শেয়ার বাজার

ভাঙা আঙুল নিয়েও অ্যাস্টন ভিলার জয়ের সারথি এমি মার্টিনেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ভাঙা আঙুল নিয়েও অ্যাস্টন ভিলার জয়ের সারথি এমি মার্টিনেজ

ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ওয়ার্ম-আপের সময় ভেঙে গিয়েছিল হাতের আঙুল। তীব্র যন্ত্রণা থাকা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়েননি, বরং ভাঙা আঙুল নিয়েই পুরো ৯০ মিনিট খেললেন। শুধু খেলাই নয়, দলকে এনে দিলেন এক ঐতিহাসিক ইউরোপীয় ট্রফি! তিনি আর কেউ নন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (দিবু)। খবর বিবিসি'র। 

বুধবার (২০ মে) রাতে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালে জার্মানির ক্লাব ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর কোনো ইউরোপীয় ট্রফি এবং ৩০ বছর পর বড় কোনো মেজর ট্রফি জয়ের খরা কাটাল উনাই এমেরির দল।

খেলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ইস্তাম্বুলের মাঠে ওয়ার্ম-আপ করার সময় আঙুলে চোট পান ৩৩ বছর বয়সী মার্টিনেজ। ফিজিও এসে প্রাথমিক পরীক্ষা করার পর বুঝতে পারেন আঙুল ভেঙে গেছে। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পাত্র নন এই আর্জেন্টাইন বাজপাখি। ম্যাচ শেষে নিজের চোট নিয়ে মার্টিনেজ বলেন, আজ ওয়ার্ম-আপের সময়ই আমার আঙুলটা ভেঙে যায়। তবে আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি খারাপ পরিস্থিতির পেছনেই ভালো কিছু লুকিয়ে থাকে। আমি সারা জীবন এভাবেই লড়াই করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।

চোটের তীব্রতা কেমন ছিল তা জানাতে গিয়ে হাসিমুখে এই গোলরক্ষক বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু আছে কি না জানি না, কারণ এর আগে আমার কখনো আঙুল ভাঙেনি। আজ ম্যাচ চলাকালীন যতবারই আমি বল গ্লাভসবন্দি করতে যাচ্ছিলাম, আঙুলের কারণে বল অন্য দিকে চলে যাচ্ছিল। তবে ভিলার হয়ে এই জার্সি ডিফেন্ড করতে পেরে আমি গর্বিত।

ম্যাচে ভিলার রক্ষণভাগ এতটাই শক্ত ছিল যে মার্টিনেজকে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়নি, তবে ভাঙা আঙুল নিয়েই দুটি দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। দলের হয়ে গোল তিনটি করেন ইউরি তিলেমানস, এমি বুয়েন্দিয়া এবং মরগান রজার্স। ম্যাচ শেষে আনন্দের আতিশয্যে ভাঙা আঙুল নিয়েই গ্যালারিতে ভিলা সমর্থকদের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়েন মার্টিনেজ এবং কোচ উনাই এমেরিকে কাঁধে তুলে নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ তার ক্যারিয়ারের এক অনন্য ও অবিশ্বাস্য রেকর্ড ধরে রাখলেন। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো ফাইনাল ম্যাচ খেলেছেন, তার প্রতিটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে আর্সেনালের হয়ে এফএ কাপ, আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং এবার অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ।

ভিলার এই উদযাপনের মাঝেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আর্জেন্টিনা শিবিরের। আগামী মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে দলের প্রধান গোলরক্ষকের এই আঙুল ভাঙার চোট কতটা গুরুতর, তা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন আলবিসেলেস্তেরা। তবে মার্টিনেজের অদম্য মানসিকতা আশা জোগাচ্ছে ভক্তদের।

বিশ্বকাপের আগে মেসির চোট, দুশ্চিন্তায় আর্জেন্টিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬

বিশ্বকাপের আগে মেসির চোট, দুশ্চিন্তায় আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের আগে ক্লাবের জার্সিতে এটাই ছিল লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। কিন্তু আজ ভোরে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচেই চোট পেয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বাঁ পায়ের অস্বস্তি নিয়ে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়েন মেসি। বিশ্বকাপ শুরুর সপ্তাহ দুয়েক আগে মেসির এমন চোটে দুশ্চিন্তায় পড়েছে আর্জেন্টিনা।

ন্যু স্টেডিয়ামে এমএলএসের ম্যাচে মায়ামি অবশ্য ৬-৪ ব্যবধানের বড় জয় পেয়েছে। মাঠ ছাড়ার আগে দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন মেসি। কিন্তু মায়ামির বড় জয় কিংবা মেসির জোড়া অ্যাসিস্ট ছাপিয়ে আলোচনায় মেসির চোট।

ম্যাচের ৭০ মিনিটে মেসিকে নিজের বাঁ ঊরুর ওপরের অংশে হাত দিতে দেখা যায়। এরপরই তিনি বদলির আবেদন করেন। পরে মেসির বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মাতেও সিলভেত্তি। মাঠ ছাড়ার পর মেসি সাইডবেঞ্চে না গিয়ে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান। অবশ্য এ সময় একা একাই গিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তাঁর অতিরিক্ত কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়নি।

২০২৬ বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কখনো সরাসরি জবাব দেননি মেসি। সবকিছু নির্ভর করছিল মেসির ফিটনেসের ওপর। এর আগে গত অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছিলেন, ‘আমি অবশ্যই সেখানে (বিশ্বকাপে) থাকতে চাই। যদি জাতীয় দলকে সাহায্য করার মতো অবস্থায় থাকি এবং নিজেকে ভালো অনুভব করি, তাহলে খেলতে চাই। আগামী বছর ইন্টার মায়ামির প্রাক-মৌসুম শুরু হলে প্রতিদিন নিজের অবস্থা যাচাই করব, দেখব আমি সত্যিই শতভাগ ফিট কি না।’

সেই থেকে চোট এড়িয়ে চললেও বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন চোট মেসির বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। এদিকে আগামী ১ জুন ফিফার কাছে চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল জমা দেওয়ার কথা। মেসির চোট কতটা গুরুতর, সেটার ওপর বিশ্বকাপে মেসির খেলা কিংবা না খেলা নির্ভর করছে।

গতকাল প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ছিলেন মেসি। মায়ামির প্রথম তিনটি গোলেই অবদান রাখেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে প্রবল বৃষ্টিতে মাঠ খুব পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। দুদলের ফুটবলাররাই বারবার পিছলে যাচ্ছিলেন।

ম্যাচের ৬২ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ার বক্সের ঠিক বাইরে পিছলে পড়েন মেসি। তবে সে যাত্রায় দ্রুত উঠে আবার স্বাভাবিকভাবে খেলতে থাকেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর ঠিক কয়েক মিনিট পরেই বদলির আবেদন করেন মেসি।

মেসির চোট ঠিক কতটা গুরুতর, সেটা এখনো জানা যায়নি। মাংসপেশির অস্বস্তির কারণ জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। মেসিকে ঠিক কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে, সেটাও আগে ভাবে বলা যাচ্ছে না।

ম্যাচ শেষে মায়ামি কোচ গুইয়ের্মো হয়োস জানিয়েছেন, মেসি মূলত ক্লান্ত ছিলেন। বৃষ্টিভেজা মাঠও পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছিল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো মেডিক্যাল রিপোর্ট পাইনি। তবে ও (মেসি) সত্যিই ক্লান্ত ছিল। মাঠ ভারী হয়ে গিয়েছিল। তাই ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো মনে হয়েছে।’ তবে মায়ামি কোচ এটাও জানিয়েছেন, ম্যাচের পর মেসির সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি।

অবশ্য এমন পরিস্থিতি আগেও সামলেছেন মেসি। চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ইন্টার মায়ামি জানিয়েছিল, ইকুয়েডরে বার্সেলোনা এসসির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ায় অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। পরে ইন্দিপেনদিয়েন্তে দেল ভায়ের বিপক্ষে ম্যাচও পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে মাত্র এক সপ্তাহ পরই মাঠে ফিরেছিলেন মেসি।


শাকিরার 'দাই দাই' থিম সংয়ে মেসিরা বললেন, 'উই আর রেডি'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬

শাকিরার 'দাই দাই' থিম সংয়ে মেসিরা বললেন, 'উই আর রেডি'

ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা বাড়িয়ে দিতে মুক্তি পেল অফিসিয়াল থিম সং 'দাই দাই' এর মিউজিক ভিডিও। কলম্বিয়ান পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা এবং আফ্রিকান গায়ক বার্না বয়ের এই যৌথ ট্র্যাকটি শনিবার (২৩ মে) বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করা হয়েছে। চার মিনিটের এই জমকালো মিউজিক ভিডিওতে লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বিশ্বকাপজয়ী তারকাদের উপস্থিতি ফুটবল ও সঙ্গীতপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

হ্যানা লাক্স ডেভিস পরিচালিত এবং মিয়ামিতে চিত্রায়িত এই ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায় ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তিন তারকা লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ড মাঠে প্রবেশ করছেন। শাকিরার সুরের মূর্ছনায় মেতে ওঠার আগে তারা প্রত্যেকেই একসাথে বলে ওঠেন— "উই আর রেডি" (আমরা প্রস্তুত)।

ভিডিওর শুরুতে শাকিরাকে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক 'অ্যাঞ্জেল অব ইন্ডিপেন্ডেন্স' স্মৃতিস্তম্ভের চূড়ায় দেখা যায়। এরপর একটি মরুভূমির পটভূমিতে আফ্রিকান শিশুদের সাথে তার চিরচেনা সিগনেচার ড্যান্স স্টেপ নজর কেড়েছে সবার। গানের একপর্যায়ে শাকিরা একটি বিশাল প্রদীপ্ত গ্লোব বা পৃথিবীর ওপর দাঁড়িয়ে পারফর্ম করেন, যেখানে তার চারপাশে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া দেশগুলোর পতাকা পরিহিত নারী নৃত্যশিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফুটবল কিংবদন্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং 'ওয়াকা ওয়াকা'র স্মৃতি

ভিডিওর শেষ অংশে বিশ্বকাপের পুরোনো কিছু ঐতিহাসিক মুহূর্তের আর্কাইভ ক্লিপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একই সাথে শাকিরা গানের মাধ্যমে ফুটবলের মহানায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা, পাওলো মালদিনি, রোমারিও, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ডেভিড বেকহ্যাম, কাকা এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া এবারের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর পাশাপাশি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নামও গানে উচ্চারণ করা হয়েছে।

ফাইনালের মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা, ম্যাডোনা ও বিটিএস

আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও আসতেকাতে পর্দা উঠবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে (টুর্নামেন্ট চলাকালীন নাম 'নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম') ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই মহাযজ্ঞের।

বিলবোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালের ফাইনাল হাফটাইম শোতে সহ-অভিনেতা বা হেডলাইনার হিসেবে পারফর্ম করবেন শাকিরা। আর সেই মেগা মঞ্চে তার সাথে যোগ দেবেন পপ কুইন ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ান বিশ্বখ্যাত বয়ব্যান্ড বিটিএস।


যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ঘেঁষে মেক্সিকোতে ক্যাম্প করছে ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ঘেঁষে মেক্সিকোতে ক্যাম্প করছে ইরান

চলতি বছরের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক নাটকীয় ও চতুর কৌশল অবলম্বন করেছে ইরান দল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট ভিসা জটিলতা এড়াতে তারা মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানাতে নিজেদের বিশ্বকাপ বেজ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইরানের এই অনুরোধে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এর আগে দলটির ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যে হওয়ার কথা ছিল।

শনিবার ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমরা তিহুয়ানা ক্যাম্পে অবস্থান করব, যা প্রশান্ত মহাসাগরের কাছাকাছি এবং মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের একদম সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত।

মেহেদী তাজ স্পষ্ট করে জানান, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর আমেরিকার ভিসা পাওয়া নিয়ে যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এড়াতেই এই ক্যাম্প পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। এর ফলে ইরান দল সরাসরি 'ইরান এয়ার'-এর ফ্লাইটে মেক্সিকোতে অবতরণ করতে পারবে।

ইরান গ্রুপ ‘জি’-তে খেলবে। তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে, ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ২১ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে তারা মুখোমুখি হবে মিশরের।

মেহেদী তাজ দাবি করেন, ক্যাম্প পরিবর্তন করার ফলে উল্টো তাদের ভ্রমণ সময় কমে গেছে। তিহুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচ ভেন্যুর দূরত্ব বিমানে মাত্র ৫৫ মিনিটের। ফলে আগের নির্ধারিত অ্যারিজোনা ক্যাম্পের চেয়েও মেক্সিকোর এই সীমান্ত শহরটি তাদের ভেন্যুগুলোর অনেক বেশি কাছাকাছি হবে।

বিশ্বকাপের মতো এত বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়ার আগে গত কয়েক মাস ধরে ইরান দলকে ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গিয়ে খেলতে হবে বিধায় ইরান ফুটবল ফেডারেশন আগেই তাদের ম্যাচগুলো আমেরিকার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয় তারা।

টুর্নামেন্ট শুরু হতে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও চলতি মাস পর্যন্ত ইরানের খেলোয়াড় ও স্টাফদের কাউকেই মার্কিন ভিসা দেওয়া হয়নি। তুরস্কের প্রাক-টুর্নামেন্ট প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অবস্থানকালে ইরানি বহর ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ফিফার কাছে তাদের খেলোয়াড় ও প্রতিনিধি দলের ভিসা, সার্বিক নিরাপত্তা এবং যথাযথ আচরণের বিষয়ে বিশেষ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।

আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত রণক্ষেত্রে নামার আগে আগামী ২৯ মে গাম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইরান। এরপর ১ জুনের ফিফা ডেডলাইনের মধ্যেই কোচ আমির গালেনোইকে তাঁর চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করতে হবে। রাজনৈতিক বৈরিতা এবং যুদ্ধের আবহকে পাশ কাটিয়ে মেক্সিকো সীমান্তে ইরানের এই 'ঘরোয়া চাল' শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে তাদের কতটা স্বস্তি দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।