শেয়ার বাজার

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘ জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। '

হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে  প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান,  বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার সহ সরকারি ঊধর্তন কর্মকর্তাগণ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন , 'প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সকাল ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।'

প্রায় আট ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে বিমানটি তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের ট্রানজিট শেষে ফ্লাইটটি দুপুর ২টা ১০ মিনিটে (তুরস্ক সময়) নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবে এবং নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’-এ নিয়ে যাওয়া হবে। 

সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।

এর আগে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কর্তৃক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে আয়োজিত এক স্বাগত প্রাতরাশসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে তিনি অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে একটি প্রাতরাশসভায় মতবিনিময় করবেন। পরবর্তীতে তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা' বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন।

এছাড়া তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত 'জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়ঙ্গত উত্তরণ'  শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই দিনে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, জলবায়ু সংক্রান্ত বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী একটি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন, যেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্টি হওয়া অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন।

একই দিনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা সংক্রান্ত আরেকটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। এতে তিনি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন এবং দক্ষ ও পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত ধাত্রী সেবার গুরুত্বের ওপর জোর দেবেন।

অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট,  জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১:০০ টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ইকেটুজিরোটু যোগে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

তদবির শিখতে ইনস্টিটিউট খোলার কথা বললেন এমপি শাহাজাদা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

তদবির শিখতে ইনস্টিটিউট খোলার কথা বললেন এমপি শাহাজাদা

বার্তাবেলা ডেস্ক: রাস্তাঘাটসহ এলাকার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিয়ে এবং সংসদে বক্তব্য দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালী-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহাজাদা। এমন অভিযোগ করে তিনি তদবির শিখতে ইনস্টিটিউট খোলার কথা বলেছেন।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে শাহাজাদা বলেন, আমরা সংসদে কথা বলি। আমাকে ৭ মিনিট সময় দিয়েছেন। এজন্য লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। আমরা কথা বলি, কথাগুলোর বাস্তবায়ন হওয়ার প্রয়োজন। তা না হলে শুধু কথা বলবো এলাকার লোকজন ফেসবুকে দেখবেন এটা তো! আমরা যে কথাগুলো বলি এটার যদি প্রয়োজনীয়তা থাকে তাহলে তা বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। বাস্তবায়নে আমরা মন্ত্রণালয়ে ডিও দেই। সংসদে কথা বলি। এছাড়া তো বাকি কোনো জায়গা নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বৈষম্য দেখি। আমরা দেখি কোনো না কোনো আসনে বিস্তর কাজ হয়। অনেক রাস্তা যায়। সেখানকার জনগণ ভোট দেয়। সেখানকার জনগণের ভোট একটি, আমার এলাকার জনগণেরও ভোট একটি। এরপরও আমরা অনেক সময় বৈষম্যের শিকার হই। এই বৈষম্য থেকে আমার নির্বাচনী এলাকা মুক্তি পাবে এই প্রার্থনা করি। না হলে জানতে চাই- ডিও লেটার দিয়ে কীভাবে তদবির করতে হয়। এই তদবির করার জন্য কোনো ইনস্টিটিউট খুলতে হবে। সেখানে গিয়ে আমরা তদবির শিখবো এবং তদবির করে কাজ নেবো।

শাহাজাদার এ বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান। তিনি আরও বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা গলাচিপার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে রোগীর গায়ে পলেস্তারা খসে খসে পড়ে। ফ্যান খুলে চিকিৎসকরা আহত হন।


অধ্যাদেশ জারি
ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল

ভূমি ও কৃষিজমি অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে 'ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬' জারি করা হয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় এ অধ্যাদেশ প্রযোজ্য হবে না।

যে অপরাধে যে শাস্তি

অধ্যাদেশে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো ভূমির জোন পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড পেতে হবে।

অনুমোদন ছাড়া কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে বাণিজ্যিক আবাসন, রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা বা অনুরূপ স্থাপনা কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ইটভাটায় বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য কৃষিভূমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল), পাহাড় ও টিলা অথবা জলাধারের পাড়ের মাটি ক্রয়, বিক্রয়, অপসারণ, পরিবহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

বিশেষ কৃষি অঞ্চলের ভূমির ক্ষতিসাধন, ভূমিরূপ পরিবর্তন বা কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া যাবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

জলাধার, জলাভূমি, পাহাড় ও টিলা এবং বন ও বনভূমির ক্ষতিসাধন ও ভূমিরূপ পরিবর্তনের অপরাধগুলোকে অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের একই প্রকৃতির অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের বিধান অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্তভাবে ক্ষতিপূরণ আদায়, ভূমির প্রকৃতি পুনঃস্থাপন, অবৈধভাবে ভরাট করা মাটি ও স্থাপনা অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।

ভূমিকে ১৮টি জোনে ভাগ করে হবে জোনিং ম্যাপ

সরকার কৃষিভূমি সুরক্ষা এবং ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে সারাদেশে ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ প্রণয়ন করবে। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মৌজা, দাগ বা নির্দিষ্ট সীমারেখা অনুযায়ী জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে এ–সংক্রান্ত একটি ডাটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে অধ্যাদেশে।

জোনিং ম্যাপ একযোগে পুরো দেশের জন্য বা প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে প্রণয়ন করা যাবে। ম্যাপ তৈরির সময় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও পরীক্ষার ফল বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ভূমিকে ১৮টি জোনে ভাগ করে এ ভূমি জোনিং ম্যাপ করা হবে। জোনগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষি অঞ্চল, বিশেষ কৃষি অঞ্চল, কৃষি-মৎস্য চাষ অঞ্চল, নদী ও খাল অঞ্চল, জলাশয়, জলাধার ও জলাভূমি অঞ্চল, পরিবহন ও যোগাযোগ অঞ্চল, শহুরে আবাসিক অঞ্চল, গ্রামীণ বসতি অঞ্চল, মিশ্র ব্যবহার অঞ্চল, বাণিজ্যিক অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল, প্রাতিষ্ঠানিক ও নাগরিক সুবিধা অঞ্চল, বন ও রক্ষিত এলাকা অঞ্চল, প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা বা প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা, সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্য অঞ্চল, পাহাড় ও টিলা অঞ্চল, পতিত ভূমি অঞ্চল এবং অন্যান্য অঞ্চল।

খসড়া জোনিং ম্যাপ প্রস্তুত হলে জনসাধারণের মতামত জানার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ডেটা সংরক্ষণের ওয়েবলিংক উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে তা প্রকাশ করা হবে। বিধি অনুযায়ী ফি দিয়ে যে কেউ খসড়া ম্যাপের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি এসব কার্যালয়ে খসড়া ম্যাপ জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যে কেউ খসড়া ম্যাপের বিষয়ে লিখিত আপত্তি বা মতামত জেলা প্রশাসকের কাছে দিতে পারবেন। এসব আপত্তি বা মতামত নিষ্পত্তির জন্য জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হবে। জেলা কমিটি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিবেদন নেবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শুনানি করবে এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেবে।

জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করা যাবে। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপিল নিষ্পত্তি করবে এবং সে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত জোনিং ম্যাপ প্রকাশ করবে।

সরকার স্পারসোর সহায়তায় ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জোনিং ম্যাপের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করবে এবং প্রতি ১০ বছর অন্তর ম্যাপ হালনাগাদ করবে। জোনিংয়ের পর স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে এবং জোনিং ম্যাপের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হবে। এ কাজে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ, ভূমি ব্যবহার বিশেষজ্ঞ, আইটি, জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ, কৃষি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞ, আইন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে অধ্যাদেশে।

খসড়া জোনিং ম্যাপের আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি গঠন করা হবে। 

কৃষিভূমি সুরক্ষা

অধ্যাদেশে বলা হয়, জোনিংয়ের ভিত্তিতে কৃষিভূমি সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ কৃষি অঞ্চল ঘোষণা করা যেতে পারে। এসব অঞ্চলে ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন বা অকৃষি কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ কৃষি অঞ্চল না হলেও দুই বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তিন বা ততোধিক ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ থাকবে এবং এক ও দুই ফসলি জমিতেও ধাপে ধাপে তামাক চাষ সীমিত করা হবে।

জাতীয় প্রয়োজনে জ্বালানি, খনিজ বা প্রত্নসম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ প্রভাব নিরূপণের শর্তে সীমিত পরিমাণ কৃষিভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে আগে অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত জমি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং মোট কৃষিভূমির ১০ শতাংশের বেশি অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

কৃষিভূমি, পাহাড়, টিলা বা জলাধারের উপরিভাগের মাটি ক্রয়-বিক্রয়, অপসারণ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে জলাধার বা জলাভূমি ভরাট, পাহাড় কাটা কিংবা প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করা যাবে না। এসব কাজে জড়িত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে বা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে।

সরকার উপকূলীয় ও সাগরসংলগ্ন ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিধি অনুযায়ী কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা যাবে। কোনো ভূমির রেকর্ডীয় শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

কৃষিভূমিতে আবাসন-অবকাঠামো নির্মাণ

সরকারি বা বেসরকারি সব প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ অধ্যাদেশের বিধান মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 

অধ্যাদেশে বলা হয়, নির্ধারিত অনুমতি সাপেক্ষে কেউ নিজস্ব কৃষিভূমিতে বসতবাড়ি, উপাসনালয়, কবরস্থান, গুদামঘর, পারিবারিক পুকুর বা কুটির শিল্প স্থাপন করতে পারবেন। অনুমতির শর্ত ভঙ্গ হলে তা বাতিল করা যাবে। অনুমতি ছাড়া কৃষিভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ করলে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হবে।

কৃষিভূমি, পাহাড়, টিলা, জলাধার ও জলাভূমি ছাড়া অন্য জমির জোন পরিবর্তন বা জোনিং বহির্ভূত ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, পরিবেশ ও এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।


চৌদ্দগ্রামে তরুণ রাজনীতিবীদের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে দোয়া ও ইফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৪

চৌদ্দগ্রামে তরুণ রাজনীতিবীদের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে দোয়া ও ইফতার

এম এ  আলম (চৌদ্দগ্রাম) প্রতিনিধি: প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মুহসিনুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও আল মক্কা ট্রাভেলসের স্বত্তাধিকারী মুফতি মোঃ খোরশেদ আলমের উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানে দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (০৩ এপ্রিল) বিকেলে অফবিট রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা করেন মুফতি মোঃ খোরশেদ আলম। দৈনিক যায়যায়নি পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ বেলাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান মিয়াজী, এই চ্যারিটি সোসাইটির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ আকতারুজ্জামান, সাপ্তাহিক চৌদ্দগ্রাম পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ এমদাদ উল্যাহ, দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আবু বকর সুজন, দৈনিক কালেরকণ্ঠের প্রতিনিধি আবুল বাশার রানা। 

অন্যান্যেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আল মক্কা ট্রাভেলস মুন্সিরহাট শাখার পরিচালক সামছুল আলম, বার্তাবলো.কম এবং দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের প্রতিনিধি এম এ আলম, এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি কামাল হোসেন নয়ন, আনন্দ টিভির প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মিনু, দৈনিক দেশ রুপান্তরের প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন, দৈনিক সকালের সময়ের প্রতিনিধি মুহা. ফখরুদ্দিন ইমন, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মোঃ শাহীন আলম, কুমিল্লার টিভির প্রতিনিধি আনিসুর রহমান, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি গোলাম রসুল, দৈনিক গণজাগরণের প্রতিনিধি সফিউল রানা, দৈনিক গণমুক্তির প্রতিনিধি খোরশেদ আলম। 

অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রামের প্রয়াত সাংবাদিক ও কবরবাসী সকল বাবা-মায়ের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামী ঐক্যজোট চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা মোবারক করিম। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের উৎসাহ প্রদানে মুফতি খোরশেদ আলমের মতো অন্যান্য রাজনীতিবীদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান সাংবাদিকবৃন্দ। এরআগে মুফতি মোঃ খোরশেদ আলম সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদের পোষাক বিতরণ করেন।