ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ওয়ার্ম-আপের সময় ভেঙে গিয়েছিল হাতের আঙুল। তীব্র যন্ত্রণা থাকা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়েননি, বরং ভাঙা আঙুল নিয়েই পুরো ৯০ মিনিট খেললেন। শুধু খেলাই নয়, দলকে এনে দিলেন এক ঐতিহাসিক ইউরোপীয় ট্রফি! তিনি আর কেউ নন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (দিবু)। খবর বিবিসি'র।
বুধবার (২০ মে) রাতে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালে জার্মানির ক্লাব ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর কোনো ইউরোপীয় ট্রফি এবং ৩০ বছর পর বড় কোনো মেজর ট্রফি জয়ের খরা কাটাল উনাই এমেরির দল।
খেলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ইস্তাম্বুলের মাঠে ওয়ার্ম-আপ করার সময় আঙুলে চোট পান ৩৩ বছর বয়সী মার্টিনেজ। ফিজিও এসে প্রাথমিক পরীক্ষা করার পর বুঝতে পারেন আঙুল ভেঙে গেছে। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পাত্র নন এই আর্জেন্টাইন বাজপাখি। ম্যাচ শেষে নিজের চোট নিয়ে মার্টিনেজ বলেন, আজ ওয়ার্ম-আপের সময়ই আমার আঙুলটা ভেঙে যায়। তবে আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি খারাপ পরিস্থিতির পেছনেই ভালো কিছু লুকিয়ে থাকে। আমি সারা জীবন এভাবেই লড়াই করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।
চোটের তীব্রতা কেমন ছিল তা জানাতে গিয়ে হাসিমুখে এই গোলরক্ষক বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু আছে কি না জানি না, কারণ এর আগে আমার কখনো আঙুল ভাঙেনি। আজ ম্যাচ চলাকালীন যতবারই আমি বল গ্লাভসবন্দি করতে যাচ্ছিলাম, আঙুলের কারণে বল অন্য দিকে চলে যাচ্ছিল। তবে ভিলার হয়ে এই জার্সি ডিফেন্ড করতে পেরে আমি গর্বিত।
ম্যাচে ভিলার রক্ষণভাগ এতটাই শক্ত ছিল যে মার্টিনেজকে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়নি, তবে ভাঙা আঙুল নিয়েই দুটি দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। দলের হয়ে গোল তিনটি করেন ইউরি তিলেমানস, এমি বুয়েন্দিয়া এবং মরগান রজার্স। ম্যাচ শেষে আনন্দের আতিশয্যে ভাঙা আঙুল নিয়েই গ্যালারিতে ভিলা সমর্থকদের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়েন মার্টিনেজ এবং কোচ উনাই এমেরিকে কাঁধে তুলে নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ তার ক্যারিয়ারের এক অনন্য ও অবিশ্বাস্য রেকর্ড ধরে রাখলেন। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো ফাইনাল ম্যাচ খেলেছেন, তার প্রতিটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে আর্সেনালের হয়ে এফএ কাপ, আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং এবার অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ।
ভিলার এই উদযাপনের মাঝেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আর্জেন্টিনা শিবিরের। আগামী মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে দলের প্রধান গোলরক্ষকের এই আঙুল ভাঙার চোট কতটা গুরুতর, তা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন আলবিসেলেস্তেরা। তবে মার্টিনেজের অদম্য মানসিকতা আশা জোগাচ্ছে ভক্তদের।








