শেয়ার বাজার

আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি: অর্থমন্ত্রী

দেশের আর্থিক খাতে আস্থা পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আর্থিক খাতের সুশাসন ও আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সামিট-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 
‘ট্রাস্টওয়ার্দি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং: হোয়াট রিয়েলি ম্যাটারস’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। সহযোগিতায় ছিল ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইক্যাব) ও ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)।


আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থাগুলোর অনেকগুলোই প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ফলে অডিট, আর্থিক প্রতিবেদন ও নজরদারি কাঠামোয় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসনে দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতি এখন এক ধরনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
অর্থমন্ত্রী ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে আর্থিক শৃঙ্খলার ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে প্রবেশ করেছে। এতে প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী ও ভালো কোম্পানিগুলো ন্যায্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হয়েছে।


সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন ও বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান দুর্বলতার কারণে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তিনি খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার এবং ব্যাংকের মালিক ও ব্যবস্থাপকদের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাগুলোকেও এ সংকটের জন্য দায়ী করেন।


আমির খসরু বলেন, আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে পরিচালিত হলেও দেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলোকে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের স্বার্থের সংঘাত দূর করে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
পেশাগত দায়িত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি আইক্যাব ও আইসিএমএবির সদস্যদের মধ্যে কঠোর স্ব-নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 
তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার মূল দায়িত্ব হিসাববিদদেরই নিতে হবে।


অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, একসময় একটি বেসরকারি খাতের সংগঠনের কাছে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল এবং তা সফলও হয়েছিল। এতে প্রমাণ হয়, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে স্ব-নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হতে পারে।
চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেপি মরগান চেজসহ লন্ডন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি বড় বিনিয়োগ কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুসরণ না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে না। বিনিয়োগকারীরা যদি দেখেন যে আর্থিক প্রতিবেদন মানসম্মত নয়, তাহলে সেখানেই সব শেষ।


অর্থমন্ত্রী স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের বাইরে গিয়ে টেকসই ও পেশাদার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। সম্মেলনে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হিসাববিদ, নিরীক্ষক, মূল্য নির্ধারক, অ্যাকচুয়ারি ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আর্থিক বিবরণীর মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বহিরাগত নিরীক্ষা ও অ্যাসিউরেন্স কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

বাজেটে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

বাজেটে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো: প্রধানমন্ত্রী

বাজেটে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সামনের বাজেটে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো। চলমান বাজেটে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বাজেট সেজন্য এখানে কোনো টাকা বরাদ্দ ছিল না।
শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুরে খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই না, পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই; যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে। এমনকি দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবো। এর ফলে খালের দুই পাশে যারা থাকে, তারাও পানির সুবিধা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা স্বাবলম্বী হলে এই দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে মজবুত হবে। আর দেশের অর্থনীতি মজবুত হলে এই দেশের মানুষের অর্থনীতি মজবুত হবে।


পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে সৌরশক্তি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতীক সংসদে এ কার্যক্রম প্রমাণ করে নেতৃত্ব কেবল নীতিতে নয়, কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়। জলবায়ুর কষাঘাতে জর্জরিত বাংলাদেশ, তাই পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিকল্প নেই।

রোববার (২৪ মে) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের ছাদে এই সৌরশক্তি ব্যবস্থা উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সেজন্য টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয়, বরং এটি অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ। সৌরশক্তি সেই সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল দিক। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি অভিযাত্রায় অংশ নেয়, তবে খুব দ্রুত বাংলাদেশ একটি সবুজ এবং টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেন, বিরোধী দল এখন মানা করলেও শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তারা আসবেই। 

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বাড়ছে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, অনিরাপত্তায় চৌদ্দগ্রামবাসী

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বাড়ছে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, অনিরাপত্তায় চৌদ্দগ্রামবাসী

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক আইনজীবীসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

গত শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এক নারীর বাড়িতে মাদক ও অনৈতিক কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে পাশের কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের মিয়াধন তার কৃষি জমি দেখা শেষে ওই বাড়িতে গেলে সোনাপুর গ্রামের যুবকরা বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ব্যাপক মারধর করে। মিয়াধনকে মারধরের খবর পেয়ে মাসকরা গ্রামে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে সোনাপুরের যুবকদের ওপর আক্রমণ করে। এতে সোনাপুর গ্রামের যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মাসুম আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়।


এ ঘটনার জেরে আহত জাহিদুল ইসলাম মাসুমের বন্ধু উপজেলার ডলবা গ্রামের মোহাম্মদ রুবেল, মো. রানা ও ছাতিয়ানী গ্রামের ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সোনাপুর, ডলবা, বসকরা, ছাতিয়ানী ও শ্রীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের ৬০-৭০ জন অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য পাটানন্দী গ্রাম হয়ে মাসকরায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো গ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ছয়টি দোকানসহ অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। বেশ কয়েকটি খড়ের স্তূপে অগ্নিসংযোগ করা হয়। লুটপাট করা হয় স্বর্ণালংকার, হাঁস-মুরগি ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র।

এ সময় তাদের হামলায় কুমিল্লা বারের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে মাসকরা গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে তাদের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষটি রাত পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া সহোদর ভাই রুবেল ও রানা চৌদ্দগ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার। রুবেল ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নাশকতার অভিযোগে গ্রেফতার হয়। অপর ভাই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

এছাড়াও সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে সহোদর দুই ভাই স্থানীয় একতা বাজারে আইনজীবীর চেম্বার ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত দ্রুত বিচারের মামলারও আসামি। শনিবার বিকেল মাসকরা গ্রামে হামলার পর রুবেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে হামলাকারী রুবেলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছি। এর আগে আগুনে ঘর ও খড়ের ছিন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন বলেন, সোনাপুর ও মাসকরার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় একাধিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ বিষয়ে রোববার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।