমতো যে কোনো ফুলই ব্যবহার করতে পারেন।

বর্তমানে ফুলের হেডব্যান্ডেরও চল বেড়েছে। এটি পরতে পারেন। হালকা ধাঁচের নকশার পোশাকের সঙ্গে ফুলের গয়না পরলে ফুলের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তবে কেউ কেউ চাইলে একটু ভারী নকশার শাড়ির সঙ্গে ফুল দিয়ে হালকাভাবেও সাজতে পারেন।

৩. এদিন শাড়ির সঙ্গে খোঁপা বা বেণী বেশ মানিয়ে যায়। খোঁপায় রাখতে পারেন গাঁদা ফুল। সঙ্গে লাল টিপ দিন কপালে। রঙিন ফুলের সাজে পাবেন বসন্তের আমেজ। চুল খোলা রাখলেও এক পাশে ফুল দিতে পারেন। চুলের জন্য বড় আকারের ফুল বেছে নিলে একটিই যথেষ্ট।

গয়নাও রাখুন হালকা ধাঁচের। আর ছোট আকারের হলে অবশ্য একাধিক ফুল নিতে পারেন। চুলের বেণীতে ফুল জড়ানো যেতে পারে নানাভাবে। ফুলের মালা কিংবা আটকে নিতে পারেন নানা আকারের ছোট-বড় ফুল। বেণীও সাজাতে পারেন ফুল দিয়ে।

আরও পড়ুন: প্রিয়জনকে চুমু দিলে কী কী হয় জানলে অবাক হবেন

৪. মেকআপের ক্ষেত্রে আবহাওয়া দেখে নিন। সাজে ন্যুড রং, বাদামি, লাল, মেরুন, গেরুয়া ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। চোখের সাজে আনতে পারেন সবুজের ছোঁয়া। আর দিনের মেকআপে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

৫. দু’হাত ভর্তি করে বিভিন্ন রঙের কিংবা একরঙা কাচের চুরি পরুন। শুধু শাড়ি নয় বরং সালোয়ার কামিজ, সারারা কিংবা কুর্তির সঙ্গে কাচের চুরি বেশ মানিয়ে যায়।


ঠোঁট ফাটা গুরুতর রোগের লক্ষণ নয় তো?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

ঠোঁট ফাটা গুরুতর রোগের লক্ষণ নয় তো?

শীত আসতেই শুরু হয়েছে ত্বক ও ঠোঁট ফাটা। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়, আর এ কারণে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক। এর থেকে ত্বক, ঠোঁট, হাত-পা ফাটতেও শুরু করে অতিরিক্ত শুষ্কতায়। বিশেষ করে ঠোঁট বারবার শুকিয়ে যাওয়া ও ফাটার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। তবে এটি শুধু শীতের শুষ্কতার কারণেই ঘটে না, ডায়াবেটিসেরও লক্ষণ হতে পারে ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বড়েই চলছে। প্রতি বছর লাখ লাখ রোগী আক্রান্ত হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি এ ব্যাধিতে। ডায়াবেটিসের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। গ্লুকোজের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রায বেড়ে ওঠায় রক্তপ্রবাহে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়।

ডায়াবেটিসের সাধারণ কয়েকটি লক্ষণ সবাই কমবেশি জানলেও তা এড়িয়ে যান। ডায়াবেটিস হলে অত্যধিক ক্ষুধা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস হলে মুখে ৪টি সতর্কতা লক্ষণ প্রকাশ পায়। মুখের স্বাস্থ্য বলে দেয় শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রাসহ সামগ্রিক অসুস্থতা সম্পর্কে। ঠিক তেমনই ডায়াবেটিস হলে ঠোঁট ফাটাসহ মুখে কয়েকটি সতর্কতার লক্ষণ প্রকাশ পায়। জেনে নিন সেগুলো-

শুকনো মুখ

টাইপ ১ বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণ ও প্রাথমিক লক্ষণগুলোর শুকনো বা শুষ্ক মুখ অন্যতম। সবসময় মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে এক্ষেত্রে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে রোগীর মুখের লালা উৎপাদন কমে যায়। শুষ্ক মুখের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে- রুক্ষ বা শুকনো জিহ্বা, মুখে আর্দ্রতার অভাব, ঠোঁট ফেটে যাওয়া, মুখে ফোলাভাব, খাবার গিলতে বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি।

ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া

শীতে আর্দ্রতার অভাবে এমনিতেই ঠোঁট ফেটে শুকিয়ে যায়। এটি কিন্তু ডায়াবেটিসের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিসের কারণে সকালের দিকে বেশি শুকিয়ে যায় ঠোঁট। একই সঙ্গে প্রচণ্ড পানি পিপাসাও পায়। এই লক্ষণ দেখেলে দ্রুত ডায়াবেটিস পরক্ষা করান।

মাড়ির রোগ

শুধু শুষ্ক মুখ নয়, পাশাপাশি দাঁতের চারপাশে এবং মাড়ির নিচে লালা উৎপাদনকেও প্রভাবিত করে রক্তে শর্করার মাত্রা। শরীরে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে জীবাণুর সংক্রমণ বেড়ে যায়। ফলে মাড়ির চারপাশে জ্বালা করে। এমনকি মাড়ির রোগ, দাঁত ক্ষয়ও হতে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে মাড়ির রোগ বেশি দেখা যায়।

মাড়ির রোগ হওয়া রক্তের শর্করার মাত্রা আরও খারাপ হওয়ার অবস্থার ইঙ্গিত। মাড়ির রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে- লাল, ফোলা, কালশিটে বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, দাঁত আলগা হওয়া, খাবারে কামড় বা চিবানোর সময় কষ্ট হওয়া, মুখের দুর্গন্ধ বা খারাপ স্বাদ ইত্যাদি।

মাড়ির রোগ হওয়ার কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাড়ির চারপাশে প্লাক গঠনের ফলে দাঁত আলগা হতে শুরু করে। ফলে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগীরা দাঁতের সমস্যায় বেশি ভোগেন। দাঁত নষ্ট হওয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো- মাড়ির চারপাশ ফুলে যাওয়া, ঘা ও দাঁতের ব্যথা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করুন : টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৩

প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করুন : টিআইবি

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ হলেও ‘‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’’- এ সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ও লেমিনেটেড প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ না হওয়ায় ফলে ‘‘প্লাস্টিক দূষণ’’ অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে প্লাস্টিকের বেআইনি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার রোধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(ক) ধারা সংশোধন, দূষণ-কর আরোপ এবং প্লাস্টিক দূষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের জবাবদিহির লক্ষ্যে পরিবেশ আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছে সংস্থাটি।

বৈশ্বিক মোট প্লাস্টিক দূষণের ২.৪৭ শতাংশ বাংলাদেশে হয়ে থাকে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন করা হলেও, কার্যকর প্রয়োগের অভাবে প্লাস্টিক থেকে পরিবেশ দূষণ শুধু অব্যাহতই নয় বরং উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি-ই পেয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্যসহ ব্যাপকভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের অন্যতম দূষিত নদীতে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক দূষণের কারণে আমাদের বাস্তুতন্ত্র ও ভূমির ব্যাপক দূষণ ঘটায় গাছপালা ও অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। এ ছাড়া জৈব রাসায়নিক সারে প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকায়, তা কৃষিকাজে ব্যবহারের ফলে স্থায়ীভাবে মাটি দূষিত হচ্ছে।’

পরিবেশ দূষণ রোধে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ, এনভায়রনমেন্টাল পারফরমেন্স ইনডেক্স (ইপিআই)-২০২২ এর এই তথ্য উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, ‘প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার হ্রাস এবং প্লাস্টিক বর্জ্যরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্লাস্টিক দূষণসংক্রান্ত বিধিমালা অবিলম্বে প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও সীমিত করাসহ প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক বিকল্প এবং বায়েডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক উৎপাদনে প্রণোদনা ও উৎসাহ প্রদানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিকের বেআইনি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার রোধে দূষণ-কর প্রয়োগসহ আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংস্কার করে শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি ও তার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় বিশ্ব ব্যাংক প্রণীত একটি অ্যাকশন প্ল্যান নীতিগতভাবে গ্রহণের পাশাপাশি জেলা কার্যালয় ও প্রতিষ্ঠানসমূহে ‘‘সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক’’ ব্যবহার বর্জনের যে নির্দেশনা প্রদান করেছে, তা যেন শুধু ‘‘কাগজে-কলমে’’ সীমাবদ্ধ না থাকে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি। একইসঙ্গে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের অর্থবহ সচেতনতা ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ রোধে ব্যবহৃত তহবিলসহ সার্বিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, আইন ভঙ্গকারী এবং প্লাস্টিক দূষণের সঙ্গে জড়িত ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য টিআইবি জোর দাবি জানাচ্ছে।


সাইকেল চালান, অজান্তেই কমছে শুক্রাণু!

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬

সাইকেল চালান, অজান্তেই কমছে শুক্রাণু!

নিয়মিত সাইকেল চালানোর রয়েছে নানা উপকার। হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পেশির শক্তি বাড়ানো এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে সাইক্লিং। দৌড়ানোর তুলনায় জয়েন্টের ওপর চাপও কম পড়ে। তবে দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালালে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইক্লিং করলেই বন্ধ্যত্ব দেখা দেয়—এমন প্রমাণ নেই। স্বাভাবিক বা মাঝারি মাত্রায় সাইকেল চালানোর কারণে পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়, এমনটিও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সাইকেল চালানো এবং অতিরিক্ত কঠিন প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

কতক্ষণ সাইকেল চালালে সমস্যা হতে পারে?


ফার্টিলিটি বা প্রজননক্ষমতা ভালো রাখতে সাইক্লিং পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সাধারণ সিটে দীর্ঘক্ষণ বসে সাইকেল চালালে কিংবা একটানা কয়েক ঘণ্টা তীব্র ব্যায়াম করলে প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

কিছু গবেষণায় সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি সাইকেল চালানো পুরুষদের শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। তবে এসব গবেষণার ফল থেকে সরাসরি বলা যায় না যে দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালালেই শুক্রাণুর মান খারাপ হবে। বয়স, জীবনযাপন, শরীরচর্চার ধরন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

সাইকেলের সিটে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে?


দীর্ঘক্ষণ সাইকেলের সিটে বসে থাকলে দুই পায়ের মাঝের অংশ, অর্থাৎ পেরিনিয়ামে চাপ পড়তে পারে। সিটের ধরন, বসার ভঙ্গি ও সাইকেল চালানোর সময়ের ওপর নির্ভর করে এ চাপের মাত্রা বাড়তে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ সাইক্লিংয়ের সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অণ্ডকোষের আশপাশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকলে শুক্রাণু উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভুলভাবে সিটে বসলে পেরিনিয়ামের স্নায়ু ও রক্তনালির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে সাময়িক অসাড়তা, ঝিনঝিন অনুভূতি বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তবে এসব সমস্যা হলেই শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণমান কমে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

প্রভাব বুঝতে কত সময় লাগে?


শুক্রাণু তৈরি ও পরিণত হতে সাধারণত প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তাই জীবনযাপনে কোনো পরিবর্তনের প্রভাব বীর্যের গুণমানে দেখা দিতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

কিছু গবেষণায় দীর্ঘক্ষণ সাইক্লিংয়ের সঙ্গে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রজননস্বাস্থ্যের কিছু সূচকের পরিবর্তনের সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে এসব সম্পর্ক থেকে সাইক্লিং সরাসরি বন্ধ্যত্বের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

তাহলে কি সাইকেল চালানো বন্ধ করতে হবে?


না। বরং নিয়মিত ও পরিমিত সাইক্লিং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালানোর অভ্যাস থাকলে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা যেতে পারে।

    শরীরের সঙ্গে মানানসই সিট ব্যবহার করতে হবে, যাতে পেরিনিয়ামে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
    একটানা দীর্ঘক্ষণ সিটে বসে না থেকে মাঝেমধ্যে বিরতি নিতে হবে।
    প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুক্ষণ প্যাডেল থেকে বিরতি নিয়ে দাঁড়ানো যেতে পারে।
    সাইকেল চালানোর সময় অসাড়তা, ব্যথা বা অস্বস্তি হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।

 
যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য কেমন ব্যায়াম ভালো?


প্রজননস্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক সুস্থতার জন্য সাধারণত নিয়মিত ও মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম উপকারী। সপ্তাহে প্রায় ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম অনেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য স্বাস্থ্যগতভাবে উপকারী বলে বিবেচিত হয়। তবে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রাণুর মান নিয়ে উদ্বেগ থাকলে শুধু সাইক্লিংকে দায়ী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে বীর্য পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, সাইকেল চালানোর কারণে পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তবে দীর্ঘক্ষণ সাইক্লিং করলে সিটের ধরন, বসার ভঙ্গি ও বিরতির বিষয়ে সচেতন থাকা ভালো।