শেয়ার বাজার

আজ শয়তানকে 'পাথর' নিক্ষেপ করবেন হাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আজ শয়তানকে 'পাথর' নিক্ষেপ করবেন হাজিরা

গত সোমবার শুরু হয়েছে পবিত্র হজ। এরপর মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাত ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি হাজি। 

আজ ১০ জিলহজ, বুধবার। ফজরের নামাজ পড়ার পর হাজিরা মুজদালিফা ত্যাগ করে মিনার দিকে রওনা হন। সেখানে তারা জামারাত আল-আকাবায় বড় শয়তানকে প্রথম পাথর নিক্ষেপ করেন।

১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ—এই তিন দিন ধরে হাজিরা জামারাতের তিনটি স্তম্ভেই (আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করেন। 

শয়তানের প্রতীকী তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা পাথরগুলো ব্যবহার করবেন হাজিরা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থাকলেও এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লক্ষাধিক মুসল্লি হজ পালন করতে এসেছেন। 

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ। 

এবারের হজ মৌসুমে, পবিত্র নগরী মক্কায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তাই সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের বেশি বেশি পানি পান এবং রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। 

সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে কোরবানি হচ্ছে না 'ডোনাল্ড ট্রাম্প'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে কোরবানি হচ্ছে না 'ডোনাল্ড ট্রাম্প'

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য বিক্রি হওয়া অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে আবারও ফেরত যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের খামারে। 

বুধবার (২৭ মে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যমুনা টেলিভিশনকে এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় কেরানীগঞ্জের ক্রেতাকে মূল্য ফেরত দিয়ে মহিষটি খামারে ফেরত নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানেই মহিষটি লালন-পালন করা হবে।

এর আগে, অ্যালবিনো জাতের এ মহিষটির চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ট্রাম্প। 

অদ্ভুত নামের জন্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এই বিরল অ্যালবিনো জাতের মহিষটি। তবে, ভাইরাল হওয়ার আগেই ৭০০ কেজি ওজনের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন রাজধানীর জিনজিরা এলাকার ক্রেতা সামির। 

এরপর মহিষটিকে দেখতে শিশু-কিশোরর যুবকরাই নন, অনেক নারীরাও এসেছিলেন। বরিশাল, কুমিল্লাসহ দূরবর্তী জেলা থেকেও এসেছিল। অনেকে কিনতে না পেরে হতাশাও ব্যক্ত করেন সেসময়।

এমনকি, আন্তর্জাতিকভাবেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। এএফপি থেকে রয়টার্স প্রায় সকল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেই জায়গা পেয়েছে এই ভাইরাল মহিষটি। 


আল্লাহর দরবারে কোরবানির গোশত ও রক্ত কিছুই পৌঁছায় না
আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া

পৃথিবী বহু দেশে আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। তবে, বাংলাদেশে ঈদ আগামীকাল। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত সেই কাহিনী সকল মুসলিম উম্মতের জন্য শিক্ষণীয়। মহান আল্লাহ তায়লা হযরত ইব্রাহীম (আ.)-কে ৮৬ বছর বয়সে দ্বিতীয়া স্ত্রী হাজেরার গর্ভে দান করেন তার প্রথম সন্তান ইসমাঈল (আ.)।

তবে, এই পুত্র দান করার পর ইব্রাহীম (আ.)-কে এক কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেন মহান আল্লাহ তায়লা। স্বপ্নে দেখান তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কোরবানি করতে। একজন বাবার কাছে বৃদ্ধ বয়সে তার একমাত্র সন্তানই সবচেয়ে বেশি প্রিয় ও মূল্যবান। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়ে ছেলেকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে যান কোরবানি করতে। পুত্র ইসমাইল (আ.)-ও ছিলেন একজন আদর্শ সন্তান। বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে এতোটুকু দ্বিধা করেননি তিনি। অবশেষে, কোরবানির মুহূর্তে ইসমাইল (আ.)-এর জায়গায় মহান আল্লাহ পাঠিয়ে দিয়েন একটি দুম্বা। সুরা সাফফাতের ১০৩ ও ১০৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন,

‘অবশেষে যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আল্লাহর কাছে নিজেদেরকে সোপর্দ করল এবং ইব্রাহিম তার পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন জবেহ করার জন্য। আমি তাকে (ইসমাইল) মুক্ত করলাম এক কোরবানির বিনিময়ে।'

পিতা-পুত্রের এ আত্মত্যাগ আল্লাহর দরবারে এতটাই গ্রহণযোগ্য হয়েছিল যে, আল্লাহতায়ালা পরবর্তী সব উম্মতের মধ্যে তা স্মরণীয়-বরণীয় করে রাখলেন। কুরআনে বলা হয়েছে, 'আর আমরা ভবিষ্যতের উম্মতের মধ্যে ইব্রাহিমের (আ.) এই সুন্নাতকে স্মরণীয় করে রাখলাম। (সুরা সাফ্ফাত, আয়াত-১০৮)।

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে, মনের পশুত্বকে জবাই করা। মহিমান্বিত এই ইবাদতটি আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হওয়ার অন্যতম শর্তই হচ্ছে তাকওয়া বা একনিষ্ঠতা। 

যার বর্ণনা পবিত্র কালামে এসেছে এভাবে, 'আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের ঘটনাটি ঠিকভাবে শুনিয়ে দিন তা হচ্ছে এই যে, যখন তারা দুজনে কোরবানি পেশ করল তখন তাদের একজনের কোরবানি কবুল হলো, অন্যজনের কোরবানি কবুল হল না। তখন সে তার ভাইকে বলল, অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব। সে উত্তরে বললো, আল্লাহ তো মুত্তাকিনদের কোরবানিই কবুল করেন (সূরা মায়িদা, আয়াত-২৭ ও ২৮)।’

কোরবানি গ্রহণ হওয়ার মূল উপাদান তাকওয়া বা খোদাভিরুতা। কুরআনে এরশাদ করেছেন, 'আল্লাহর দরবারে কোরবানির গোশত ও রক্ত কোনো কিছুই পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া' (সূরা হজ, আয়াত-৩৭)।

আল্লাহ আমাদের কোরবানি বিষয়ক কাজগুলো একনিষ্ঠভাবে সম্পূর্ণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।